চীনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২২ জনে। এ ঘটনায় আরও ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২০) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চীনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়া প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে দেশটির কোথাও প্রবল বৃষ্টিপাত, আবার কোথাও তীব্র দাবদাহ পরিস্থিতি তৈরী হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএন জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চীনের কয়েকটি এলাকায় ‘রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত’ হয়েছে। এই টানা বৃষ্টিপাতের কারণে স্কুল ও কর্মস্থল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রাণ তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, মধ্যাঞ্চলীয় দুর্গম হুনান প্রদেশে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে ও আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগের দিন সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রদেশটির একটি কাউন্টিতে ভারী বৃষ্টিতে ৬১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার সিনহুয়া জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংশি অঞ্চলে শনিবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাক উত্তাল নদী পার হওয়ার সময় পানিতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রথম মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয় রবিবার। পাশের গুইঝৌ প্রদেশেও ভারী বৃষ্টিতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও উত্তরে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় তিন জন মারা গেছেন ও চার জন নিখোঁজ হয়েছেন। এতে কিছু স্থাপনা ধসে পড়েছে ও কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি অঞ্চলের জন্য মঙ্গলবার ১২ কোটি ইউয়ান বা ১ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের দুর্যোগ ত্রাণ তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া গুইঝৌ প্রদেশের জন্য আরও ৩ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের বরাতে সিনহুয়া জানায়, প্রদেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
এএফপির হিসেব অনুযায়ী, হুনান, গুইঝৌ ও হুবেইয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে অন্তত ২৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও এ অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সূত্র: এএফপি
নাঈম/