ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙ্গে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত! ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
Nagad desktop

ইরান যুদ্ধ শুরু করতে উদগ্রীব ইসরায়েল

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
ইরান যুদ্ধ শুরু করতে উদগ্রীব ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। শান্তিচুক্তি না হলে তারা আবার বোমা হামলা শুরুর যে হুমকি দিয়েছিল, তা থেকে সরে আসতে শুরু করেছে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও যুদ্ধ শুরুর জন্য উদগ্রীব বলে খবর এসেছে।

ডানপন্থি ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-এর উপস্থাপক শিমন রিকলিন তেহরানে নতুন হামলার কথিত গোপন পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন। তিনি ইরানের একটি ইউরেনিয়াম সংরক্ষণাগারের অবস্থানও উল্লেখ করেন, যা হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সদস্যরা রিকলিনের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। পরে রিকলিন দাবি করেন, তার বক্তব্য ছিল পুরোপুরি কাল্পনিক। তবুও ইসরায়েল যে আবার সংঘাত শুরু করতে আগ্রহী, এ বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া তারা তা করতে পারবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আর সেই অনুমতি দ্রুত মিলবে বলেও মনে হচ্ছে না।

ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের উদ্বেগ উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপের খবর প্রকাশের পর নেতানিয়াহু নাকি ভীষণ চাপে পড়েন।

চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা নিয়ে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক হামলার পরও তেহরানের সরকার এখনো টিকে আছে।

আঞ্চলিক দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তেহরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের কমে গেছে।
 
ইরানভীতি

নেতানিয়াহুর জন্য ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি জনগণকে দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাই এ যুদ্ধবিরতি তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। 

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট যুদ্ধবিরতিকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। লাপিদ এই যুদ্ধবিরতিকে ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। অনেকের মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গি ইসরায়েলি জনগণের মনোভাবের সঙ্গেও মিলে যায়।

মে মাসের শুরুতে ইসরায়েল ডেমোক্র্যাসি ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ ইসরায়েলি মনে করেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা দেশের নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে। একই সঙ্গে অনেকে মনে করেন, আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাগাই রাম আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলি জনগণ ও রাজনৈতিক শ্রেণি বহুদিন ধরে ইরানকে নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে দেখে এসেছে।

ইরানভীতি নিয়ে লেখা তার বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে রাম বলেন, ইসরায়েলিদের এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যেন যুদ্ধ অনিবার্য। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অনেক মানুষকে তিনি দেখেছেন, যারা পরিস্থিতিকে খুব স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন।

তার ভাষায়, ‘তাদের কাছে এটা একদম স্বাভাবিক ছিল যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে হলে বা তাদের দৃষ্টিতে ‘ইরানের জনগণকে মুক্ত করতে’ হলে জীবন থামিয়ে রাখাও মেনে নিতে হবে।’ রামের মতে, অনেক ইসরায়েলির কাছে এখন মূল প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহু কীভাবে ইরানকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করবেন।
 
রাজনৈতিক জাদু

ইসরায়েলে অনেকেই নেতানিয়াহুকে এমন এক নেতা হিসেবে দেখেন, যিনি রাজনৈতিক নিয়মকানুন অতিক্রম করতে পারেন। ২০২২ সালে একাধিক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনে জয়ী হন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিরাপত্তা ব্যর্থতা থেকেও তিনি নিজেকে অনেকটা দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এমনকি ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামাতে প্রভাবিত করার কৃতিত্বও অনেকে তাকে দেন, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেন।

সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ও নিউইয়র্কে কনসাল জেনারেল অ্যালন পিঙ্কাস আল জাজিরাকে বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি, যেখানে ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা ছিল না, এ দুটি বিষয় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাবনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এগুলোই তাকে আবার সামরিক অভিযান শুরু করতে উৎসাহিত করতে পারে।

পিঙ্কাস বলেন, ‘আমার ধারণা, নেতানিয়াহু যুদ্ধ আবার শুরু করতে চান তিনটি কারণে। প্রথমত, তিনি ৭ অক্টোবরের ঘটনা থেকে মনোযোগ সরাতে চান। এ জন্য তার বড় কোনো কৌশলগত বিজয় দরকার, যা গাজা বা লেবাননে তিনি পাচ্ছেন না। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ শেষ হয়নি। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই বলবে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েল তেমন কিছু অর্জন করতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তৃতীয়ত, জনমত জরিপ দেখলেই বোঝা যায়, বছরের শেষে নির্বাচনে যাওয়ার আগে ইরান ইস্যুতে একটি বিজয় তার প্রয়োজন। ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, যার কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের হামলা–এসব সম্ভবত নেতানিয়াহু যুদ্ধ শুরুর সময় কল্পনাও করেননি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের ব্যর্থতাগুলো আগামী সাধারণ নির্বাচনে বড় বিতর্কের বিষয় হতে পারে। নির্বাচন হওয়ার কথা আগস্টে।’
 
ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির কয়েক সপ্তাহ পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবুজ সংকেত দিলেই ইসরায়েল ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত। এতে আবারও স্পষ্ট হয়, ইসরায়েলি সরকার সংঘাত পুনরায় শুরু করতে কতটা আগ্রহী।

সাবেক ইসরায়েলি সরকারি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইসরায়েলের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা ক্ষতি মেনে নিয়ে সরে যেতে চান। আবার নেতানিয়াহু এবং মূলধারার অনেক রাজনীতিক আছেন, যারা উল্টো আরও এগোতে চান এবং ইরানের উপকূলে জড়ো করা মার্কিন অস্ত্রশক্তি ব্যবহার করে দেশটিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে চান।’

তবে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ক্ষমতারও সীমা আছে। লেভির ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন বলবে যুদ্ধ থামবে, তখনই তা থামবে।’ আর ট্রাম্পও গত মঙ্গলবারের ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমি যা চাইব, সে তাই করবে।’ সূত্র: আল জাজিরা

পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি
স্যাটেলাইট চিত্র ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান থেকে নিজেদের পরমাণু জ্বালানি রক্ষা করতে চরম পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ইরান তাদের বোমা তৈরির উপযোগী প্রায় আধা টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন আস্তানাগুলো সিলগালা করে দিয়েছে। এর জন্য তারা পরমাণু সুড়ঙ্গগুলো ইচ্ছাকৃত ধসিয়ে দিয়েছে এবং প্রবেশপথে শক্তিশালী বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রেখেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইঙ্গিত দেন যে, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারেন, ঠিক তার পর থেকেই ইরান এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করে।

চুক্তির বাস্তবায়নে নতুন জটিলতা

বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তার একটি অন্যতম শর্ত হলো ইরানকে তাদের এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে, যা পরে ধ্বংস করে ফেলা হবে। কিন্তু ইরানের নতুন এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই ইউরেনিয়াম বের করে আনা এখন অত্যন্ত কঠিন, বিপজ্জনক এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখন এই সুরঙ্গ থেকে ইউরেনিয়াম বের করতে হলে ভারী খননকাজ এবং মাইন নিষ্ক্রিয়করণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হবে। এর ফলে ইরান চুক্তির ফাঁকফোকর গলে দাবি করতে পারে যে, তাদের কিছু ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অসম্ভব। এতে তেহরান গোপনে কিছু পরমাণু জ্বালানি নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্পের অবস্থান

আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ইরানের এই ইউরেনিয়ামের সিংহভাগই দেশটির ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে রয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী এটি জব্দ করার জন্য একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিলেও পরে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, ইউরেনিয়াম যেখানেই থাকুক, মার্কিন গোয়েন্দারা তার ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই ইউরেনিয়াম জব্দের হুমকি দেওয়ায় ইরান নিজেদের পরমাণু সম্পদ আরও সুরক্ষিত করার সুযোগ পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত চুক্তি সই হলেও এই ইউরেনিয়াম নিরাপদে বের করে আনা এখন দুই দেশের জন্যই বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/অমিয়/

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএইবি)।

আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে একটি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনে বিমানটি আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জনসহ মোট ২৬০ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় ও ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। একমাত্র জীবিত উদ্ধার হন যুক্তরাজ্যের লেস্টার শহরের বাসিন্দা বিশ্বাস কুমার রমেশ।

দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে এএইবি জানায়, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিমানটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্য, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ নথি এবং পরিচালনাগত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণের বিশ্লেষণ এখনো চলমান থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

গত বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ড পর বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ হঠাৎ ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে যায়। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে বিমানটি শক্তি হারায়।

ককপিটের অডিও রেকর্ডিংয়ে  শোনা যায় এক পাইলটকে অন্যজনকে জিজ্ঞেস করতে ‘তুমি এটা কেন করলে?’ জবাবে অন্য পাইলট বলেন, ‘আমি করিনি’। তবে তদন্তকারীরা কার কণ্ঠ ছিল তা প্রকাশ করেননি।

পরে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়ালের দিকে সন্দেহের ইঙ্গিত দেওয়া হলে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এ বিষয়ে তার বাবা পুষ্কর রাজ বলেন, প্রমাণ ছাড়া তার ছেলেকে দায়ী করা হচ্ছে। তিনি ছেলের সুনাম রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এএইবি জানায়, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সব তথ্য সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। সূত্র: বিবিসি 

খাদিজা রুমি/অমিয়/

ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত!

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫১ এএম
ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত!
ছবি: প্রতীকী

ইরানের ধারাবাহিক হামলা থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের প্রায় ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিল ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত আলোচনার মাঝেই নতুন এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপুল অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।

গত সপ্তাহে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা আবুধাবিতে গিয়ে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে গোপন বৈঠক করার পরই এই প্রক্রিয়ায় গতি আসে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র প্রতিবাদ

তবে রয়টার্সের এই রিপোর্ট প্রকাশের পর তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানায়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইরানের তহবিল ছেড়ে দেওয়া বা তিন বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের যে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে। আমিরাতের মাধ্যমে কোনো ইরানি তহবিল স্থানান্তর বা মুক্ত করা হয়নি।

তারা গণমাধ্যমগুলোকে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব না ছড়িয়ে অফিসিয়াল সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানায়।

কৌশলগত অবস্থান

বিশ্লেষকরা বলেন, একদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান- শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো টাকা ছাড়বে না। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

যদি রয়টার্সের দাবি সত্যি হয়, তবে এটি হতে পারে দুই পক্ষের জন্য একটি ‘মাঝামাঝি প‘’- যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বলতে পারবে, তারা কোনো টাকা দেয়নি, আর ইরান দাবি করতে পারবে তারা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে। আর এর মাধ্যমে দুবাই ও আবুধাবি নিজেদের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে। সূত্র: আল জাজিরা

তামান্না রুপা/অমিয়/

শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’ 

শুক্রবার (১২জুন) ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে- যুদ্ধ থামানোর একটি খসড়া চুক্তিতে তারা একমত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক স্বাক্ষর হতে পারে।

একদিকে হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জোর গুঞ্জন- দুই মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চরম নাটকীয়তা চলছে।

ইরান বলছে ‘আমরাই বিজয়ী’, অন্যদিকে আমেরিকার দাবি ভিন্ন।

চুক্তিটিতে এখনো কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধের ফলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

তবে এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রবিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা (সংগৃহীত )

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গতকাল শুক্রবার শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের এসব পদক্ষেপ দেশকে ‘দেউলিয়াত্বের দিকে’ ঠেলে দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রতি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা তার অন্যতম প্রধান কর্মসূচি বিনামূল্যের খাবার বিতরণ প্রকল্প বাতিলেরও আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে।

শিক্ষার্থীরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানান। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। কয়েক মাস ধরে সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় এই বিক্ষোভ হয়। দেশটির মুদ্রা রুপিয়ার মানও সম্প্রতি নতুন সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আর আমাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পাচ্ছেন? বলা হয়, সংবিধান বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আজ আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না।’

বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিখ্যাত হোটেল ইন্দোনেশিয়া মোড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ঢাল নিয়ে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পরে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও লাথি মারার ঘটনাও ঘটে। কিছু বস্তু আকাশে ছুড়ে মারতেও দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীরা ‘মেনুজু ইন্দোনেশিয়া বাংক্রুট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া ইন্দোনেশিয়ার পথে’।

গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভেরও এক বছরের কম সময়ের মধ্যে এই নতুন আন্দোলন শুরু হলো। সে সময় এক পণ্যবাহী মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্য ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জনরোষ ছড়িয়ে পড়েছিল। সূত্র: বিবিসি