কিশোরগঞ্জে হর্টিকালচার সেন্টারে বাবুর্চিকে বলাৎকার ও নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক মাহবুবুর রহমান (৪৫) ও উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র বিশ্বাসের (৪২) নামে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
গত ২১ জুলাই কিশোরগঞ্জের ১ নম্বর আমলগ্রহণকারী আদালতে এই দুই কর্মকর্তাকে আসামি করে নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন ২৮ বছর বয়সি ভুক্তভোগী যুবক।
আদালতের বিচারক মাহমুদুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী ঐ যুবক ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল থেকে কিশোরগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে বাবুর্চি পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে ডরমিটরির দ্বিতীয় তলায় খাবার দিতে যান ঐ যুবক। টেবিলে খাবার রাখার পর শরীর ব্যথা করছে বলে তাকে মেসেজ করে দিতে বলেন উপ-পরিচালক মাহবুবুর রহমান। শরীর মেসেজের এক পর্যায়ে ঐ কর্মকর্তা জোর করে তাকে বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ যুবকের। এ ছাড়া ডান হাতের কব্জির উপর কামড়ে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় ভুক্তভোগী কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে বলা হয় বিষয়টি কারও কাছে বললে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং খুন করা হবে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও কু-প্রস্তাব এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র বিশ্বাস অনেক আগে থেকেই বিভিন্নভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। রাজি না হওয়ার বেশ কয়েকবার মারধরের শিকার হয়েছেন।’
তিনি জানান, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লোহা আগুনে পুড়িয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে লাগিয়ে দেয় বিপ্লব। পরে হাসপাতালে যেতে না দিয়ে ঠাণ্ডা পানি ও ডিম ভেঙে জখম স্থানে লাগিয়ে ব্যথা এবং জ্বালা কমানোর চেষ্টা করেন বিপ্লব। পরে এ ঘটনার চারদিন পরে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ আরও বলা হয়, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক হর্টিকালচার সেন্টারের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র বিশ্বাস প্রায় এক যুগ ধরে একই অফিসে কর্মরত থাকায় এখানে তার একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপ-পরিচালকও তার কাছে জিম্মি। তিনি কাউকে পরোয়া করেন না।
কর্মচারীরা জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গেও তার যোগসূত্র রয়েছে। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেন তিনি। হর্টিকালচার সেন্টারের বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে মারধর এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগালির অভিযোগও রয়েছে বিপ্লবের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তরা বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কিশোরগঞ্জের হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মাহবুবুর রহমান। এদিকে হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা বিপ্লব চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি ঐ বাবুর্চীকে জনস্বার্থে বদলির আদেশের পরেই তিনি তাদের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে এমন মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।’
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু তাহের হারুন বলেন, ‘বাদীকে দীর্ঘদিন ধরে পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে যে মামলাটি করা হয়েছে সেটি তদন্তাধীন। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে এটি জামিন অযোগ্য অপরাধ।’
এ অপরাধের শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সশ্রম অথবা বিনাশ্রম কারাদণ্ড। নূন্যতম ১০ বছর এবং তার সঙ্গে অর্থদণ্ডও হতে পারে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলম মামলার বিষয়টি অবগত আছেন উল্লেখ করে জানান, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাসলিমা/পপি/