নেদারল্যান্ডস বরাবরই ফুটবল বিশ্বের এক মহাশক্তি। তিনবারের রানার্সআপ ডাচরা ফাইনাল খেলেছে ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে। গত কাতার বিশ্বকাপেও উঠে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। টাইব্রেকারে মেসিদের কাছে হেরে হৃদয় ভাঙার বেদনা সঙ্গী হয় তাদের। ইতালির মতো দল যেখানে ছিটকে গেছে, সেখানে ইউরোপ অঞ্চলের কঠিন বাছাইয়ে একটি ম্যাচও হারেনি নেদারল্যান্ডস।
‘জি’ গ্রুপের ৮ ম্যাচের ৬টিতে জয় এবং বাকি দুটোয় ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে তারা। ৮ ম্যাচে গোল ২৫টি। হজম করে মাত্র ২টি। এই ফর্মটাকে বিশ্বকাপে ধরে রাখতে চায় ডাচরা। শিরোপার স্বপ্নে বিভোর অধিনায়ক ফন ডাইক তরি বাইতে চান বিশ্বাসের সমুদ্রে।
আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা সেন্টার ব্যাক ভার্জিল ফন ডাইক। তার সবচেয়ে বড় শক্তি শারীরিক সামর্থ্য, দুর্দান্ত পজিশনিং এবং বল পায়ে আত্মবিশ্বাস। আকাশে বলের লড়াই, ট্যাকটিক্যাল সচেতনতা ও পেছন থেকে আক্রমণ গড়ার দক্ষতায় তিনি অনন্য। মাঠে শান্ত স্বভাব, নেতৃত্বগুণ ও ডিফেন্স সংগঠিত করার ক্ষমতা ফন ডাইককে দলের মানসিক ভরসায় পরিণত করেছে, ‘মানুষ হয়তো আমাদের বিশ্বকাপে জেতার মতো ফেভারিট হিসেবে দেখছে না। তবে নেদারল্যান্ডসের আসল শক্তি হলো, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি, অতীতেও আমরা সেটা করে দেখিয়েছি।’ বলছিলেন অধিনায়ক। ৩৪ বছর বয়সী এ তারকা ফুটবলার চার বছর সাউদাম্পটনের হয়ে খেলার পর লিভারপুলে পাড়ি জমান। ২০১৮ থেকে খেলেছেন ২৭৮ ম্যাচ। ২০১৫ থেকে নেদারল্যান্ডসের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। গর্বের কমলা জার্সিতে মাঠে নেমেছেন ৯২ ম্যাচে।
নেদারল্যান্ডসের শক্তির জায়গা তাদের ডিফেন্স; অধিনায়ক ফন ডাইক ছাড়াও দলটির রক্ষণে আছেন নাথান আকে, মিকি ফন ডে ফেন, জুরিয়েন টিম্বার। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং, রায়ান গ্রাভেনবার্খ, তিজাননি রেইন্ডার্সদের নিয়ে গড়া মধ্যমাঠও বেশ শক্তিশালী। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ শুরু ডাচদের বিশ্বকাপ মিশন। এফ-গ্রুপের অপর দুই দল সুইডেন ও তিউনিসিয়া।