ইন্টারনেট সংযোগ এখন মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকারে পরিণত হয়েছে। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ও ধীরগতিতে রেখে কোনো সরকার সেই অধিকার খর্ব করতে পারে না। সরকারের এই আচরণ পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও অগণতান্ত্রিক। কোনো অজুহাত ও সময়ক্ষেপণ ছাড়াই দ্রুত বিষয়টি সমাধানের দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি।
বুধবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান ক্যাব নেতারা।
তারা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘর্ষ-সহিংসতাকে ঘিরে টানা ১০ দিন ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ থাকার পর সরকার চাপে পড়ে ধীরগতির ইন্টারনেট চালু হলেও মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ, ব্যবসাবাণিজ্য, দৈনন্দিন কার্যক্রমসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ওয়াসার মতো জরুরি পরিষেবার বিল পরিশোধে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।’
ক্যাব নেতারা বলেন, ‘সরকার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করার পর ডাটা সেন্টারে আগুন দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনলেও পরে দেখা গেল, সেই ভবনে কোনো আগুনই লাগেনি। আর সেই দোহাই দিয়ে টানা ১০ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। তাছাড়া ওই ডাটা সেন্টার থেকে দেশজুড়ে মোট ব্যান্ডউইথ চাহিদার ২০ শতাংশের মতো সরবরাহ করা হয়।’
বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ‘পোশাক খাত ও রেমিট্যান্সের পাশাপাশি এক দশকে দেশের তরুণরা ফ্রিল্যান্সিং করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছেন। অনলাইন ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিং কার্যক্রমে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এখন ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট চালু করা হলেও তা এতটাই ধীরগতির তা দিয়ে সেই অর্থে কোনো কাজেই আসছে না। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটররা ৫ জিবি ডাটা বোনাস দেওয়ার নাম করে গ্রাহকদের সঙ্গে উপহাস করছেন। যেখানে মোবাইল ডাটার গতি নেই, নেটওয়ার্ক কাজ করছে না, সেখানে ৫ জিবি বোনাস না দিয়ে গতি ও মানসম্পন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করাই জরুরি।’
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রেসিডিন্ট আলহাজ আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি চৌধুরী কে এন এম রিয়াদ, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।
তারেক মাহমুদ/সালমান/