সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভারতে অবস্থানের বিষয়ে র্যাবের কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক (মুখপাত্র) লে. কর্নেল মো. মুনীম ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। আপনারা টিভিতে দেখে যা জানেন, আমিও সেভাবেই জানি।’
বুধবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে গুলশানে জোড়া খুনের ঘটনায় রুমন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাব জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামে হালিশহর এলাকা থেকে রুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের ভেতরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কোপানো ও গলা কাটা অবস্থায় দুজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত রফিকুল ইসলামের ছেলে গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জোড়া খুনের মূল আসামি রুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রফিকের চায়ের দোকানে এক মাস ধরে সাব্বির নামের এক কিশোর চাকরি করছিল। সম্প্রতি সাব্বির চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানালে রফিক দোকানের জন্য নতুন কর্মচারীর খোঁজ করতে থাকেন। ঘটনার সাত দিন আগে তার পূর্বপরিচিত একজনের মাধ্যমে রফিকের দোকানে কর্মচারী হিসেবে থাকা-খাওয়াসহ মাসে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করেন আসামি রুমন। বেতন অল্প হওয়ায় ও দোকানের কাজকর্ম নিয়ে রফিকের সঙ্গে রুমনের বেশ কয়েকবার বাগবিতণ্ডা হয়। এতে রুমনের মধ্যে রফিকের প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। রফিককে উচিত শিক্ষা দিয়ে দোকানের মালামাল ও টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন রুমন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রফিক, সাব্বির এবং রুমন দোকানের কার্যক্রম শেষে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাত আনুমানিক ২টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে রফিকের মাথায়, গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন রুমন। সাব্বির বিষয়টি দেখে ফেললে তাকেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করে বিছানার চাদর দিয়ে লাশ ঢেকে রাখা হয়। এরপর রুমন নগদ টাকা ও কফি বানানোর মেশিনসহ দোকানের মালামাল বেশ কয়েকটি বস্তায় ভর্তি করেন। সকাল ৭টার দিকে একটি পিকআপযোগে দোকানের মালামাল নিয়ে রুমন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এয়ারপোর্ট এলাকায় এসে বাসযোগে মালামালসহ কিশোরগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে চলে যান। লুণ্ঠিত মালামাল তার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন রুমন।
র্যাব জানায়, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও দুজন জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার রুমন। বাকি আসামিদের ধরতে র্যাব কাজ করছে।
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয়নি। সাগর-রুনীর মামলা তদন্ত করতে র্যাব ব্যর্থ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট মনে করেছেন আরও অভিজ্ঞ লোক দরকার। যারা এ ধরনের কাজে পারদর্শী তাদের অন্তর্ভুক্ত করে টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়েছে। এতে যদি র্যাবের কোনো সহায়তা লাগে আমরা যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’