ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন রাসুল (সা.) এর খাদ্য তালিকায় কেন দুধ ছিল সেরা নওগাঁ সীমান্তে ১৭ ব্যক্তিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিল বিএসএফ গাইবান্ধায় দুই ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাইজদীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে পুলিশে দিল ছাত্রদল রংপুরে মাদকমুক্ত সামজ গঠনে শিক্ষার্থীদের শপথ অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রণধীর জয়সওয়াল মহেশখালীতে হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু কিমের আমন্ত্রণে উ. কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন
Nagad desktop

জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের কান্না ‘আমাদের সন্তানদের রক্ত বৃথা যেতে দেবেন না’

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩৫ পিএম
‘আমাদের সন্তানদের রক্ত বৃথা যেতে দেবেন না’
জুলাই গণহত্যার শততম দিনে শহিদদের স্মরণে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে ৫ আগস্ট ছেলে হারানোর কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন একজন মা। ছবি: খবরের কাগজ

‘আমার ছেলেকে দুইটা গুলি করা হয়েছে। একটা গলায় ডানপাশে, সব রগ ছিঁড়ে গিয়েছে। আরেকটা পিঠের পিছনে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ডাক্তার পিঠের পিছনটা দেখতেই পারেনি। আমি জানি, আমার ছেলে আমার জন্য কী ছিল! সে হয়ত দেশের জন্য করে গেছে কিন্তু ছেলেটা আমি ও আমার ছোট ছেলের জীবনটাকে পুরোপুরি তছনছ করে দিয়েছে। তিন মাসে আমরা একটুও গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ছোট ছেলেকে নিয়ে মাসের ১৫ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। ইতোমধ্যে তাকে ৫টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে, ছেলেটার বয়স মাত্র ১৩ বছর। এতো বড় একটা যুদ্ধ, এই লড়াইটি আমি আমার বড় ছেলেকে ছাড়া কীভাবে লড়বো। আমি এমন এক মা যে, জীবন যুদ্ধে দুই ছেলের কাছে হাইরা গেছি।’

বুধবার (১৩ নভেম্বর) জুলাই গণহত্যার ১০০তম দিনে শহিদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন পায়রা চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে ‘কান্দে আমার মায়’ শীর্ষক এক স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে এভাবে জুলাই অভ্যুত্থানের ৫ আগস্ট ছেলে হারানোর কথা বলছিলেন আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা।

রাজধানীর শহিদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল আবদুল্লাহ বিন জাহিদ। এ বছর ১৭ বছরে পা দিতেন আবদুল্লাহ। এবারের জন্মদিন একাই পার করতে হয়েছে মা ফাতেমা তুজ জোহরাকে। আরেক ছেলে ১৪ বছর বয়সী মাহমুদুল্লাহ বিন জিসান কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত। ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আবদুল্লাহ আনন্দ মিছিল করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় আবদুল্লাহ। বড় ছেলেকে গোসল-খাওয়া সব করিয়ে দিতেন ফাতেমা। বাসায় ডিশ না থাকায় মাকে নিয়ে খবর দেখতে নানুর বাড়ি যায় আবদুল্লাহ।

সেদিনের বর্ণনা দিয়ে আবদুল্লাহর মা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘এ বছর পহেলা নভেম্বর সে জন্মদিন পালন করতে পারেনি। ওকে ছাড়াই আমার এ দিনটি পার করতে হয়েছে। আমার জীবনে ৮০ ভাগই জুড়েই ছিল আমার বড় ছেলে। ছোট ভাইয়েরও ৮০ ভাগ জুড়েই ছিল আমার বড় ছেলেটি। অনেক শখের জিনিস হয়ত আল্লাহ রাখে না। ওইদিন পৌনে পাঁচটার দিকে সে বের হয়ে যায়। ৭টা ১২ মিনিটে, ৭টা ৩৬ মিনিটে তাকে ফোন দেই ও ফোন ধরেনি। পরে আরেকবার দিলে ফোন ধরে; সালাম দিয়ে আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, বাবা সন্ধ্যা হয়নি? ও উত্তর দেয়, আম্মু আমি এয়ারপোর্টের মাথায় আছি, আধা ঘণ্টার মধ্যে আসতেছি। এই আধা ঘণ্টা, আজও আমার জীবন থেকে শেষ হয়নি, কারণ আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেনি। ৮টা ১০ মিনিটে খবর আসে আমার সন্তানকে গুলি করা হয়েছে। এই ৩৪ মিনিটে আমার জীবন-সংসার সব উজাড় হয়ে গিয়েছে। যাইতে-যাইতে আমাকে বলা হয়, তাড়াতাড়ি উত্তরার মা ও শিশু হাসপাতালে আসুন নাহলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হবে। পরে গিয়ে দেখি, আমার আবদুল্লাহ আর নাই!’

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ভাই ঘনঘন অসুস্থ ছিল, এ নিয়ে আবদুল্লাহ বেশ টেনশনে ছিল। অথচ তার মারা যাওয়ার ১৪ দিন পর ধরা পড়ে ওর কোলন ক্যান্সার হয়েছে। এখন সে তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে। আমার অনুরোধ থাকবে, সবাই আমার ছেলেদের জন্য দোয়া করবেন।’

এদিকে ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করে করে দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস। সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে পড়ার টেবিলের ওপর মাকে উদ্দেশ করে একটি চিঠি লিখে বেরিয়ে যায়। ওই স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ ও মা সানজিদা খান দিপ্তী। 

ছেলে মৃত্যুর স্মৃতিচারণ করতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সানজিদা খান দিপ্তী। তিনি বলেন, ‘১৬ বছরে আমার সন্তান। কিছুই জানে না, তারপরেও আন্দোলনে গিয়েছে। সব হারিয়ে ফেলেছি আমি, আনাস আপনাদের কাছে শুধু একটি শহিদের নাম কিন্তু আমার কাছে আমার সন্তানটা ছিল সারা পৃথিবী। আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন। আর যেন কোন যুদ্ধে যেন আর কোন মায়ের কোল খালি না হয়। যে দেশের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আমাদের সন্তানরা যে আন্দোলনে নেমেছিল তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেবেন না, সেই স্বপ্নের দেশটা যেন এ জাতি পায়।’ 

এছাড়া এতে অন্যান্যদের মধ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহিদ জাহিদুজ্জামান তানভীন, শহিদ ফাহমিন জাফরের মা, শহিদ আব্দুল আহাদের বাবাসহ অনেক আহত-নিহত পরিবারের সদস্যরা আপনজন হারানোর স্মৃতি তুলে ধরেন। মুহূর্তেই শহিদের পরিবারে কান্নায় ভারী হয়ে টিএসসি প্রাঙ্গণ। ‘কান্দে আমার মায়’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ ছাড়াও শোকগীতি, পথনাট্য, দোয়ার আয়োজন করা হয় জুলাই অভ্যুত্থানে আহত-নিতদের স্মরণে।

আরিফ জাওয়াদ/এমএ/

ঢাকায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আজ ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ঢাকার সঙ্গে আংকারা সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তুরস্ক ও বাংলাদেশ। প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা নিয়েও ঢাকার সঙ্গে কথা হয়েছে।

তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কী মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ ছাড়া গতকাল বিকেলে তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে আরও বাড়াতে চাই। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে এটি বাড়ানো যায় তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন না নেওয়ায় প্রতিরক্ষা খাতে কী ধরনের সহযোগিতা বাড়ানো হবে তা তুরস্কের মন্ত্রী জানাননি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি বিস্তৃত সহযোগিতা নেটওয়ার্ক রয়েছে। এটি গ্লোবাল সাউথের একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাকান ফিদান বলেন, ‘বৈঠকে আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বাংলাদেশ নিজ কাঁধে এক বিশাল মানবিক দায়িত্ব বহন করছে। দুর্ভাগ্যবশত, রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ বছরের পর বছর ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সমগ্র মানবতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ প্রদর্শন করেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশ এবং সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংহতি ও সমন্বয় করে কাজ করছি। আমরাও এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচ্যসূচিতে রাখার জন্য নিবিড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন।

এ সময় ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অভিন্ন ইচ্ছা প্রদর্শন করতে হবে। বিশেষ করে, যুদ্ধবিরতির সময় নাশকতার জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টা ঠেকানো অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান ঠেকাতে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ ভূমিকা পালন করে যাবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিসহ (পিটিএ) বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক চলাকালে তুরস্কের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ড. খলিল বলেন, ‘আমরা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানাই এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এটি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা, সমন্বয় এবং বোঝাপড়াকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।’

মন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যৌথ সমৃদ্ধি, পারস্পরিক লাভজনক বিষয় এবং ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তুরস্কের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ে ভূমিকা পালন করে যাবে বাংলাদেশ।

ড. খলিল আরও বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, হাকান ফিদান ভাইয়ের এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী দিনে সহযোগিতা গভীরতর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিতে ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে উভয় দেশ যৌথ অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তুরস্কের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা সম্পর্কে জানিয়েছি এবং সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’

সফরকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা, দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং শিবিরগুলোতে পরিচালিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালটিও ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এদিকে আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা চলমান থাকবে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শরণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাকান ফিদান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন রোহিঙ্গারা তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হলে তা বড় ধরনের গণ-অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। তিনি বলেন, শুধু ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সিমেন্টের মতো নরম, ঠাণ্ডা ও সহনশীল। কিন্তু তারা গর্জে উঠলে ৫ আগস্ট ঘটিয়ে দিতে পারেন। শুধু ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে। গ্রাহকরা জীবন দেবেন, কিন্তু লুটেরাদের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলন কাকে বলে এবং কত প্রকার, তা দেখার জন্য প্রস্তুতি নিন। শুধু ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরাই আপনাদের তা দেখিয়ে দিতে পারবেন। সময় থাকতে এই বিপজ্জনক পথ থেকে সরে আসুন।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক কারও ব্যক্তিগত বা সরকারি টাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি জনগণের অর্থ এবং কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশ ঠিক রাখা আপনার দায়িত্ব। আপনার পাশে থেকে যারা তোষামোদ করছেন, তারা রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে জানেন না।’

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনাদের অনেক এমপি, কিন্তু কোথাও দেখলাম না হাম নিয়ে কথা বলতে। শুধু নতুন নতুন ইশতেহার দিচ্ছেন, বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাস্তব জীবনে কোনো ভালো কাজে তাদের দেখা যায় না।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এরশাদ ঢাকার বুকে গাজীপুরে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সহ্য করতে পারেননি। সেটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ায় সরিয়ে নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরই তার পতন হয়েছে, যা করেন করেন, ইসলামির গায়ে হাত দেবেন না। ইসলামি নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হরতাল ডেকে তাদের বাসায় গিয়ে চা খেতেন। পুলিশকে ম্যানেজ করে ঝটিকা মিছিল করতেন। জামায়াত এ ধরনের আন্দোলন করবে না। সময় থাকতে এই বিপজ্জনক পথ পরিহার করে সঠিক পথে ফিরে আসুন। অন্যথায় আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।’

জামায়াত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জামায়াতকে হিংসা করেন। আজ আমরা যে কাজ করলাম, সেটিও আপনাদের সহ্য হচ্ছে না। জামায়াতকে সহযোগিতা করুন। জামায়াত দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ বদলে যাবে।’

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, যুব বিভাগের সহসভাপতি ডা. মাঈনুদ্দীন, বনানী থানার আমির মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ
প্রতীকী ছবি

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে মব হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে এ ধরনের ৬৯টি ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭১ জন।

গত ৩১ মে প্রকাশিত এমএসএফের মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, মব হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।

সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মব হামলায় নিহত হন ২১ জন এবং আহত হন ৪৯ জন। মার্চে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৯ এবং আহত ৩১ জন। ফেব্রুয়ারিতে প্রাণ হারান ১৮ জন, জানুয়ারিতে ২১ জন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নিহত হন ১০ জন।

মব সহিংসতা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কিন্তু প্রাণহানি কমেনি। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় এসেছে। গত ১০ মে পুলিশ সপ্তাহের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রয়োজন হলে মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

এমএসএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে মব হামলার ঘটনায় মানুষের নিরাপত্তাবোধ প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। 

মে মাসে নিহতদের মধ্যে ১৪ জন চুরির অভিযোগে, ৪ জন বাগবিতণ্ডার জেরে, ২ জন ডাকাতির অভিযোগে, ২ জন ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে, ২ জন বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে এবং বাকিরা অন্যান্য অভিযোগে জনরোষের শিকার হন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মব হামলায় আহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনকে পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১২ এএম
শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন
ছবি: সংগৃহীত

আবারও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে বিমানবন্দরের কার্গো শেডে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

এছাড়াও প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও নিরূপন করা যায়নি।

এসএন/

মিডিয়া পার্টনার খবরের কাগজ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী
ছবি: খবরের কাগজ

উৎসবমুখর পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ফেসবুক-ভিত্তিক অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ‘SSC 2002 & HSC 2004 Bangladesh’-এর ঈদ-পরবর্তী জমকালো মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের একটি রেস্তোরায় এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের আমেজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত আড্ডা, গল্প আর স্মৃতিচারণে অনুষ্ঠানটি এক উপভোগ্য সন্ধ্যায় পরিণত হয়। 

ঈদ পুনর্মিলনী উদযাপনে কেক কাটার পাশাপাশি এই আয়োজনে ছিল বন্ধুদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ গানের আসর এবং আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র, যা উপস্থিত সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। আড্ডার মাঝে ছিল মৌসুমী ফল খাওয়ার আয়োজন! আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে চলে বন্ধুদের আড্ডা, খাওয়া, ফটোসেশন। আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল খবরের কাগজ।

১৪ বছর পূর্তির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা মিলনমেলার মূল আকর্ষণ ছিল গ্রুপের আসন্ন পূর্তি উৎসবের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা। আগামী দিনের এই মেগা ইভেন্ট সফল করতে সদস্যরা তাদের চমৎকার সব ভাবনা ও পরিকল্পনা গ্রুপের অন্যতম দায়িত্বশীল মডারেটর চৌধুরী আদিব রহমানের কাছে তুলে ধরেন। গ্রুপকে ভালোবেসে এর অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

সামাজিক কল্যাণে অনন্য অবদান, শৈশবের বন্ধুদের পারস্পরিক যোগাযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি এই অনলাইন কমিউনিটিটি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

গ্রুপটির উল্লেখযোগ্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে: শীতবস্ত্র বিতরণ: তীব্র শীতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ। উৎসবের খুশি ভাগাভাগির কর্মসূচি হিসেবে ঈদ ও পূজার মতো বড় উৎসবগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ। চিকিৎসা সেবা কর্মসূচিতে দেশজুড়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং বিনামূল্যে হেলথ ক্যাম্প বা স্বাস্থ্যসেবা শিবিরের আয়োজন।

ব্যাচমেটদের মধ্যকার আজীবন বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি মানবিক কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় নিয়ে এই আনন্দঘন মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে। এসএসসি ২০০২ এবং এইচএসসি ২০০৪ ব্যাচের ঢাকার, ঢাকার বাইরের এবং প্রবাসী কিছু সংখ্যক বন্ধুর উদ্যোগে এ আয়োজন হয়।

দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রায় ৪৭ হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত এই জনপ্রিয় ও সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপ অনেক বছর থেকেই বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম বিশেষ করে রক্তদান কর্মসূচি, খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সারা দেশে বিভিন্ন দিবসে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বন্ধুরা ঈদে দেশে আসায় এই আয়োজন করা হয়।

এসএন/