বাংলাদেশে গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৫০ হাজার। তবে বছরের ব্যবধানে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার। কারণ গত ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বেকার জনগোষ্ঠী ছিল ২৪ লাখ ৩০ হাজার।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রবিবার (৫ জানুয়ারি) ওই জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেকারের এই নতুন হিসাব ১৯তম আইসিএলএস (পরিসংখ্যানবিদদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন) অনুযায়ী প্রস্তুত করেছে বিবিএস। এই পদ্ধতি অনুসারে যারা উৎপাদনমূলক কাজে নিয়োজিত থাকেন কিন্তু বাজারে পণ্য বা সেবা বিক্রি করেন না, তারা কর্মে নিয়োজিত নন হিসেবে ধরা হয়। তারা বেকার জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হন। এবারই প্রথমবারের মতো এভাবে হিসাব করা হয়েছে। এত দিন ১৩তম আইসিএলএস অনুসারে বেকারত্ব ও শ্রমশক্তির হিসাব করা হতো। নতুন হিসাবের পাশাপাশি এবার পুরোনো হিসাবটিও দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাব অনুসারে, গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে দেশের বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৫০ হাজার। এর আগের প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ২৬ লাখ ৪০ হাজার বেকার ছিলেন।
বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ-২০২৪ তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে বেকার জনগোষ্ঠী মূলত তারাই, যারা জরিপের আগের ৭ দিন সময়ে ১ ঘণ্টাও কোনো কাজ করেননি, কিন্তু কাজ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। একই সঙ্গে তারা জরিপের পরের দুই সপ্তাহেও কাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। এ ছাড়া বিগত ৩০ দিনে বেতন বা মজুরি অথবা মুনাফার বিনিময়ে করার জন্য কোনো না কোনো কাজ খুঁজেছেন, এমন ব্যক্তিরা বেকার হিসেবে বিবেচিত হন।
এ বিষয়ে বিবিএসের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো ১৯তম আইসিএলএস অনুসারে বেকারত্ব ও শ্রমশক্তি জরিপ করা হয়েছে। ফলে পরিসংখ্যানে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। ১৩তম আইসিএলএসের ভিত্তিতে বিবিএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক জরিপ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে দেশের শ্রমশক্তি ছিল ৭ কোটি ৬ লাখ নারী-পুরুষ। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার এবং নারী ২ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার। যারা কর্মে নিয়োজিত নন কিন্তু বেকার হিসেবেও বিবেচিত নন, তারাই মূলত শ্রমশক্তির বাইরের জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীতে আছেন শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক, কাজ করতে অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মে নিয়োজিত নন বা নিয়োজিত হতে অনিচ্ছুক এমন গৃহিণীরা। দেশে ১৭ কোটি ৩৭ লাখ জনসংখ্যা ধরে এই হিসাব করা হয়েছে।
এমএ/