সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে দেশের সাংবিধানিক নাম ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্যে তিনটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু গণতন্ত্র বহাল রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন চারটি মূলনীতির সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। এগুলো হলো- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সংস্কারের সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামো, সংসদের ধরনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়।
দেশের সাংবিধানিক নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সুপারিশে বলা হয়, সংবিধানের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ ও ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’-এর পরিবর্তে যথাক্রমে ‘নাগরিকতন্ত্র’ ও ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে।
সুপারিশে জাতি হিসেবে ‘বাঙালি’-এর পরিবর্তে সব নাগরিক ‘বাংলাদেশি’ এবং নাগরিকতন্ত্রের ভাষা ‘বাংলা’ ও মাতৃভাষা হিসেবে দেশে ব্যবহৃত সব ভাষাকে দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বলা হয়।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া সংবিধান বাতিল, স্থগিত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানসংক্রান্ত সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিলেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক অধিকারে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের পাশাপাশি নতুন কিছু অধিকার যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার, ইন্টারনেটপ্রাপ্তি, তথ্য পাওয়া, গোপনীয়তা রক্ষা, ভোক্তা সুরক্ষা, শিশু উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার।
সংস্কার প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদ দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট করা, সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠার সুপারিশ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সাংবিধানিকভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন ও স্থানীয় সরকার কমিশনকে স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রতিটি কমিশনের মেয়াদ হবে ৪ বছর। সংবিধানে প্রতিটি কমিশনের জন্য একটি করে পরিচ্ছদ রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।
‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ করার সুপারিশ প্রসঙ্গে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশকে যেভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বলা হয়, তার মধ্যে আসলে যে প্রজাতন্ত্রের কথা হয়ে থাকে, সেটায় আমরা দ্বিমত পোষণ করেছি। আমরা বলেছি, বাংলাদেশের পরিচিত হওয়া উচিত ‘জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’।