দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী, কার্যকর ও ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়ে কমিশনারদের পদ তিন থেকে বাড়িয়ে অন্তত একজন নারীসহ ৫ সদস্যে উন্নীত করার সুপারিশ জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার কমিশন। কমিশনের মেয়াদ পাঁচ থেকে কমিয়ে চার বছর করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দুদকের ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের পুরো অংশ সরাসরি দুদকের স্বতন্ত্র তহবিলে দেওয়া, কমিশন নিয়োগে সার্চ কমিটির নাম বদলে ‘বাছাই ও পর্যবেক্ষক কমিটি’ করা, দুদক আইনের সংস্কার, প্রেষণজনিত আমলানির্ভরতা কমানো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো ও প্রণোদনার সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন।
গতকাল বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ৪৭ দফা সুপারিশ সম্বলিত এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংস্কার কমিশন। এতে ব্যক্তিগত স্বার্থে সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ লেনদেনকে অবৈধ ঘোষণা এবং আইনে কালো টাকা সাদা করার বৈধতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে নিয়োগ দেওয়ার একটি পদ্ধতি সংস্কার কমিশনের সুপারিশে তুলে ধরা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ‘যোগ্যতা’ ও ‘শর্ত’ পূরণ সাপেক্ষে যে কেউ চাইলে কমিশনার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কমিশন ‘বাছাই ও পর্যবেক্ষক’ কমিটির বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখার সুপারিশ করেছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, কমিশন গঠনে বিতর্কিত ‘সার্চ’ কমিটি ও দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা এড়াতে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে তার পরে সুপ্রিম কোর্টে যিনি সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ হবেন, তিনি হবেন বাছাই কমিটির প্রধান, হাইকোর্টের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ একজন সদস্য হবেন, প্রধান বিচারপতির নিযুক্ত একজন থাকবেন- যিনি বাংলাদেশের শাসন সম্পর্কে জানেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক, পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে একজন, সংসদ নেতা থেকে মনোনীত একজন সদস্য ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা থেকে মনোনীত একজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে বাছাই কমিটি।
দুদকের বিতর্কিত চাকরিবিধি ৫৪-এর ২ ধারা বাতিল, সচিব পদ থেকে নিচের দিকের পদগুলোতে নিয়োগ-পদায়নে দুদক আইনের বড় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সচিব নিয়োগ করার ক্ষমতা থাকবে কমিশনের হাতে। মহাপরিচালক পদে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ৬০ শতাংশ পদায়ন ও পদোন্নতি, পরিচালক পদে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ৭৫ শতাংশ পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের চাকরি থেকে অপসারণ করা হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতির যে বিধান করা হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি বিলুপ্তি করা হবে। দুদক আইনে স্বাধীন প্রসিকিউশনের কথা বলা থাকলেও সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার দুই দশকে প্রসিকিউশনই গঠন করা হয়নি। এতে ১০ থেকে ২০ শতাংশ নিজস্ব কর্মীর মাধ্যমে প্রসিকিউশনের যাত্রা শুরু করতে বলা হয়েছে। পরে ক্রমান্বয়ে তা বাড়িয়ে নিজস্ব পরিপূর্ণ প্রসিকিউশন টিম গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামানের নেতৃত্বে সংস্কার কমিশনের সদস্যরা গত ৩ অক্টোবর কার্যক্রম শুরু করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে-
>মাথাভারী কমিশন করে লাভ হয় না
>সবকিছু চূড়ান্ত হবে সংসদে
>সুপারিশ ভালো হয়েছে
>স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে