মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের শব্দ দূষণে ২০৪৫ সালের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা এবং জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বারসিক।
শনিবার (১৭ মে) মিরপুর ২ নম্বরের শেরে-বাংলানগর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটে ঢাকা শহরের শব্দ দূষণ রোধে বারসিক এক মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এতে মিরপুর এলাকার জনসাধারণসহ প্রায় ৫৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
মানববন্ধনের ধারণাপত্রে বারসিকের সহকারী কর্মসূচি কর্মকর্তা হেনা আক্তার রুপা বলেন, ‘শব্দদূষণ এই শহরে আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ভোর থেকে শুরু হওয়া শব্দের অত্যাচার চলে গভীর রাত অবধি। সিগন্যাল ছাড়তে না ছাড়তেই, কে কার চেয়ে বেশি জোরে হর্ন বাজাবেন- চলতে থাকে সেই প্রতিযোগিতা। মানুষের নিরাপদ শব্দসীমা ৪০-৬০ ডেসিবেল হলেও বাস্তবতা হচ্ছে নিরব এলাকাতেই দূষণের মাত্রা ৮৫ ডেসিবেলের বেশি। মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের শব্দ দূষণে ২০৪৫ সালের মধ্যে শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন দেশের দেড় কোটি মানুষ। ভয়াবহ এই দশা থেকে বেরিয়ে আসতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ শব্দের মাত্রা কমিয়ে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনএপি) ‘ফ্রন্টিয়ারস ২০২২: নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী শব্দ দূষণে বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের দুটি শহর। একটি আমাদের প্রাণের শহর ঢাকা এবং অন্যটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মহানগরী রাজশাহী।’
মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন মিরপুর ‘ট’ ব্লকের বাসিন্দা মোসাম্মাদ সোনিয়া বেগম এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করে বারসিকের সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বারসিক প্রতিনিধি এশা আক্তার লাবন্য, কারিতাস প্রতিনিধি জসীম উদিন, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি দুলাল কর ও ব্যবসায়ী মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
পপি/