ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করল ব্রাজিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগ দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন রামিসা হত্যাকাণ্ড: আদালতে আনা হলো আসামি সোহেল-স্বপ্নাকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২ মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন সক্ষমতা বাড়াতে সুপরিকল্পিত বাজেটের তাগিদ টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিলের দাবি খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০ জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা গ্রাহকের ব্যানারে আন্দোলনে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৪৫ শতাংশ সাভারে তিন কারখানা থেকে ১৮৬৮ শ্রমিক অব্যাহতি এখনো উৎপাদনে আসেনি বন্ধ চিনিকল ৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল
Nagad desktop

পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৪০ পিএম
পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান

পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান।

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগের ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ডিজিটাল পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’ 

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক বিভাগের সভাকক্ষে বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সমাপনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জিপিও ঢাকার ঐতিহ্যের অংশ। জিপিও কে নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।’ 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘ডাক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের নানা বৈষম্য দূর করার কাজ চলছে।’  

বর্তমান জিপিওর জায়গায় সচিবালয় সম্প্রসারণ এর বিষয়ে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে যে সংশয় ছিল তা দূর হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিপিওর জায়গায় সমষ্টিগত স্মৃতি সংরক্ষণ করার জন্য পোস্টাল মিউজিয়াম করা হবে।’ 

বিশেষ সহকারী আরও বলেন, ‘এড্রেস ম্যানেজমেন্ট বা ঠিকানা ব্যবস্থাপনার বর্তমান স্ট্রাকচার ডিজিটাল ইকোনমিক জন্য উপযোগী নয় তাই বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এড্রেস ম্যানেজমেন্টকে ডিজিটাল করার চেষ্টা চলছে।’ 

তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে এরিয়া কোড, স্ট্রিট কোড এবং হাউজ কোডগুলো সমন্বিত এবং এড্রেসের সঙ্গে জিও ফেন্সিং করা হবে। যেহেতু ঠিকানা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার সেজন্য বিষয়টাকে ডাক এবং কুরিয়ার আইন হালনাগাদের মাধ্যমে এড্রেস করার কাজ চলছে।’ 

বিশেষ সহকারী আরও জানান, মেইল এবং পার্সেল ট্রাকিং সিস্টেম এর আওতায় বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ট্র্যাকিং করা যায়। এ ট্রাকিং সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার এর মান উন্নয়নের মাধ্যমে ত্রুটিহীন করে ট্রাকিং প্রায় শতভাগে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে শহর এবং গ্রামের মানুষের বৈষম্য দূর করতে ই-কমার্সের সঙ্গে ডাক বিভাগকে সমন্বিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিশু কিশোরদের চিত্রাংকন ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের এবং ডাক বিভাগের শ্রেষ্ঠ কর্মচারীকে পুরস্কৃত করা হয়।’ 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান এর সভাপতিত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম শাহাবুদ্দিন, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থার প্রধান, বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে
আজ থেকে নতুন সময়সূচিতে চলাচল করবে মেট্রোরেল। ছবি: সংগৃহীত

নতুন সময়সূচিতে চলাচল করবে মেট্রোরেল। রবিবার (৭ জুন) থেকে রাজধানীর দুই প্রান্ত–উত্তরা ও মতিঝিল থেকে রাতে ট্রেন চলাচলের সময় ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরার উদ্দেশে সর্বশেষ ট্রেনটি ছেড়ে যাবে সাড়ে ১০টায়, যা গতকাল শনিবার পর্যন্ত রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যেত। অন্যদিকে উত্তরা থেকে মতিঝিলের পথে রাতের শেষ ট্রেনটি ছাড়বে ৯টা ৫০ মিনিটে, যা গতকাল রাতে ছেড়েছে সাড়ে ৯টায়।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতে সময় বাড়ানোর লক্ষ্যে এক মাস ধরে ট্রায়াল রান বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। আজ রবিবার থেকে এই বর্ধিত সময়ে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। তবে প্রাথমিকভাবে এই বাড়তি ২০ মিনিটে মেট্রোরেল উভয় দিক থেকে একটি করে ট্রিপ দেবে। এর অর্থ একটি ট্রেন মতিঝিলমুখী ও অন্যটি উত্তরামুখী চলাচল করবে। এতে এই সময়ে একটি ট্রেনের সঙ্গে অন্য ট্রেনের মধ্যবর্তী বিরতি বা হেডওয়ে থাকবে ১০ মিনিট।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে মতিঝিল থেকে রাত ১১টা এবং উত্তরা থেকে রাত ১০টার পর শেষ ট্রেন ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে একসঙ্গে এত সময় বাড়ালে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে না পারায় আপাতত ২০ মিনিট করে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাতে চলাচল আরও আধা ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

এখন প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেনটি ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালের এই সূচিতে আপাতত কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাতে দুই দিক থেকেই মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, রবিবার থেকে বর্ধিত সময়ে ট্রেন চলাচল করবে। পর্যায়ক্রমে সময় আরও বাড়ানো হবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে।’

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে মেট্রোরেলের সময়সীমা উভয় দিকে আধা ঘণ্টা করে মোট ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। এখন সারা দিনে ২৯৭ বার (ট্রিপ) মেট্রোরেল যাতায়াত করে। রাতে সময় বাড়ায় এখন ট্রিপের সংখ্যা আরও বাড়বে।

এখন উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলের জন্য ২৪ সেট ট্রেন রয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে ছয়টি করে কোচ। পিক আওয়ারে (ব্যস্ত সময়) বর্তমানে ১২ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক চলাচল করে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বাড়তি সময়ের চাহিদা মেটাতে এখন থেকে ১৪ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে।

ডিএমটিসিএলের অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারিগরিভাবে প্রতি সাড়ে ৩ মিনিট পরপর একটি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে ডিএমটিসিএলের। প্রকল্প পরিকল্পনায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রেন চালানোর প্রক্ষেপণ থাকলেও মূলত প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

বর্তমানে মেট্রোরেলে দৈনিক গড়ে সোয়া চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করছেন, যেখানে দৈনিক পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশ আগামী বছর চালু হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা পৌনে সাত লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের শেষ দিনে মতিঝিল পর্যন্ত সব কয়টি স্টেশনে পুরোদমে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী
বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির উদ্যোগে প্রতিবন্ধী, দুস্থ ও মজলুমদের মাঝে গোস্ত ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ধানমন্ডি জাস্টিস আমিন আহমেদ ট্রাস্ট সংলগ্ন সড়কে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। 

দুস্থ ও মজলুমদের মাঝে গোস্ত ও নগদ অর্থ বিতরণ। ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ড. মো: আব্দুল হক তালুকদার, বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. জমিরুল আকতার, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ওমর ফারুক বিএন, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার শরীফ আজিজ, সিনিয়র এডভোকেট মঈনুদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত উইং কমাণ্ডার মীর আমিনুল ইসলাম, আফাজ উদ্দিন, ছাত্র প্রতিনিধি কবি সেজান খানসহ অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, হাসিনা যা ক্ষতি করেছে, তার থেকে দেশের বেশি ক্ষতি করেছে ইউনূস। সরকারের প্রভাবমুক্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যকর করতে হবে। দুদকে বাংলাদেশের নিঃস্বার্থ মজলুম জনগণের থেকে সৎ সাহসী, সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিকদের চেয়ারম্যান, কমিশনার নিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশে অবস্থানরত যেসব লুটেরা-মাফিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক মজলুম জনগণ রুখে না দাঁড়ালে বাংলাদেশের দুর্নীতি বন্ধ হবে না।

সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দুঃখ করে বলেন, তিন বছর চেষ্টা করেও সকল ধর্মের অনুশাসন-“দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ” দুর্নীতি অপরাধ, দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করুন এই কথাটি ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ, বায়তুল আমান মসজিদের ইমামকে দিয়ে বলাতে পারিনি। মিথ্যাচার, স্বার্থপরতা ও উশৃঙ্খলতা পরিহার করে বাংলাদেশের ৮৭℅  মজলুম জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, জনগণের সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।

তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন সবার আগে নিজকে শুদ্ধ করি, নিজের পরিবারকে শুদ্ধ করুন, নিজের পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে শুদ্ধ করুন, পরিচিত দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করে সহিহ নিয়তে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার দেশপ্রেমিকগণ ঐক্যবদ্ধ হলে বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। 

দেশের মালিক জনগণ, আমরা সরকারের অংশীদার। তিনি সরকারের প্রতি জাপান, চায়না, সিঙ্গাপুরের ভূমি আইন প্রয়োগ করে ভূমিদস্যুদের থেকে জনগণের সম্পদ রক্ষা করার দাবি জানান। লাখ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে, রক্তরঞ্জিত বাংলাদেশে বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায়, ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক  সকলের বাসযোগ্য, একটি নৈতিক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার দেশপ্রেমিকদের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।

এসএন/

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ সময় তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, তাঁর এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।

এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে।

এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে একটি পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষভাবে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যৌথ উৎপাদন ও সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: খবরের কাগজ

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া সম্মেলনেই শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

তিনি বলেন, ওই সম্মেলনেই জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে বিশেষ ও ঐতিহাসিক অবদান রেখেছিল।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

একাত্তরের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে যে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৮ নং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। মেজর জিয়াউর রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে এই রেজিমেন্ট পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার পান্ডে তেলিয়াপাড়া হেডকোয়ার্টারে বাঙালি সামরিক অফিসারদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মেজর জিয়ার এ সশস্ত্র প্রতিরোধের বার্তাটি পৌঁছে দেন। এই খবরটি মাঠপর্যায়ের বিদ্রোহীদের মনোবল বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তী সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তরের ৪ এপ্রিল সকাল ১০টায় তেলিয়াপাড়া হেডকোয়ার্টারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঊর্ধ্বতন বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেজর জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ওই সভায় বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধকে একটি সুসংগঠিত জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বসম্মতিক্রমে কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার অন্যতম অংশীদার ও নীতি-নির্ধারক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক অবিস্মরণীয় রূপকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বে জাতিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। 

তিনি আরও বলেন, জিয়ার আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। 

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধার ও ২০ তলা ভবনের পরিকল্পনা
বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মিলনায়তন সংস্কার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অতীতে বেদখল হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত অন্য বক্তারা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি যখন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, ঠিক তখনই জলবায়ু-স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ উল্টো ক্রমান্বয়ে কমছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের অংশ বিগত কয়েক বছরে ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জাতীয় জলবায়ু বাজেটেও স্বাস্থ্য খাতের অংশ কমে দেড় শতাংশে ঠেকেছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের নীতিসংলাপে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ও অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি জোর দাবি জানান।

সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), হেক্স/ইপিইআর এবং সুশীলন যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সাম্প্রতিক দুটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

উপকূলের নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে
সিপিআরডি পরিচালিত প্রথম গবেষণায় উঠে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ভয়াবহ চিত্র। দারিদ্র্য, নিরাপদ পানির তীব্র সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেখানকার নারীরা গুরুতর মাতৃস্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন। এই গবেষণার জরিপে অংশ নেওয়া ৮২.৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন যে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাবেই তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে। প্রায় অর্ধেক নারী বলেছেন, অনিয়মিত মাসিক, তীব্র ব্যথা এবং অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন জটিলতায় তারা ভুগছেন। উপকূলীয় নারীদের মধ্যে গর্ভপাত, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এবং গাইনোকোলজিক্যাল সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

নীতিমালায় গালভরা প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে শূন্যতা
‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন: নীতিগত অঙ্গীকার ও আর্থিক বাস্তবতা’ শীর্ষক দ্বিতীয় গবেষণায় দেখা যায়, সরকারের নীতিমালায় স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও বাজেটে তার প্রতিফলন নেই। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মোট অর্থায়নের এক শতাংশেরও কম বরাদ্দ পেয়েছে স্বাস্থ্য খাত। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই তহবিলের আওতায় অনুমোদিত ৮৭৭টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রকল্প স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে যে অর্থায়ন মিলছে, তা মূলত ক্ষণস্থায়ী প্রকল্পনির্ভর। রোগ নজরদারি, জরুরি প্রস্তুতি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

নীতিসংলাপে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন এখনো একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র। বৈশ্বিক পর্যায়ে অর্থায়ন আকর্ষণ করতে হলে আমাদের শক্তিশালী তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু জলবায়ু–স্বাস্থ্য আলোচনা এখনো শুধু নিরাপদ পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী আন্তর্জাতিক তহবিল পাওয়ার জন্য শক্তিশালী যুক্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি জলবায়ু-স্বাস্থ্য বাজেট প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থার সুপারিশ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির বলেন, ‘বিশ্বব্যাপীই জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে যায়, যা প্রমাণ করে এই খাতটি বৈশ্বিক পর্যায়ে অবহেলিত। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের অভাবই শক্তিশালী অর্থায়ন প্রস্তাব তৈরির মূল বাধা।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল আহমেদ সতর্ক করে বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল দিন দিন কমছে। তাই বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্যায়নের তাগিদ দেন।

আসন্ন বাজেটের জন্য জরুরি সুপারিশ
নীতিসংলাপ থেকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-জাতীয় বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারসমূহকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা; জলবায়ু বাজেট ট্র্যাকিং বা নজরদারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করা; মহামারি ও রোগ নজরদারির মতো জরুরি প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য স্থায়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যখাত-নিয়ন্ত্রিত অভিযোজন কর্মসূচির জন্য দেশীয় জলবায়ু তহবিল থেকে সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/