ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শিশুর জন্য বাজেট, দেশের জন্য বিনিয়োগ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পুনর্বিন্যাস জরুরি বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা খুলনায় বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা হেলিওস বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ সফল ব্যক্তিদের সাফল্যের রহস্য ছোট্ট এক টুকরো আত্মা ব্রাজিলের ১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ী তারকার মৃত্যু অধরা ও কবি প‌রিণ‌তি কৃষক-শ্রমিকরা নয়, শিক্ষিত লোকেরাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত: এমপি বাচ্চু শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’: বিশ্বজুড়ে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু বলির আগে অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি চাতক বালু নদীর কথা কোথাও একটা পাগল ড্রোন অনুপ্রবেশ মামলায় ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড তোমাকে আর ভুলে যাওয়া হলো না চীন সারা পৃথিবীতে শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে- ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, নিহত ৩ কবন্ধ লীলা আ.লীগ সরকারের করা ‘সিউক’ কার্যক্রম শুরু করল বিএনপি, প্রথম চেয়ারম্যান কয়েস লোদী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু ভারতীয় ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনালেন নতুন হাইকমিশনার রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫
Nagad desktop

এ মাসে আরও ৫টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
এ মাসে আরও ৫টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস
ছবি: সংগৃহীত

কনকনে শীতে জবুথবু মানুষ। গতকাল শনিবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ছিল দেশের ৯ জেলায়। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাজশাহী, ঈশ্বরদী ও বদলগাছীতে। এসব অঞ্চলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীতে রেকর্ড করা হয় ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতিও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস। এদিকে সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ সময় ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

গত ৩১ ডিসেম্বর এই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। এরপর ১ ও ২ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধিতে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে চার থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। সাধারণত যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। 

এবারের শীতে মানুষের যে অভিজ্ঞতা হচ্ছে এর চেয়ে আরও বেশি হাড়কাঁপানো শীত দেখেছে এই অঞ্চলের মানুষ। ১৯৬৪ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তিন দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। চার বছরের মাথায় শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড হয় দুই দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে শীতের আগের ওই রেকর্ড ভেঙ্গে যায়। সে বছর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। একই বছর উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুরে আগের তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙ্গে হয়েছিল দুই দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস।

একই বছরে (২০১৮ সাল) উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর ডিমলায় ৩, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩.১ এবং দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারও আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের তিন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে সময় রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩.৫, ৩.২ ও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২০০৩ সালে রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মাঝে অন্যতম। 

শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’: বিশ্বজুড়ে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’: বিশ্বজুড়ে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু
ছবি: সংগৃহীত

আজ (১২জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে “Red card to child labour: Fair play for children, decent work for adults” স্লোগানে নতুন করে শিশুশ্রম নির্মূলের আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বৈশ্বিক সম্মেলনে শিশুশ্রম বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধে জনমত গড়ে তুলতে প্রতি বছর ১২ জুন পালিত হয় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। International Labour Organization-এর উদ্যোগে ২০০২ সালে দিবসটির সূচনা হয়।

শিশুদের কর্মসংস্থানের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ বিষয়ক ILO Convention No. 138 এবং শিশুশ্রমের নিকৃষ্টতম রূপ বিলোপ বিষয়ক ILO Convention No. 182-এর অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিবসটি চালু করা হয়।

প্রতি বছর দিবসটি পালনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শিশুশ্রমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং শিশুশ্রম নির্মূলে সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। 

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু শিশুশ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত। যদিও ২০০০ সালের তুলনায় শিশুশ্রমের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, তবুও ২০২৫ সালের মধ্যে এটি নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, সাহারা-দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি শিশুশ্রমিক রয়েছে—প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ, যা বিশ্ব মোটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। অন্যদিকে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গত চার বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে; সেখানে শিশুশ্রমের হার ৬ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে, শিশুশ্রমের ৬১ শতাংশ কৃষিখাতে, ২৭ শতাংশ সেবাখাতে এবং ১৩ শতাংশ শিল্পখাতে নিয়োজিত।

শিশুশ্রম নির্মূলে জাতিসংঘের শিশু তহবিল UNICEF এবং International Labour Organization সরকারগুলোর প্রতি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে শিশুদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের মাধ্যমে সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: ইউনাইটেড নেশন

তামান্না রুপা/

ভারতীয় ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনালেন নতুন হাইকমিশনার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
ভারতীয় ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনালেন নতুন হাইকমিশনার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে পৌঁছে ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে ভিসা নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পর্যটন ভিসা চালুর বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমাদের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর এখানের ২০ কোটি যোগ করলে হয় ১৬০ কোটি। সুতরাং যা হবে একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে আমি কিছু ভাবছি না।

দেখুন তো হেঁটে চলে এলাম। মনে হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশে আছি। সবসময় আমি বলি একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্র। তাহলে আমরা মিলেমিশে ভিসার বিষয়ে যা বললেন, সব আমার মাথায় আছে।

তিনি বলেন, আপনার বাংলাদেশের শক্তিশালী গণতন্ত্র, আমাদের শক্তিশালী গণতন্ত্র—দুই গণতন্ত্র মিলে গেলে একটা বিশ্ব শক্তি হয়ে যায়। একটা পুরো অর্থনৈতিক বিশ্ব শক্তি হয়ে যায়, কিন্তু এই মেলামেশাটা দরকার, আর এর জন্য আমার যা দায়িত্ব আছে আমি নিশ্চয় পালন করব। কিন্তু আপনার (মিডিয়ার) সাপোর্ট থাকা দরকার।

নাঈম/

বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০১:১২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এর সঙ্গে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সৌদি আরবের রিয়াদে দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী। তিনি ২০২৬ সালের হজের সার্বিক ব্যবস্হাপনায় সাফল্যে বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ধর্মমন্ত্রীকে আন্তরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সেবা প্রদানের  জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী বাংলাদেশের এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও সুশৃঙ্খলতার ভূয়সী প্রশংসা করে আগামীতে সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তা কামনা করেন। এছাড়া, আগামী ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সৌদি সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় ব্যবস্থাপনা, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, মাশায়েরে হাজী সেবা প্রভৃতির মাধ্যমে হজ পালনের সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। আল্লাহর মেহমানদের সেবায় হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশ সৌদি সরকারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন ধর্মমন্ত্রী।

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌদিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলামসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকতারা । 

অন্তরা/

কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি কৌশলের ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, কৃষি খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, এসএমই শিল্প এবং রুগ্ণ ও বন্ধ কলকারখানার জন্য সহজ শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে ১০ হাজার কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।  

গত এক দশকে কৃষি খাতে মোট মূল্য সংযোজনের অংশ কমলেও শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সময়ে কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, বিপরীতে শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং শিল্পে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদামাফিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে কর্মসংস্থানের কাঠামোগত ভারসাম্য আনা হবে।

এ ছাড়া, ক্রিয়েটিভ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে একটি উচ্চ উৎপাদনশীল, দক্ষ এবং টেকসই কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যা আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন বাজেটে।

বাজেট বক্তৃতায় ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এ খাতকেও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত হিসেবে তুলে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আর্ট, সংগীত, থিয়েটার ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে বিশেষায়িত জোন গড়ে তুলে এ খাতের শিল্পী-কলাকুশলীদের জীবনমান উন্নয়ন ও জনসাধারণের চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ ছাড়া প্রযুক্তি খাতে প্রতি বছরে দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ!

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ!
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো রেমিট্যান্সে চলে অর্থনীতির একটি বড় অংশ। প্রত্যেক সরকারই এই রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য মুখিয়ে থাকে।

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, দালালমুক্ত অভিবাসন, প্রবাসীদের সমস্যা নিরসনে মন্ত্রণালয়ে ডেস্ক চালু, প্রবাসী কার্ড চালুসহ নানা পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু তার মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ চলতি বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেট প্রস্তাবনায় ৫১ কোটি টাকা কমে যাওয়ায় মন্ত্রী হতাশ হয়েছেন। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আর চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বরাদ্দের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ৫১ কোটি টাকা কম দেওয়া হয়েছে। 

শ্রমবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে এখন জেনেভায় অবস্থান করছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফোনে খবরের কাগজকে তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়ানো দরকার। সেখানে চলতি বাজেটের তুলনায় ৫১ কোটি টাকা কমিয়ে দেওয়ায় প্রস্তাবে অবাক হয়েছেন তিনি। দেশে ফিরে তিনি এ বিষয়টি দেখবেন এবং বাজেট অধিবেশনে সেটা বাড়ানোর প্রস্তাব করবেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, এটি প্রস্তাবিত বাজেট, তাই বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। 

এদিকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাও সরকারের লক্ষ্য। নুর বলেছেন, এই সেক্টর নিয়ে বাজেট বক্তৃতায়ও নানা উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া–এই দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই অর্থাৎ গত মার্চে প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ।

রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকার প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে পেশাভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। অর্থ বিভাগের অধীনে ‘স্কিল ফর ইন্ডাস্ট্রি কমপিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’-এর  আওতায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার জনকে শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক মাঝারি হতে উচ্চতর দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি জানান, বাংলাদেশি শ্রমিকপ্রধান দেশের দূতাবাসগুলোতে বিদেশে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের সুরক্ষায় ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টার জেলে থাকা, নিগৃহীত বা প্রতারিত কর্মীদের উদ্ধার, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। এ ছাড়া দেশে ফেরত প্রবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। বিদেশে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সহজতর করা হবে।

‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যমান ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং আরও ৫০টি উপজেলায় নতুন ৫০টি টিটিসি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান  প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনকে দক্ষ ড্রাইভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইউরোপ, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের সহজ শর্তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া অব্যাহত থাকবে এবং এ কার্যক্রমের আওতা আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।