সরকার গত রবিবার থেকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়িয়েছে। চালকরা আশা করেছিলেন, এবার চাহিদামতো তেল পাওয়া যাবে। কিন্তু ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, সেই আশার গুড়ে বালি। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন আগের মতোই মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। চালকদের আগের মতোই দীর্ঘ সময় লাইনে দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। বেশি দেওয়া যাচ্ছে না। তবে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা বিপিসি জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অকটেন ২০ শতাংশ বেশ এবং পেট্রল ও ডিজেল ১০ শতাংশ বেশি সরবরাহ করা হবে।
গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর পরীবাগের (১৭, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ) মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে কথা হয় মালিবাগ থেকে আসা বাইকচালক আবু বক্করের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ওই এলাকার ফিলিং স্টেশনে তেল পেতে লাইন আরও দীর্ঘ হয়েছে। তাই ভোগান্তি কমাতে এই পাম্পে আসি ১১টার পরে। ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর আগের মতোই ৫০০ টাকার তেল পেলাম। ট্যাংক ভরে তেল পেলাম না। বরং দাম বাড়ানোর কারণে আগের তুলনায় পরিমাণ কমে গেছে, কী করব। সরকার যা করে তাতে বলার কী আছে। আমরা বললেও তো কোনো কথা শুনবে না।’ শুধু আবু বক্করই নন, অন্য চালকরাও একই অভিযোগ করেছেন।
এই ফিলিং স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আহমাদ রুশদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘এটা সরকারি পাম্প। তাই সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ডিপো থেকে যা পাচ্ছি, সে অনুযায়ী চালকদের দিচ্ছি। বাইকে ৫০০ টাকার, তবে ফুয়েলপাস রেজিস্ট্রেশনকারীদের ১ হাজার ২০০ টাকার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ২ হাজার ও মাইক্রোবাসে ৩ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরাও চাই চালকরা বেশি করে তেল পাক। সরকার নির্দেশ দিলে আমরাও বেশি করে দিতে পারব।’
দুপুরে রমনা ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায়, পাম্প অপারেটররা বাইকে ৭০০ টাকার, ফুয়েলপাস রেজিস্ট্রেশনকারীদের ১ হাজার ২০০ টাকার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার তেল দিচ্ছেন।
মগবাজারের বাইকচালক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘৪ ঘণ্টা আগে মেট্রোরেলের নিচে লাইনে দাঁড়াই। চারদিক ঘুরে এখানে এসে ৭০০ টাকার তেল পেলাম। আরও বেশি পেলে ভালো হতো। সরকার অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এটা অনেক কিছু। সরকার যা ইচ্ছা করছে, আমরা অসহায়। কারণ আমি রাইড শেয়ার করি। দিনে ২ লিটার তেল লাগে মানে ৪০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।’
অন্য চালকরাও অভিযোগ করে বলেন, সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। অথচ চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। এটা দুঃখজনক। এ ফিলিং স্টেশনের অপারেটর মো. আরমান বলেন, ‘আমরাও চাই চালকদের বেশি করে তেল দিতে। তাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তাই একটু নিয়ম করেই দেওয়া হচ্ছে। সরকার সরবরাহ বাড়ালে আমরাও বেশি করে বিক্রি করতে পারব।’
রাজধানীর আসাদগেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় চালকদের দীর্ঘ লাইন। তারা অভিযোগ করেন, সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে। তার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তারা রোদে পুড়ে কলা, রুটি, চা খেয়েই পার করছেন দীর্ঘ সময়।
রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, নীলক্ষেত, কল্যাণপুর ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় একই দৃশ্য। তেল না থাকায় অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। তারপর চালকদের দীর্ঘ লাইন। এ ব্যাপারে কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. তোফাজ্জল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ডিপো থেকে আগের মতো দিনে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার অকটেন ও ৯ হাজার লিটার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। তাহলে আমরা কীভাবে বেশি করে তেল দেব? ডিপো থেকে সরবরাহ বাড়ালে আমরাও বেশি করে বিক্রি করতে পারব।’
তবে বিপিসি থেকে গতকাল খবরের কাগজকে জানানো হয়, বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আজ মঙ্গলবার থেকে ফিলিং স্টেশনে অকটেন ২০ শতাংশ, ডিজেল ও পেট্রল ১০ শতাংশ সরবরাহ বাড়ানো হবে।