মিরপুরে হজরত শাহ আলী বাগদাদী (রহঃ) এর মাজার শরিফে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর আমির ও ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলা আলহাজ হজরত মওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
তিনি দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
হজরত পীর ছাহেব কেবলা বলেন, এক সময় সমগ্র ভারতবর্ষের লোক পৌত্তলিক ও অমুসলিম ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমান শাসনের পোষকতায় সুদূর আরব, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন হতে এ দেশে অসংখ্য ওলী আউলিয়ার আগমন ঘটে। যাদের পরশ ছোঁয়ায় এ দেশের অধিকাংশ নির্যাতিত বর্ণ বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কল্যাণ লাভে ধন্য হয়।
বর্তমান বাংলাদেশের এমন কোন জনপদ নেই যেখানে কোন না কোন ওলীর মাজার নেই। এসব মাজারে শায়িত অনেকের ইতিহাস ও কারনামা বই পুস্তকে লিখিত এবং বংশ পরম্পরায় লোকমুখে পরিচালিত আছে। এখন কোন স্বার্থান্বেষী মহল কোন মাজারকে ঘিরে শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার মূলক কার্যকলাপ করলে বা করতে প্রশ্রয় দিলে সেজন্য মাজারের মালিক দায়ী নন, যে মাজার ভেঙে ফেলতে হবে। বরং এখানে যেন অনাচার না হতে পারে এজন্য ওয়াকফ স্টেট এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে।
কবর জিয়ারত একটি সুন্নতি আমল। বিশেষ করে আউলিয়ায় কেরামদের মাজার জিয়ারত করে মুসলমানগণ প্রকৃত কল্যাণ লাভ করতে পারে। তাই মাজারগুলোতে শরীয়ত সমর্থিত পন্থায় জিয়ারতের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢালাওভাবে মাজার পূজার অপবাদ দিয়ে মাজার জিয়ারত এবং আউলিয়ায়ে কেরামের রুহানি ফয়েজ ও তাওয়াজ্জুহ গ্রহণকে করা যাবে না।
হজরত পীর ছাহেব কেবলা ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিখ্যাত ওলী হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহঃ) এর মাজার শরিফে এমন ন্যাক্কার জনক হামলাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবি জানান। যাতে ভবিষ্যতে যেন কোনো দুর্বৃত্ত এমন অপকর্ম করতে সাহসী না হয়। পাশাপাশি তিনি মাজারগুলোতে ইসলামী পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর তাকীদ দেন।
এসএন/