শ্রমিকরা যদি না খেতে পারে তাহলে জুলাই-আগস্টের রক্তদান ব্যর্থ হয়ে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দিনমজুর-শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয়তাবাদী রিকশা-ভ্যান-অটো চালক দলের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আগের মতোই আছে। জনগণের দুর্ভোগ আগের মতোই রয়ে গেছে। এখনো যদি আলুর কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা থাকে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমতে থাকবে। কয়েকটি কোম্পানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন, এই সিন্ডিকেটকে কেন ধরছেন না? ডিমের দাম কেন আকাশচুম্বী থাকবে।’
এ সময় উপদেষ্টাদের হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যা ইচ্ছা তাই করবেন এটা মেনে নেওয়া হবে না। আপনারা চাকরিজীবীর মতো কাজ করছেন। যারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্পিরিটের সঙ্গে ছিলেন না, এমন ঘাপটি মেরে চুপচাপ থাকা লোকদের উপদেষ্টা বানানো হয়েছে। এদের কাজে বিপ্লবের গতিশীলতা নেই।’
তিনি বলেন, ‘একতরফা শেয়ারবাজার আত্মসাৎ, ব্যাংক লুটপাট করে টাকা পাচার করেছে সালমান এফ রহমান। শুনেছি কারাগারে তিনি খুব বহাল তবিয়তে আছেন। সেখানে থেকেই সে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। গার্মেন্টস সেক্টরসহ সব জায়গায় অস্থিতিশীল ও পথরোধ করার পেছেনে সালমান এফ রহমানের ভূমিকা রয়েছে। কারণ ৯০ ভাগ গার্মেন্টস মালিক আওয়ামী লীগ, তাদের সঙ্গে তার সঙ্গে সর্ম্পক রয়েছে। তিনি লুটেপুটে টাকা পাচার করে দেশকে সর্বশান্ত করে দিয়েছেন।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) একটি সংবাদ দেখলাম, বাংলাদেশে ব্যাংকে অফিসার কল্যাণ সমিতির নির্বাচন হয়েছে। সেখানে লীগপন্থিদের জয় হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকে কোনো রাজনৈতিক দল থাকতে পারে না। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারা এরা? দেশ থেকে টাকা পাচার করার পেছনে এই ঘাপটি মেরে থাকা লোকজনই জড়িত ছিল।’
এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে জুলাই বিপ্লবে হতাহতদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
শফিকুল ইসলাম/সুমন/এমএ/