ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ
Nagad desktop

নিষিদ্ধ হচ্ছে না, নির্বাচনে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:১৬ এএম
নিষিদ্ধ হচ্ছে না, নির্বাচনে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিদাওয়া যা-ই থাক, শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হচ্ছে না জাতীয় পার্টি (জাপা), বরং দলটি নির্বাচনে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে দলটি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই প্রস্তুতি থাকে। আমাদেরও একধরনের প্রস্তুতি আছে। তবে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব নির্বাচনের আগে। তখন পরিস্থিতি বুঝে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ 

বিভিন্ন হামলা-মামলায় ভড়কে না গিয়ে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা নির্বাচনের ট্রেনেই রয়েছেন বলে জানালেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। গতকাল মঙ্গলবার খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীরা ভোটের ব্যাপারে সচেতন বা ওয়াকিবহাল রয়েছেন। হামলার পরে পার্টি আরও শক্তিশালী হয়েছে। দলের মধ্যে একতা আরও বেড়েছে।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জোর দাবি জানালেও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির তাতে সায় নেই। এ কারণে শেষ পর্যন্ত জাপাকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। বিএনপির একাধিক নেতা খবরের কাগজকে বলেন, শুধু জাপা কেন; কোনো রাজনৈতিক দলেরই দমন-পীড়নের পক্ষে নন তারা। জাপাকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে অন্য দলগুলোর আন্দোলনকেও বিএনপি আমলে নিচ্ছে না। এ ছাড়া বিএনপি মনে করে, আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকলে আর জাপা অংশ না নিলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ চাওয়া ভয়ংকর চর্চা।  জাপাসংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের জবাবে গতকাল তিনি বলেন, ‘নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকে বিএনপি সমর্থন করে না। বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নির্ধারিত হতে পারে। এটা আদালত নির্ধারণ করবেন। এর জন্য আইন সংশোধন করা হয়েছে। এই আইন আগে ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আইন সংশোধনের পর এখন গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য যেকোনো দলের বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। আদালত সিদ্ধান্ত নিলে নির্বাচন কমিশন মানতে বাধ্য। এই প্রক্রিয়ার বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়াকে বিএনপি সমর্থন করে না।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘২০২৪ সালের নির্বাচনে ২৮টি দল অংশগ্রহণ করেছে। তাদেরও দোসর হিসেবে নিষিদ্ধ করতে চাইলে নির্বাচনটা কাদের নিয়ে হবে? নিজেদের অতিরিক্ত সুবিধার জন্য আরও অনেক দলের নিষিদ্ধ চাইতে পারে কেউ। তবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো দলের বিরুদ্ধে যদি একই অভিযোগ থাকে, সেটা আদালতে উত্থাপন করা যেতে পারে।’

সূত্র জানায়, জাপাকে ভাঙার প্রশ্নে কিছুদিন আগ পর্যন্ত ‘পর্দার আড়ালে’ নানা অপতৎপরতা জোরদার থাকলেও বিএনপির তাতে সায় না থাকায় এই দাবিটি দুর্বল হয়ে যায়। জাপা থেকে বহিষ্কৃত নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন অংশ এখন নিজেদের মধ্যে কিছুদিন পরপর ‌ঘরোয়া বৈঠক করলেও জাতীয় রাজনীতিতে এর তেমন কোনো প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে না।

তবে এমনই এক ঘরোয়া বৈঠকে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ গতকাল জামায়াতে ইসলামী কীভাবে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে, সেই প্রশ্ন তোলেন। তিনি ‌কয়েকটি রাজনৈতিক দলের জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিকে অনভিপ্রেত, অগণতান্ত্রিক এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য বিপজ্জনক আখ্যায়িত করে বলেন, যে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে জাতীয় পার্টি অতীতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল, সেই জামায়াত কীভাবে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে? বিষয়টি বিস্ময়কর ও দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জানা গেছে, দল ভাঙার প্রশ্নে বিএনপির সম্মতি না থাকা এবং জি এম কাদেরের শক্ত অবস্থানের কারণে তার নেতৃত্বে আপাতত ঐক্যবদ্ধই থাকছে জাপা। 

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, দল ভাঙার অপতৎপরতা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। এক-এগারোর সরকার, বিগত আওয়ামী লীগ এবং তার আগে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ও দল ভাঙার রাজনৈতিক চর্চা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেও বিএনপির প্রায় শতাধিক নেতাকে টোপ দিয়ে নির্বাচনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই চেষ্টা বড় ধরনের সফলতা পায়নি। দল ভাঙার অপতৎপরতায় খুব বেশি লাভবান হওয়া যায় না বলে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা আছে। 

সম্প্রতি কয়েক দফায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, যারা ভোটের আগে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, সেই অপশক্তি এখন জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। তারাই জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ করেছে। 

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মহাজোট সঙ্গী হিসেবে বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে সংসদে বিরোধী দলে বসায় জাপাকে নিয়ে দেশের রাজনীতিতে সমালোচনা আছে। বিএনপিসহ বেশির ভাগ দলই জাপাকে ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমাও দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তখন দলটির ভূমিকা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন। যদিও জি এম কাদের নির্বাচনের আগে থেকেই শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে আসছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি বলেছেন, গানপয়েন্টে তাকে নির্বাচনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে বিরোধী দলের নেতা হিসেবেও জাতীয় সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সভা-সেমিনার এবং বিবৃতিতে ছাত্রদের দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দলের সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যেতে বাধ্য হন তিনি। সরকার পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটির ভাগ্যে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা জোটে। দলটির একজন সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরে তাদের জেলেও পাঠানো হয়েছে। এসব ঘটনায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দমন-নিপীড়নের অভিযোগও এনেছেন। 

জাপার মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। নির্বাচনের আয়োজন করতে গেলে যে ধরনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা দরকার, সেসব কিছুর আলামত এখনো দেখছি না।’ 

জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশের মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। 

তিনি বলেন, ‘একদিকে ভোটের কথা বলবেন, অন্যদিকে আমাদের পার্টিকে ব্যান (নিষিদ্ধ) করার কথা বলবেন, তাহলে নির্বাচন আর অংশগ্রহণমূলক থাকল কোথায়? আমরা তাই মনে করি, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সরকারকে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।’ 

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলার ঘটনা রুখে দিতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকার বেকায়দায় পড়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন জাপা মহাসচিব। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি এখন তাদের ভোট ব্যাংক নিয়ে চিন্তা করছে। শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘যারা আমাদের পার্টি ব্যান করার কথা বলছে, তারা কেউ আমাদের ভোটার না। আমরা ভাবছি, আমাদের ভোটার এবং কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে। সমর্থকদের আশ্বাসের ভিত্তিতেই আমরা ভোটে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ 

জাতীয় পার্টিকে ভোটের মাঠে বাধা দেওয়া হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করেন জাপা মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘কেউ আমাদের বেআইনিভাবে অ্যাটাক করলে, বাধা দিলে, নিশ্চিতভাবে সেটা সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের নিদর্শন হবে না। সরকারকে তাই নিশ্চিত করতে হবে যেন ভোটের মাঠে আমাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ না হয়।’ 

আরও পড়ুন: >> তাহলে নির্বাচনটা কাদের নিয়ে হবে, প্রশ্ন সালাহউদ্দিনের

গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন
ফিনল্যান্ড বিএনপি

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত গণমুখী, জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নধর্মী ঐতিহাসিক বাজেট ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি।

শুক্রবার (১২ মে) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি, সাধারণ সম্পাদক জামান সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুল গাজী বলেন, এই বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণীত এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করবে।

তারা দেশের সার্বিক উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং জাতীয় অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

ফিনল্যান্ড বিএনপির নেতারা আশা করেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তামান্না রুপা/

বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বর্তমান কাঠামো দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে সক্ষম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।’

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের বিদ্যমান কর ও রাজস্ব কাঠামোর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের নজির নেই। বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে থেকে এ লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যাবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা পর্যালোচনা করে সে ধরনের কোনো কার্যকর সংস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘কয়েকটি পণ্যের ওপর কর হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।’

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনা নজিরবিহীন। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।’

বাজেটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বড় বাজেট মানেই বড় ব্যয়ের সুযোগ; আর সেখানে জবাবদিহিতা না থাকলে দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়ে। বাজেটে দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উল্লেখ নেই, যা উদ্বেগজনক।’

রিফাত/

জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ঢাকা মহানগর শাখা। 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বাজেটের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘অসম’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সমাবেশে বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে, তা মূলত ঋণনির্ভর। বাজেটের ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা এবং সুদ বাবদ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা সরকারের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইএমএফের পরামর্শে জনগণের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে, অথচ ধনীদের স্বার্থে উৎস কর কমানো হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির মতো জনকল্যাণমুখী খাতগুলো অবহেলিত রেখে সামরিকসহ অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।’

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে এটিকে ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ বা মহামারি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান তারা।’

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধেরও দাবি জানান বাসদ নেতারা। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দাসত্বের চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।

বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার ইনচার্জ নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, নগর নেতা আহসান হাবিব বুলবুল, জাকির হোসেন ও রুখসানা আফরোজ আশা। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন নগর নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

চট্টগ্রামে যুবলীগের মিছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
চট্টগ্রামে যুবলীগের মিছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
ছবি:সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর বায়েজিদ এলাকা থেকে এ মিছিলটি বের করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্থানীয়রা জানান, নামাজ শেষে হঠাৎ করেই কয়েকজন ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে সড়কে বের হয়ে আসেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মিছিলটি করেন, পরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। মিছিলটি বায়েজিদ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। মিছিলে কারা কারা ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

রিফাত/

সীমান্তে ‘পুশইন’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থি: চরমোনাই পীর

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
সীমান্তে ‘পুশইন’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থি: চরমোনাই পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। ছবি: খবরের কাগজ

সীমান্তে ভারতের ‘পুশইন’ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার আয়োজনে জেলা কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘সীমান্তে যে পুশইনের কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করছি, তা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও মানবতাবিরোধী। যেভাবে মানুষকে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। এ জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি বিজিবিকে ধন্যবাদ জানান।’

ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রেজাউল করীম বলেন, ‘এ ধরনের আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত আচরণ থেকে সরে এসে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। প্রয়োজনে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও আলোচনা হতে পারে।’

বাজেট প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ছাড়া কোনো বাজেট জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর-ভ্যাট দিচ্ছে। তাই জনগণের অর্থ কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। সরকার যদি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তাহলে দেশের ও মানুষের কল্যাণ হবে।’

রনি মিয়াজী/রিফাত/