বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বারের মতো বাকশালে পরিণত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল আ.লীগ। যেখানে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। মানুষের ভোটের এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল না। একটি অলিগার্ক শ্রেণী সৃষ্টি করে, সেই অলিগার্কের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকারকে ধ্বংস করে দিয়ে তারা একটি অপশাসন এবং স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছিল।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাঁতী দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে একটি পদ্ধতি রয়েছে, সেটি হলো নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই পদ্ধতি ব্যতিত বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দ্বিতীয় কোনো পদ্ধতি নেই।’
তিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে এই অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করেছে। আজকের সরকার যে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে, তার তিন বছর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন। দফাগুলো আমরা দেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করেছি। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আমাদের সংস্কার শেখার কোনো প্রয়োজন নেই।’
মঈন খান বলেন, ‘বিএনপি জানে, কিভাবে মানুষের কল্যাণ সাধন করতে হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে কিভাবে উন্নয়ন-উৎপাদনের রাজনীতি করতে হবে, বহুদলীয় গণতন্ত্র কিভাবে চালু রাখতে হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি পুনরায় এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ১৮ কোটি মানুষের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিএনপি সঠিক এবং ন্যায়ের পথে রাজনীতি করে। বিএনপি গুমু-খুনের রাজনীতি করে না। ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং দেশের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
মঈন খান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীন করা হয়েছিল। আমরা সেই বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চাই। আর এই অভিযাত্রায় বিএনপি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিএনপি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে যে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে আমরা একটি জিনিস চাই। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে লক্ষাধিক মিথ্যা গায়েবি মামলা দিয়েছিল। বিরোধী নেতা-কর্মীদের গুম-খুন, জুলুম-নির্যাতন করেছে। নেতা-কর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারেননি।’
আলোচনা সভায় তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব হাজী মুজিবর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুল ইসলাম/নাঈম