ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য স্বাগতিকের চোখে স্বপ্ন, প্যারাগুয়ের চোখে চমক শেষটায় মেসি-রোনালদোর প্রথম দ্বৈরথ দেখা যাবে? নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬ সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ
Nagad desktop

বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার বাকশালে পরিণত করেছিল আ.লীগ: মঈন খান

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৪ পিএম
বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার বাকশালে পরিণত করেছিল আ.লীগ: মঈন খান
ছবি: খবরের কাগজ

বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বারের মতো বাকশালে পরিণত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল আ.লীগ। যেখানে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। মানুষের ভোটের এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল না। একটি অলিগার্ক শ্রেণী সৃষ্টি করে, সেই অলিগার্কের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকারকে ধ্বংস করে দিয়ে তারা একটি অপশাসন এবং স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছিল।  

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাঁতী দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মঈন খান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে একটি পদ্ধতি রয়েছে, সেটি হলো নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই পদ্ধতি ব্যতিত বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দ্বিতীয় কোনো পদ্ধতি নেই।’

তিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে এই অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করেছে। আজকের সরকার যে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে, তার তিন বছর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন। দফাগুলো আমরা দেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করেছি। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আমাদের সংস্কার শেখার কোনো প্রয়োজন নেই।’

মঈন খান বলেন, ‘বিএনপি জানে, কিভাবে মানুষের কল্যাণ সাধন করতে হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে কিভাবে উন্নয়ন-উৎপাদনের রাজনীতি করতে হবে, বহুদলীয় গণতন্ত্র কিভাবে চালু রাখতে হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি পুনরায় এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ১৮ কোটি মানুষের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিএনপি সঠিক এবং ন্যায়ের পথে রাজনীতি করে। বিএনপি গুমু-খুনের রাজনীতি করে না। ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং দেশের মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

মঈন খান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীন করা হয়েছিল। আমরা সেই বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চাই। আর এই অভিযাত্রায় বিএনপি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিএনপি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে যে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে আমরা একটি জিনিস চাই। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে লক্ষাধিক মিথ্যা গায়েবি মামলা দিয়েছিল। বিরোধী নেতা-কর্মীদের গুম-খুন, জুলুম-নির্যাতন করেছে। নেতা-কর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারেননি।’  

আলোচনা সভায় তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব হাজী মুজিবর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শফিকুল ইসলাম/নাঈম

বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি
স্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে স্বাক্ষর করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে তার অফিস কক্ষে তিনি এ স্বাক্ষর করেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।

এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসএন/

ভাঙ্গায় পরীক্ষাকেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মারধর, এনসিপি নেতা আটক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ভাঙ্গায় পরীক্ষাকেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মারধর, এনসিপি নেতা আটক
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের গালাগালি ও মারধরের অভিযোগে উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. আশরাফ শেখকে আটক করে পুলিশ।  

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষকদের কক্ষে অবরুদ্ধ থাকা আশরাফ শেখকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আশরাফ শেখকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া দেয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি দৌড়ে কেন্দ্রসচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন। এ সময় ইটের আঘাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তসহ তিনজন আহত হন।

অভিভাবক ও কয়েকজন আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরুর আগেই আশরাফ শেখ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তার হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তাকে নানাভাবে সহায়তা করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবারও ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে তিনি তার হবু স্ত্রীকে সহায়তা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।

এ সময় একই কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা বিষয়টির প্রতিবাদ করলে আশরাফ শেখ নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের গালাগাল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে। বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা আশরাফ শেখকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি দৌড়ে কেন্দ্রসচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তসহ কয়েকজন আহত হন।

প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আশরাফ শেখের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইটের আঘাতে আমি আহত হই। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আশরাফ শেখের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা আশরাফ শেখকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/

কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহারকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার দাবি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০২:২০ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহারকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লা সদর আসনের পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য বাহাউদ্দীন বাহারের কথিত মাদরাসাবিরোধী বক্তব্য এবং কুমিল্লার জনগণের প্রতি হুমকিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কুমিল্লা জেলা কওমি মাদরাসা সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, শিক্ষা ব্যবস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কুমিল্লা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মুফতি শামছুল ইসলাম জিলানী বক্তব্য দেন।

এ সময় সংগঠনের নেতা, আলেম-উলামা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জিলানী বলেন, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি টকশোতে বাহাউদ্দীন বাহার দেশের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি কুমিল্লার জনগণকে হুমকি দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক গুণাবলি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। রাষ্ট্রস্বীকৃত এ শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর।

তারা বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি যদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা বা জনগণের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তাহলে তা জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।’

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আ. কুদ্দুস। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহসভাপতি ও মহানগর সভাপতি হা. মাও. মুনীর হুসাইন।

আরও উপস্থিত ছিলেন মাও. আনিসুর রহমান আশরাফী, হা. আজীজুল হক , মাও. তৈয়ব , মাও খলীলুর রহমান (সভাপতি আসলে সুন্নত ওয়াল জামাত ইমাম পরিষদ), মাও আবুল কাশেম, আবু তাহেরসহ জেলার বিভিন্ন স্তরের উলামায়ে কেরাম।

জহির শান্ত/থিও

পলাশবাড়িতে বিএনপি-জামায়াতের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০২:০০ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
পলাশবাড়িতে বিএনপি-জামায়াতের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
ছবি: খবরের কাগজ

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে পানহাটি দখলে নিতে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্য ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার পৌর শহরের ছোট শিমুলতলা গ্রামের পানহাটিতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানা গেছে,বেশ কিছুদিন ধরে পানহাটি দখলে নিতে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আগেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। একই সূত্র ধরে আজ (১১ জুন) সকালেও উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল খবরের কাগজকে বলেন, 'পানহাটি নিয়ে স্থানীয় একতা পানচাষী সমিতি ও জামায়াতের মেয়র প্রার্থী চাঁন মিয়ার মধ্য দ্বন্দ্ব  চলছে। এখানে বিএনপি জড়িত নয়'। 

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট শিমুলতলা এলাকার পানহাটি সংলগ্ন পলাশবাড়ি-ঘোরাঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুই দিকে দুই পক্ষের লোকজন অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। ভিডিওতে হাতে দেশীয় অস্ত্র (হাসুয়া), বাঁশের লাঠি নিয়ে নারায়ে তাকবির-আল্লাহু আকবার স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

একই সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফারণ হলে পথচারী ও স্থানীয়দের ছুটাছুটি করতে দেখা যায়। এ সময় পানহাটিতে থাকা দুটি গাছ এবং হাটের কয়েকটি পানের দোকান (ছাউনি) ভাঙার ঘটনাও ঘটে।

গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফ আল রাজিব খবরের কাগজকে বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরেই পানহাটি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। আজ সকালে পানহাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ককটেল না পটকা বিস্ফোরণ হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’  

উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক খবরেরর কাগজকে বলেন, ‘আমি জরুরি কাজে ঢাকায় মিনিস্ট্রিতে আছি। পানহাটির বিষয়ে কিছু জানি না।’   

এর আগে এই পানহাটির আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ২০ মে বিএনপি ও জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল বুকে চোট পেয়ে আহত হন এবং ৩০ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর পক্ষ থেকে সামিউলের মৃত্যুকে বিএনপির ওই সংঘর্ষকে দায়ী করা হলেও পরে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে, তার আগে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের দুই পক্ষ থেকেই পলাশবাড়ি থানায় মামলা করা হয়।

মিলন খন্দকার/খাদিজা রুমি/

হবিগঞ্জে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য: মাহদী ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
হবিগঞ্জে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মন্তব্য: মাহদী ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসান

হবিগঞ্জে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসান এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। 

এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধাওয়া ও হামলা চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন মাহদী হাসান। তবে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে জেলা ছাত্রদল।

জানা যায়, গত সোমবার (৮ জুন) বিকেলে মাহদী হাসান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ঐতিহাসিক গাদ্দারীর জন্য মেজর জিয়াউর রহমানকে প্রচণ্ডরকমভাবে অপছন্দ করি। কিন্তু বেগম জিয়া, এক অসাধারণ দেশপ্রেমিক মানুষ। জীবন শেষ হয়েছে হাসপাতালে। জেলের স্তব্ধ কুটিরের জীবন কাটিয়ে ও তিনি আপোষ করেননি। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।’

স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অনেকে মাহদী হাসানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের নেতা এনামুল হক মোরাদী ফেসবুকে লেখেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কটূক্তি করায় সমন্বয়ক মাহাদীর একটা হাত যে কাটতে পারবে, তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হবে।’
 
এছাড়া ছাত্রদল নেতা মোজাক্কির ইমন এক পোস্টে লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহাদীকে বলতে চাই, এখনও সময় আছে সংযত হন। সম্প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপনি যে মন্তব্যগুলো করেছেন, সেগুলো আমাদের মোটেও ভালো লাগেনি।’

বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব আশরাফুজ্জামান রিয়াজও এক পোস্টে মাহদীকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন ,‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। সম্প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে তুমি যে মন্তব্যগুলো করেছ, সেগুলো আমাদের মোটেও ভালো লাগেনি।’ 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফ শিমুল একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘মাহদী ভাইয়ের এলাকায় বিকেলের হাওয়া খাইতে গেছিলাম আমি আর ইমন। কিন্তু ভাইকে না পেয়ে হতাশ, আমরা ভাবছিলাম একটু চা খেয়ে আসবো ভাইয়ের সাথে।’

রিংগন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে শুরু করে লাইভ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিজেকে আলোচনায় আনা ও ভাইরাল হওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।’ 

মাহদী হাসান জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ হয়নি। তবে তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি ও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কাজল সরকার/খাদিজা রুমি/