ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মব সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার পাশাপাশি নির্বাচনে টাকার খেলা ও পেশিশক্তির দাপট বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবল সমালোচনা করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা।
গণভোটের প্রচারণা বন্ধ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রবিবার বিকেলে (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনে সিপিবির কাস্তে মার্কার প্রার্থী ত্রিদ্বীপ সাহার পক্ষে নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই সরকার কানে দিয়েছে তুলো, পিঠে দিয়েছে কুলো। তারা জনগণের কথা শুনছে না।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচার নিয়ে সরকার নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। প্রিন্স বলেন, ‘জুলাই সনদে উল্লিখিত ৪৮টি বিষয়ের বিষয়ে সাধারণ মানুষ জানে না। এ নিয়ে জারি করা অধ্যাদেশের আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যর্থ হলে দেশ নতুন সংকটে পড়বে। এর দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।’
সিপিবির প্রার্থী ত্রিদীপ সাহা বলেন, ‘এমপির নামে জমিদারিত্ব করার জন্য আমরা নির্বাচনে আসিনি। জনস্বার্থে আইন প্রণয়ন, অর্থনীতিকে সচল করা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
পরে ফকিরাপুল এলাকায় সিপিবির আরেকটি নির্বাচনি গণসংযোগে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সিপিবির প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাকে আইনগত অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, সবার জন্য কাজের নিশ্চয়তা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সম্পদের সুষম বণ্টনের মধ্য দিয়ে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কমিউনিস্ট প্রার্থীরা ভূমিকা রাখবে।
কমিউনিস্টরা সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধা বন্ধ করে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দেশের সর্বত্র সমান উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
জয়ন্ত সাহা/এসএন