এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড ধরিয়ে দিয়ে অন্য হাতে মা-বোনদের গায়ে হাত তুলবেন, তাদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন, এ কেমন ফ্যামিলি কার্ড? পরিষ্কার করে বলে রাখছি, নারীদের অসম্মান করলে জামায়াত কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুবকদের বেকার ভাতার দেওয়ার ঘোষণার মাধ্যমে একটি দল তাদের মেধাকে অপমান করেছে দাবি করে জামায়াতের আমীর বলেন, যুবকদের বেকার ভাতা দেওয়া মানে তাদের মেধাকে অপমান করা। জামায়াত চায় প্রতিটি যুবককে উন্নত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে, যাতে তারা কারো করুণার পাত্র না হয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, একটি দলের সীমাহীন চাঁদাবাজিতে ও এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর বাজার সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে, তবেই দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। আমরা একটি বৈষম্যহীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১টি দল এক হয়েছি।
বিগত দিনের রাজনৈতিক হয়রানির চিত্র তুলে ধরে জামায়াতে আমীর আরও বলেন, জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের ওপর নজিরবিহীন নির্যাতন চললেও আমরা বিনা অপরাধে কাউকে আসামি করিনি। অথচ এই দেশেই এমন অদ্ভুত মামলা হয়েছে যেখানে ৮টি মামলায় আসামি করা হয়েছে মাত্র ১ জনকে, আবার কোনো মামলায় সর্বোচ্চ আসামি করা হয়েছে ৯৮ জনকে। বিগত সরকার সাতক্ষীরাকে বাংলাদেশের অংশ মনে করতো না বলেই এখানকার মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি জুলুম করা হয়েছে। সাতক্ষীরার মাটিতে যে হত্যাকাণ্ড ও জুলুম চালানো হয়েছে, তার বিচার যদি দুনিয়াতে না হয়, তবে আখিরাতের আদালতে এর ফয়সালা হবেই।
এ সময় গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জামায়াত ইসলামের বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষ মুক্ত হলে আমরাও মুক্ত। ১৮ কোটি মানুষ যদি দালালের কারণে বিপদজনক পজিশনে যায়, আমরাও বিপদজনক পজিশনে পড়ে যাব। তাই ১২ তারিখ প্রথম সিলটি পড়বে ‘হ্যাঁ’ ভোটে। ‘হ্যাঁ’ অর্থ আজাদী, ‘না’ অর্থ গোলামি। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। আর জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে আমরা সম্মানের সঙ্গে সব পেশার, সব শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁচার পরিবেশ করে দেব। যারা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় দায়িত্ব পালন করেন, তাদের বেতন হবে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ তাদের বেতন কাঠানো চরম বেইনসাফি। ইনসাফ মানে এটা নয় যে সবাইকে সমান দিতে হবে। ইনসাফ মানে সবাইকে তার ন্যায্য পাওনা দিতে হবে। আমরা সেটাই করব।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর ইসলাম সাদ্দামসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও ১১ দলের নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে সাতক্ষীরা-১ আসনে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনে আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনে রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে শফিকুর রহমান তাদের জন্য ভোট প্রার্থণা করেন।
এর আগে জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢলে গোটা শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জাকির/নাঈম/