ছদ্মবেশী কিছু রাজনীতিবিদ সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়েন ক্ষমতাসীন দলে। গিরগিটি আত্মরক্ষার্থে রং বদলায় আর এসব রাজনীতিবিদ রং বদলায় স্বার্থ রক্ষার্থে! গণতন্ত্রের পূজারি নয়, এসব রাজনীতিক কখনো স্বৈরতন্ত্রের, আবার কখনো মাফিয়াতন্ত্রের গোলামি করে! এরা সুবিধাবাদী হয়ে সর্বদা ছোটে তদানীন্তন ক্ষমতাসীনের ছাতা ধরতে!
ট্রোজান হর্সের ধারণা রাজনীতিতে নতুন নয়। এটি এক রাজনৈতিক অপকৌশল যেখানে কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি তার আসল পরিচয় গোপন রেখে অপেক্ষাকৃত উদার এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য সংগঠনের নৈকট্যে আসে। তখন সাংগঠনিক শক্তি হ্রাস পায় এবং দল ভেতর থেকে দুর্বল হতে থাকে; কারণ দলে তো ট্রয়ের ঘোড়ার অনুপ্রবেশ ঘটে গেছে! ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থেচার ট্রোজান হর্সের নাম দিয়েছিলেন ‘এনিমি উইদিন’ বা ভেতরের শত্রু! এখানে শত্রু বন্ধুর বেশে আপনার পাশে থাকে আর আপনারই দেওয়া কম্বল গায়ে জড়িয়ে আপনার ঘর পুড়িয়ে দিতে চায়! প্রশ্ন হচ্ছে, কেন কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এমন ঘুরপথের আশ্রয় নেয়? মূলত এর পেছনে কাজ করে গভীর মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও কৌশলগত দূরদর্শিতা। এসব মুখোশধারীর মনোজগতে থাকে ভয়, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আত্মপ্রবঞ্চনা এবং গভীর হিসেবি এক সত্তার প্রতিচ্ছবি! আদতে এটি অস্তিত্বের সংকট থেকে সৃষ্ট জটিল এক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মুখোশধারীর মতাদর্শ আধুনিক উদারনৈতিক সমাজে প্রকাশ্যে ধারণ করাটা সামাজিক আত্মহত্যার শামিল।
কথায় আছে, ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’। ট্রোজান হর্স কৌশলের নেপথ্যে থাকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, মনস্তাত্ত্বিক কারসাজি এবং আদর্শিক ছদ্মবেশ! রাজনীতির ঘরানায় এরা যেন ‘শকুনি মামা’ কিংবা ‘দুমুখো সাপ’! রাজনৈতিক দলের উচিত দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা।
আসিফ আল মাহমুদ
ফ্রিল্যান্স রাইটার / কলামিস্ট, চট্টগ্রাম
[email protected]