আমাদের দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাবনাময় অংশ তরুণ প্রজন্ম আজ ক্রমেই রাজনীতির রোষানলে পড়ছে। যে বয়সটি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও আত্মগঠনের জন্য নির্ধারিত, সেই সময়টিই রাজনৈতিক সংঘাত, বিভাজন ও সহিংসতার শিকার হয়ে নষ্ট হচ্ছে। রাজনীতি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান হলেও বাস্তবতা হলো রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার করছে শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে। এতে করে তরুণরা একদিকে যেমন শিক্ষাজীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা ও মামলা-হামলার মতো ঝুঁকিতে পড়ছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে মানসিক আঘাতও পাচ্ছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য নষ্ট হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদ্বেষ, অপপ্রচার ও বিভাজনের শিকার হচ্ছে তরুণ সমাজ। এর ফলে গড়ে উঠছে এক ধরনের হতাশা ও অনিশ্চয়তা, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য মোটেও শুভ নয়। তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতির বাইরে রাখা নয়, বরং নৈতিক, সহনশীল ও গঠনমূলক রাজনীতিতে যুক্ত করাই হওয়া উচিত সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত বা অন্তত সহিংসতামুক্ত রাখা এবং তরুণদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক রোষানল থেকে রক্ষা করে একটি সুন্দর, নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার পথে অগ্রসর হবে।
মো. ফাহিম খান
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাইটার্স সোসাইটি
khanmdfahim470@gmail