গণমাধ্যমে কর্মরত নারীদের চলার পথ মসৃণ নয়। বেশির ভাগ টিভি চ্যানেলে নারী সাংবাদিক বা প্রতিবেদক নিয়োগে বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়! তাছাড়া, নীতিনির্ধারণী পদে নারীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে! সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে নেই নারীর অংশীদারত্ব। গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশ বদলাতে হলে পুরুষ সহকর্মীর সক্রিয় ও সহমর্মী সহযোগিতা প্রয়োজন। যে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানে নারীরা সমতা ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকে, সেই সমাজ ও প্রতিষ্ঠানকে ততটা উন্নত বলা হয়। নারী সাংবাদিকদের বিষয়ে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোকে আরও সংবেদনশীল ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এজন্য সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে নারীদের আরও বেশি করে নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন। কেবল একটি ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদক’ পদ তৈরি করে সেখানে একজন নারীকে বসিয়ে দিয়েই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সংবাদপত্র কিংবা টেলিভিশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোতে আরও বেশিসংখ্যক নারী থাকতে হবে।
গণমাধ্যমে নারীদের উপস্থিতি বাড়াতে হলে নিয়োগকর্তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের পাশাপাশি নিয়োগ নীতিমালায় স্বচ্ছতা আনা প্রয়োজন। আলাদা করে ‘নারী সাংবাদিক’ কথাটি নারীকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে! ‘নারী সাংবাদিক’ পরিচয়টি নারীকে তার পুরুষ সহকর্মীর চাইতে এক ধাপ নিচে নামিয়ে দিয়ে সমাজে নারীর অধস্তন ও তথাকথিত দুর্বল ভাবমূর্তিকে সামনে নিয়ে আসে! আমাদের সংবিধানে প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব স্তরে নারীর সমান ও পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আসিফ আল মাহমুদ
রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম
[email protected]