বর্তমানে মাটিদূষণ মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যা আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাটিদূষণ বলতে মাটিতে বর্জ্য বা বিষাক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের এমন উপস্থিতিকে বোঝায়, যা মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট করে এবং পরিবেশ ও জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। মাটির প্রাণ হলো তার উর্বরতা শক্তি। কৃষিক্ষেত্রে বিষাক্ত কীটনাশক, সার ও কেমিক্যালের ব্যবহার মাটির স্বাভাবিক উর্বরাশক্তিকে নষ্ট করছে। কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য যেমন সিসা, পারদ ইত্যাদি মাটির সঙ্গে মিশে মাটির পুষ্টি উপাদান হ্রাস করছে। যত্রতত্র পলিথিনজাতীয় দ্রব্য ফেলা হচ্ছে। এসব দ্রব্য মাটির সঙ্গে মিশতে প্রায় ১০০ বছরের মতো সময় লাগে। আমাদের কৃষিপ্রধান দেশে মাটিদূষণ অর্থনৈতিক সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। মাটিদূষণের ফলে মাটির উপকারী অণুজীব ধ্বংস হচ্ছে ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। দেশের আধুনিক নগরাঞ্চলে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন দেখা গেলেও মফস্বল বা গ্রাম এলাকাগুলোয় নেই পর্যাপ্ত ময়লা ফেলার স্থান। আবার, গ্রামের মানুষের মধ্যে মাটিদূষণ সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। ফলে মাটিদূষণের কারণে ভবিষ্যৎ বিপর্যয় নিয়ে তাদের নেই কোনো মাথাব্যথা। তাই মাটিদূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সবার মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি। মানুষ যদি মাটিদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হয় তবে তারা নিজেরাই পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসবে। কৃষিক্ষেত্রে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পকারখানায় বর্জ্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা জরুরি। গৃহস্থালি বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও মাটিদূষণ কমানো সম্ভব। সরকার ও পরিবেশবাদী সাংগঠনগুলোকে মাটিদূষণ রোধে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে অনুরোধ করছি।
মো. শাহরিয়ার সৌরভ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]