ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬ সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা
Nagad desktop

হিজাজ থেকে আগুন প্রকাশ কি কিয়ামতের আলামত?

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:১৬ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩২ এএম
হিজাজ থেকে আগুন প্রকাশ কি কিয়ামতের আলামত?
হিজাজ অঞ্চলের মানচিত্র। ইন্টারনেট

হিজরি ৬৫৪ (মোতাবেক ১২৫৬ ঈসাব্দ) সালের জুমাদাল উখরা মাসের শুরুতে মদিনার পূর্ব দিকের পাহাড় থেকে ভয়ংকর শব্দ বের হতে থাকে। সোমবার থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ দিন অহর্নিশ মদিনাবাসী এই আওয়াজে প্রকম্পিত থাকে। শুক্রবারে সেখানে কিয়ামত-সদৃশ অবস্থা সৃষ্টি হয়। উহুদের আশপাশের পাহাড়গুলোয় দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ধীরে ধীরে আগুনের পরিমাণ ও পরিধি কেবল বেড়েই চলে। কয়েক মাইল পর্যন্ত এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দিন যায় সপ্তাহ যায়; আগুন সমানভাবে প্রজ্বলিত থাকে। একসময় মাস কেটে যায়; কিন্তু আগুন নেভে না। উহুদ পাহাড়ের আশপাশের উপত্যকাগুলো আগুনে ভরে যায়। ভয়ংকর স্ফুলিঙ্গ সামনের সবকিছু খেয়ে ফেলতে থাকে। পাথরের পাহাড়গুলো একের পর এক পুড়ে কয়লা হয়ে যেতে থাকে। মদিনাবাসীর এই দিনগুলোয় ঘরে কোনো প্রদীপের দরকার হতো না। বলা হয়, মক্কা থেকে মানুষ এ আগুনের ঝলক দেখতে পেত। তাইমায় বসে এ আগুনের আলোতে মানুষ লিখতে পারত। শামের বুসরা শহরের মানুষ এ আগুনের আলোয় নিজেদের উটের ঘাড় দেখতে পেত। মদিনাবাসী নবিজির মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তাওবা ও কান্নাকাটি করতে থাকে। আল্লাহর রাসুলের কবরের কাছে বসে দোয়া ও ইসতিগফার করতে থাকে। গোলাম ও দাস আজাদ করে। যার যা সাধ্য দান-সদকা করতে থাকে। প্রায় দুই মাস ধরে জ্বলার পরে আল্লাহর অনুগ্রহে আগুন নিভে যায়। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ২৯৮-২৯৯; শারহু মুসলিম, ইমাম নববি, খণ্ড: ১৮, পৃষ্ঠা: ২৮)

এ আগুন মূলত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছিল
এটা কোন ধরনের আগুন ছিল? ইতিহাসের প্রাচীন গ্রন্থগুলো পড়লে এটাকে এক বিরল বা অস্বাভাবিক আগুন মনে হবে; কিন্তু ইতিহাসের পাশাপাশি ভূগোল ও প্রকৃতিবিষয়ক বইগুলো সামনে রাখলে আমরা দেখব—এটা অস্বাভাবিক কোনো আগুন নয়; বরং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছিল। সে সময়ে এসব পরিভাষা প্রচলিত না থাকায় এবং পরিণতির দিকে লক্ষ করে হাদিসে আগুন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আলেম ও ঐতিহাসিকরাও তাদের গ্রন্থাবলিতে এটাকে আগুন শব্দে প্রকাশ করেছেন।

সৌদি আরবের মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত ‘হাররায়ে রাহাত’ অঞ্চল একটি লাভাময় ভূমি; বরং এটা সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরি ও লাভাপূর্ণ অঞ্চল। শত শত কিলোমিটার বিস্তৃত এ অঞ্চলে কয়েকশ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ রয়েছে। তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী এই আগ্নেয়গিরিগুলো ঘুমন্ত ছিল। অতঃপর ৬৫৪ হিজরিতে এখানে প্রচণ্ড ভূমিকম্প হয় এবং ‘মালসা’ পর্বতের ঘুমন্ত এক আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠে। সমুদ্রের জোয়ারের মতো প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে এর লাভা মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে পড়ে। বলা হয়ে থাকে প্রায় ২৩ কিমি পর্যন্ত দূরত্বে এর লাভা পৌঁছে গিয়েছিল। সামছুদির বর্ণনায় এসেছে, এই আগুন উত্তাল সমুদ্রের মতো দেখাচ্ছিল। মক্কা ও (শামের) বুসরা থেকে এটা দেখা গিয়েছিল।

প্রায় দুই মাস ধরে জীবন্ত থেকে গর্জন ও লাভা বিস্তারকারী এমন একটি ভয়ংকর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত তখন পৃথিবীর নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এমন ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতের আগুন মক্কা কিংবা শামের বুসরা শহর থেকে দেখা যাবে, এটাও অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। ফলে সে যুগের লোকজন দূরদূরান্ত থেকে এটা দেখতে ছুটে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী এটা নিজ নিজ গ্রন্থে বর্ণনা করে। আবু শামা লেখেন, ‘হাররাতে (রাহাতে) যখন এই বিশাল আগুন বের হয় আমরা আমাদের ঘর থেকে সেটা দেখতে পাওয়া শুরু করি। এত বিশাল আগুন ছিল যে, মনে হচ্ছিল এই তো আমাদের সামনেই। তিনটি মিনার একসঙ্গে রাখলে যতটুকু উঁচু হবে আগুনের লেলিহান শিখা তত ওপরে পৌঁছে গিয়েছিল। অতঃপর সেটা উপত্যকাগুলোয় পানির মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকে (অর্থাৎ লাভাতে)। শাজা উপত্যকা (সেই লাভাতে) সম্পূর্ণ ভরে সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আমরা একটু কাছাকাছি গিয়ে দেখতে পাই পাহাড়গুলো থেকে আগুন যেন বেয়ে বেয়ে পড়ছে...। এটা যেন আল্লাহর সেই বাণীর বাস্তবায়ন ছিল, ‘সেটা অট্টালিকা সদৃশ বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করে। যেন তা পীতবর্ণ উট্টশ্রেণি।’ (সুরা মুরসালাত, আয়াত: ৩২-৩৩)
 
আবু শামার কথাতে সুস্পষ্ট, তিনি আগুনের কথা বলতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতই বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন হলো, এটা কি সেই আগুন, যার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না হিজাজ-ভূমি থেকে একটি আগুন বের হবে, যার আলোতে বুসরার উটের ঘাড় দেখা যাবে।’ (বুখারি, হাদিস: ৭১১৮) 

এটা কি সেই আগুন, যার ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো, একটি প্রচণ্ড আগুন, যা মানুষকে পূর্ব দিক থেকে তাড়িয়ে পশ্চিম দিকে নিয়ে সমবেত করবে!’ (বুখারি, হাদিস: ৩৩২৯) 

আমরা দেখব এক্ষেত্রে আলেমদের মাঝে মতদ্বৈধতা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ উভয়টিকে এক আগুন বলেছেন। যেমন বুখারি (রহ.) প্রথমোক্ত হাদিসটিতে আগুনের আলোতে বুসরা শহরে উটের ঘাড় দেখা যাওয়ার কথা বলেছেন। পেছনে আমরা উল্লেখ করেছি, এটা সপ্তম হিজরিতে সংঘটিত হয়েছে। অথচ বুখারি উক্ত হাদিসের শুরুতে আনাস (রা.) থেকে মুআল্লাক সূত্রে বর্ণনা করেছেন, কিয়ামতের প্রথম আলামত হলো, একটি আগুন বের হওয়া, যা মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে নেবে! ফলে স্পষ্ট, বুখারি দুটো হাদিসকেই একই আগুন মনে করতেন। একইভাবে তিরমিজিও ওপরের (দ্বিতীয়) হাদিসের শিরোনাম লিখেছেন, ‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না হিজাজ থেকে একটি আগুন বের হয়।’ অথচ হাদিস উল্লেখের ক্ষেত্রে তিনি ‘মানুষকে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে জড়ো করবে’ এটাই উল্লেখ করেছেন। 

বোঝা গেল, তাদের কাছে দুটো আগুনই এক ও অভিন্ন ঘটনা। কিয়ামতের একক নিদর্শন। তারা দুটোকে আলাদা আলাদা আগুন মনে করেননি। এটার যথেষ্ট কারণও আছে। কারণ উক্ত অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছিল হিজরি সপ্তম শতাব্দীতে। অন্যদিকে এসব মুহাদ্দিস তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে চলে গেছেন। অর্থাৎ তারা উক্ত অগ্ন্যুৎপাত দেখেননি। ফলে সব হাদিসে একই অগ্ন্যুৎপাতের কথা মনে করেছেন।

বিপরীতে যেসব আলেম সপ্তম হিজরিতে আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠার সময় কিংবা পরবর্তী সময়ে এসেছেন, তারা যখন দেখলেন মালসার অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা হাদিসে বর্ণিত আগুনের সঙ্গে শতভাগ মিলে যাচ্ছে, তখন তারা কিছু হাদিসকে উক্ত ঘটনার ওপর প্রয়োগ করলেন (যেগুলোতে কেবল হিজাজের আগুন এবং বুসরা থেকে সেটা দেখতে পাওয়া কথা এসেছে) আর কিছু হাদিসকে পৃথিবী বিলুপ্তির চূড়ান্ত সময়ে প্রকাশিত কিয়ামতের আলামত হিসেবে রাখলেন (যেগুলোতে মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে সমবেত করার কথা এসেছে)।

এটাই অধিকতর বিশুদ্ধ। হাদিসের গভীরে গেলে যেমন হাদিসগুলোর মাঝে পার্থক্য চোখে পড়ে, একইভাবে ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখলেও পার্থক্য স্পষ্ট হয়। কারণ হিজাজের আগুনের ক্ষেত্রে হাদিসে বলা হয়েছে, বুসরা শহর থেকে আগুন চোখে পড়বে এটুকুই। অর্থাৎ এটার উৎস ও স্থান হবে হিজাজ। যা পরবর্তী সময়ে মদিনার হাররায়ে রাহাত হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল। বিপরীত অন্য আগুনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ‘সব মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে নেবে।’ এটা হয়তো পৃথিবীর একাধিক জায়গায় একসঙ্গে শত শত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হবে কিংবা কুদরতি আগুন হবে, যা প্রকাশের আগ-পর্যন্ত সেটার প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারব না। 

মোটকথা, সপ্তম হিজরির অগ্ন্যুৎপাতের ক্ষেত্রে এমন হয়নি; বরং তা মদিনা ও আশপাশের অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। আজও সেখানের প্রকৃতিতে যার সুস্পষ্ট ছাপ বিদ্যমান। ফলে হাদিসে বর্ণিত দুটো অভিন্ন আগুন নয়; বরং ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা। এক নিদর্শন নয়; বরং দুটো স্বতন্ত্র নিদর্শন। 

লেখক: আলেম ও গবেষক

হাদিস যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি চোখ বুজে কল্পনা করুন, আপনি কয়েকজন বন্ধু বা পরিবার নিয়ে এক কোনায় বসে আল্লাহর প্রশংসা করছেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশ থেকে ডানা মেলে একদল ফেরেশতা এসে আপনাদের চারপাশে ঘিরে ধরলেন! শুধু কি তাই? তাদের ডানার বিস্তার ছড়াতে ছড়াতে একেবারে প্রথম আসমান পর্যন্ত পৌঁছে গেল এবং স্বয়ং মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহর কাছে আপনাদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হলো! এটি কোনো কাল্পনিক রূপকথা নয়, বরং আধ্যাত্মিক জগতের এক পরম বাস্তব। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জিকিরের মজলিসের এমন এক অনন্য অদৃশ্যের খবর দিয়েছেন, যা শুনলে যেকোনো মানুষের হৃদয় ঈমানের আলোয় আন্দোলিত হয়ে উঠবে।

মহাবিশ্বে আল্লাহর এমন কিছু বিশেষ ফেরেশতা আছেন, যাদের একমাত্র দায়িত্বই হলো দুনিয়ার বুকে কোথায় আল্লাহর নাম নেওয়া হচ্ছে তা খুঁজে বের করা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর অতিরিক্ত কিছু ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা আছেন, যারা ঘুরেফিরে জিকিরের মজলিস খুঁজতে থাকেন। যখন তারা এমন কোনো সম্প্রদায় বা মজলিস পেয়ে যান, তখন একে অপরকে ডেকে বলেন, ‘এসো, তোমাদের উদ্দেশ্যের দিকে।’ অতঃপর তারা নিজেদের ডানা দিয়ে তাদেরকে প্রথম আসমান পর্যন্ত ঢেকে ফেলেন। (বুখারি, ৬৪০৮; মুসলিম, ২৬৮৯)


যখন বান্দারা জিকির শেষ করে, তখন ফেরেশতারা আসমানে আরোহণ করেন। তখন আল্লাহতায়ালা সবকিছু জানা সত্ত্বেও ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার বান্দারা কী বলছিল?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তারা আপনার তাসবিহ, তাকবির ও তাহমিদ (প্রশংসা) করছিল।’ তখন আল্লাহ ও ফেরেশতাদের মধ্যে এক চমৎকার প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে:

আল্লাহ: তারা কি আমাকে দেখেছে?

ফেরেশতা: না, হে প্রতিপালক! তারা আপনাকে দেখেনি।

আল্লাহ: কেমন হতো যদি তারা আমাকে দেখত?

ফেরেশতা: তারা আপনাকে দেখলে আরও বেশি ইবাদত ও তাসবিহ করত।

আল্লাহ: তারা কী চায়?

ফেরেশতা: তারা আপনার জান্নাত চায় এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ (আশ্রয়) চায়।

আল্লাহ: তারা কি জান্নাত বা জাহান্নাম দেখেছে?

ফেরেশতা: না, তারা দেখেনি।

আল্লাহ: কেমন হতো যদি তারা তা দেখত?

ফেরেশতা: দেখলে তারা জান্নাতের জন্য আরও বেশি ব্যাকুল হতো এবং জাহান্নামকে আরও বেশি ভয় করত।

তখন আল্লাহতায়ালা এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের সবাইকে মাফ করে দিলাম, তাদের চাওয়া পূরণ করলাম এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলাম। ( বুখারি, ৬৪০৮; তিরমিজি, ৩৬০০)

এই হাদিসের সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং একদম নতুন যে দিকটি আমাদের চোখ খুলে দেয়, তা হলো আল্লাহর ক্ষমার এক পরম উদারতা। ফেরেশতারা তখন আল্লাহকে বলেন, ‘হে প্রতিপালক! ওই মজলিসে অমুক নামের একজন চরম পাপী লোক ছিল, সে আসলে জিকির করতে বসেনি, বরং নিজের একটা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এমনিই তাদের সাথে এসে বসেছিল। আল্লাহতায়ালা তখন উত্তর দেন, আমি তাকেও ক্ষমা করে দিলাম! কারণ তারা এমন এক দল, যাদের পাশে যে এসে বসে, সেও কখনো বঞ্চিত বা হতভাগা হয় না। (মুসলিম, ২৬৮৯; মুসনাদে আহমাদ, ৭৩৭৬)

এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, ভালো মানুষের পাশে বসার মূল্য আল্লাহর কাছে কত বেশি। আপনি হয়তো নিজে অনেক বড় ইবাদতকারী নন, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তাদের সান্নিধ্যে থাকলে আপনার অজান্তেই আপনার জীবনের পাপের খাতা শূন্য হয়ে যেতে পারে। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মের নামে নতুন কিছু যোগ করা কি সত্যিই পুণ্য, নাকি তা বিনাশের কারণ? ইসলামের মূল সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে চিরন্তন দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, বর্তমান সমাজে তা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষের তৈরি মনগড়া রীতিনীতি কীভাবে দ্বীনের আলো থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, তারই এক প্রামাণ্য চিত্র উঠে এসেছে নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহে।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে নতুন কোনো সংযোজনের সুযোগ নেই। উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০)।

অর্থাৎ, ইবাদত মনে করে দ্বীনের মাঝে নিজস্ব কোনো নিয়ম তৈরি করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। জাবের (রা.) বর্ণিত অন্য এক হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবায় বলতেন, শ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত মুহাম্মাদের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি (বিদ‘আত) এবং প্রত্যেক বিদ‘আতের পরিণতিই হলো পথভ্রষ্টতা ও জাহান্নাম (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১; নাসাঈ হা/১৫৭৮)।

ইসলামে প্রথার চেয়ে বিশ্বাসের শুদ্ধতা বড়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে জানা যায়, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি তিনজন:

১. হারামে নিষিদ্ধ কাজ বা সীমা লঙ্ঘনকারী।

২. ইসলামের ভেতরে এসেও জাহেলি যুগের রীতিনীতি বা কুসংস্কার চালু করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি।

৩. অন্যায়ভাবে কারও রক্তপাতকারী (বুখারি, মিশকাত হা/১৪২)।

ইসলামি আদর্শের বাইরে যেকোনো মনগড়া উৎসব বা অন্ধ অনুকরণই যে জাহেলিয়াত, তা এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী। একদা ফেরেশতারা তাঁর নিদ্রিতাবস্থায় (যার অন্তর জাগ্রত ছিল) একটি রূপক উদাহরণ দেন যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন করলেন এবং দূত পাঠালেন। যারা দূতের ডাকে সাড়া দিল, তারা ভোজ অংশ নিল।

এখানে গৃহটি হলো জান্নাত আর আহ্বানকারী স্বয়ং মুহাম্মাদ (বুখারি, মিশকাত হা/১৪৪)। সুতরাং, রাসুলের অবাধ্য হয়ে জান্নাতে প্রবেশের কোনো বিকল্প পথ নেই। ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক মর্মস্পর্শী বক্তব্য দিলেন যা শুনে সাহাবিদের চোখ অশ্রুসজল হলো। বিদায়ী এই উপদেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বহু মতভেদ প্রকাশ পাবে।

তখন তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে... মাড়ির দাঁতসমূহ দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। (আহমাদ, আবু দাঊদ, তিরমিজি, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৬৫)। ধর্মের নামে প্রচলিত সব কুসংস্কার ও বিদ‘আত বর্জন করে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের দেখানো খাঁটি সুন্নাহর পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত?

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
রাসুল (সা.)-এর পিঠে কেমন ছিল মোহরে নবুওয়াত?
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি জানেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিঠে এমন এক অলৌকিক চিহ্ন ছিল, যা দেখে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের পণ্ডিতরা তাঁকে শেষ নবি হিসেবে চিনে নিতেন? কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর দুই কাঁধের মাঝের সেই পবিত্র ‘মোহরে নবুওয়াত’, যা দেখে সাহাবিদের চোখ আটকে যেত?

মোহরে নবুওয়াত হলো মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অবয়বে দেওয়া এক অনন্য সিলমোহর ও নবুওয়াতের চূড়ান্ত নিদর্শন। এটি ছিল তাঁর দুই কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত একটি বিশেষ কুদরত।

সাহাবিরা বিভিন্ন সময়ে এই মোহরে নবুওয়াত অত্যন্ত কাছ থেকে অবলোকন করেছেন। বিখ্যাত সাহাবি সা’ইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) তাঁর শৈশবের এক স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বলেন, একবার তাঁর খালা তাঁকে নিয়ে নবিজি (সা.)-এর কাছে যান। নবিজি (সা.) তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন এবং অজু করেন। সা’ইব বলেন, ‘আমি তাঁর অজুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম এবং তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সহসা তাঁর দুই কাঁধের মধ্যস্থিত মোহরে নবুওয়াতের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে, যা দেখতে পাখির (কবুতরের) ডিমের মতো।’ (সহিহ বুখারি, ১৯০; সহিহ মুসলিম, ৬২৩৩)

এই চিহ্নের রং ও অবয়ব কেমন ছিল, তা আরও স্পষ্ট জানা যায় হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে মোহরে নবুওয়াত দেখেছি। আর তা যেন ছিল ডিমের মতো লাল গোশতপিণ্ড।’ (সহিহ মুসলিম, ৬২৩০; মিশকাত, ৫৭৭৯)

নবিজি (সা.)-এর এই সিলমোহরটি দেখার জন্য সাহাবিদের মনে প্রবল আগ্রহ থাকত। আনসারি নারী সাহাবি হজরত রুমায়সা (রা.) বলেন, ইসলামের মহান বীর সা’দ ইবনে মুয়াজ (রা.)-এর ওফাতের দিন রাসুল (সা.) এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন যে, সা’দের মৃত্যুতে রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে। রুমায়ছা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন এ উক্তি করেন তখন আমি তাঁর এত নিকটে ছিলাম যে, ইচ্ছে করলে তাঁর মোহরে নবুওয়াত চুম্বন করতে পারতাম।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২৬৮৩৬; মু’জামুল কাবীর, ২০১৬৫)

মোহরে নবুওয়াতের গঠনশৈলী নিয়ে আরেকটি চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায় আবু জায়েদ আমর বিন আখতাব আনসারি (রা.)-এর হাদিসে। নবিজি (সা.) একবার তাঁকে ডেকে বললেন, ‘হে আবু জায়েদ! আমার কাছে এসো এবং আমার পৃষ্ঠদেশে হাত বুলাও।’ তিনি যখন পিঠে হাত বুলাচ্ছিলেন, তখন তাঁর আঙুলগুলো সেই মোহরে নবুওয়াতের ওপর গিয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সেই মোহরটি আসলে কেমন ছিল? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তা ছিল এক গুচ্ছ কেশ।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২২৯৪০; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪১৯৮)

মুহাদ্দিসিনদের মতে, সেই গোশতপিণ্ডের ওপর বা তার চারপাশে একগুচ্ছ সুবিন্যস্ত চুল ছিল, যা দূর থেকে বা স্পর্শ করলে চুলের গুচ্ছের মতোই অনুভূত হতো। এটি কোনো শারীরিক ত্রুটি ছিল না, বরং ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে খোদাই করা এক পরম সৌন্দর্য, যা কেবল শেষ নবির ভাগ্যেই জুটেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?
ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতাবশত বিছানা, কাঁথা বা কম্বলে নাপাকি লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে শিশুদের প্রস্রাব বা অন্য কোনো কারণে ভারী তোশক বা জাজিম অপবিত্র হয়ে পড়লে তা ধুয়ে পরিষ্কার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় ওই ঘরে বা বিছানায় নামাজ আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে মুসল্লিদের মনে অনেক সময় সংশয় তৈরি হয়। ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে।

যদি বড় কোনো কাঁথা বা কম্বলের নির্দিষ্ট এক অংশে নাপাকি লাগে, তবে এর অপর ‘পাক’ বা ঘরের পবিত্র অংশে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েজ। অর্থাৎ, পুরো কাপড়টি ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়; বরং যেখানে নাপাকি নেই সেখানে সিজদা করা এবং দাঁড়ানো যাবে। তবে শর্ত হলো, নাপাক অংশের আর্দ্রতা যেন পবিত্র অংশে স্থানান্তরিত না হয়।

ভারী তোশক, জাজিম বা ম্যাট্রেস যা সচরাচর ধোয়া সম্ভব হয় না, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিধান কিছুটা ভিন্ন। যদি তোশকের এক পিঠে নাপাকি লাগে এবং এর অপর পিঠে নাপাকির কোনো রং, গন্ধ বা ভেজা ভাব প্রকাশ না পায়, তবে ওই অপর পিঠে নামায আদায় করা যাবে। ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৬২) ও রদ্দুল মুহতার (১/৪০২) অনুযায়ী, নাপাকির প্রভাব অপর পিঠে না পৌঁছালে তা ব্যবহারের জন্য পবিত্র বলে গণ্য হবে।

যদি তোশক বা জাজিমের নাপাকি শুকিয়ে যায় কিন্তু তা ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে এর ওপর একটি পবিত্র জায়নামাজ বা মোটা কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। এতে নিচের নাপাকি নামাযে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ও আসসিআয়া-র বর্ণনা অনুযায়ী, শুকনো নাপাকির ওপর পবিত্র স্তর থাকলে তা ইবাদতের জন্য বাধা নয়।

পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। ভারী আসবাবপত্র পরিষ্কারের জটিলতা বিবেচনায় ফকিহগণ যে শিথিলতা দিয়েছেন, তা আমাদের ইবাদতকে সহজতর করে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সম্ভব হলে নাপাক স্থানটি মুছে নেওয়া বা রোদে শুকিয়ে নেওয়া উত্তম।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ
ছবি: সংগৃহীত

আজকের সমাজে মেকি জৌলুস আর চাটুকারিতার জোরে যখন কোনো মিথ্যাবাদী বা কপট ব্যক্তি সমাজের চালকের আসনে বসে, তখন আমরা অনেকেই তা স্বাভাবিকভাবে নিই। কিন্তু এর আধ্যাত্মিক প্রভাব কতটা ভয়াবহ? রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তোমরা মোনাফিককে নেতা হিশেবে গ্রহণ করো না; কারণ যখন কোনো ব্যক্তি একজন মিথ্যুক মোনাফিককে ‘হে আমার নেতা!’ বলে সম্বোধন করে, সে তখন তার প্রতিপালককে রাগান্বিত ও অসন্তুষ্ট করে তোলে (আবু দাউদ হা/৪৯৭৭; তারগীব হা/৪১৭৫)।

আধুনিক করপোরেট বা সামাজিক ডিলিংসে আমরা ‘ইনটিগ্রিটি’ বা সততার বড্ড অভাব দেখি। রাসুল (সা.) পাক্কা মোনাফিকের চারটি স্বভাবের কথা বলেছেন, যা আজকের সমাজের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আমানতের খিয়ানত করা, কথায় কথায় মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং কোনো কারণে কারও সঙ্গে বিবাদ বা ঝগড়া বাধলে অত্যন্ত নোংরা ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০)।

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অসত্য বা সাজানো খবর মুহূর্তেই দেশজুড়ে ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। কিন্তু এই সস্তা প্রচারের আড়ালে কী ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে? হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত এক দীর্ঘ ও অলৌকিক হাদিসে রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি স্বপ্নের বিবরণ পাওয়া যায়। সেখানে তিনি দেখেন, এক ব্যক্তির গালে লোহার সাঁড়াশি ঢুকিয়ে তা গর্দানের পিছন পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছে। সঙ্গী ফেরেশতাদ্বয় জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) রাসুলকে জানান–এই ব্যক্তি দুনিয়ায় এমন মিথ্যা বলত, যা মুহূর্তেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। কিয়ামত পর্যন্ত তার এই শাস্তি চলতে থাকবে (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

আজকের যুগে আমরা অনেকেই রাতে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে ঘুমিয়ে যাই, কিন্তু পবিত্র গ্রন্থের কোনো আমল আমাদের জীবনে থাকে না। রাসুলের দেখা সেই স্বপ্নে আরও ছিল, ভারী পাথর দিয়ে এক ব্যক্তির মাথা চূর্ণ করা হচ্ছিল, কারণ সে কোরআন শিক্ষা করার পরও তা থেকে গাফেল হয়ে রাতে ঘুমাত এবং দিনেও নির্দেশ মেনে চলত না। এ ছাড়া তন্দুরের মতো সংকীর্ণ অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষের জ্বলন্ত চিৎকার ছিল ব্যভিচারী বা জেনাকারীদের শাস্তি এবং রক্তের নদীতে পাথরের আঘাতে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তিটি ছিল সমাজের রক্তচোষা সুদখোর (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

রাসুল (সা.)-এর দেখা এই অলৌকিক স্বপ্নের শেষে জান্নাতে সাধারণ মুমিন ও শহিদদের মনোরম আবাসন এবং জাহান্নামের দারোগা মালেককেও দেখানো হয়। সমাজকে সুন্দর করতে এবং হাশরের সেই ভয়ংকর শাস্তি থেকে বাঁচতে আজই আমাদের মিথ্যা, খিয়ানত আর মোনাফিকির পথ পরিহার করা উচিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক