এক বৈঠকে বিনা ভুলে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা উস্তাদকে মুখস্থ শুনিয়েছেন তিন কিশোর।
সম্প্রতি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ডে জামিয়া কাশিফুল উলুম হিফজুল কোরআন বিভাগের তিন শিক্ষার্থী মাদরাসার উস্তাদকে পুরো কোরআন পড়ে শুনান।
তারা হলেন, বরিশালের বরগুনার তামিম দারী (১০), ঢাকার কামরাঙ্গিচরের আব্দুর রহমান (১০) ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের সাদ (১১)। তারা সহপাঠী।
জানা গেছে, জামিয়া কাশিফুল উলুম ঢাকায় এ বছর হিফজ সমাপন করছে ২১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তামিম দারী, আব্দুর রহমান ও সাদ এই অনন্য কৃতীত্বের অধিকারী হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আরও ৫জন শিক্ষার্থী একই বৈঠকে বিনা ভুলে পুরো কোরআন শুনানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি তারা আরবি ও বাংলা পড়ছে।
জামিয়া কাশিফুল উলুম ঢাকার হিফজ শাখার বিভাগীয় প্রধান হাফেজ মাওলানা মুফতি তানভীর আহমদ বলেন, 'নামাজের সময়টুকু আর খাবারের সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়া ফজরের পর থেকে টানা ১৮ ঘণ্টায় পূর্ণ কোরআন শুনালো হাফেজ তামিম, হাফেজ আব্দুর রহমান ও হাফেজ সাদ। হদর শুনেছি। তাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল, খতম শুরু করলে শেষ হবার আগ পর্যন্ত কোরআন শরিফ আর দেখতে পারবে না। আর আমি মনে মনে নিজেকে শর্ত দিয়েছিলাম, নিজের হিফজ বা মুখস্থের ওপর ভিত্তি নয়; বরং প্রতিটি অক্ষর দেখে দেখে তাদের পূর্ণ কোরআন শুনবো। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সফল হয়েছি।'
জামিয়া কাশিফুল উলুম ঢাকার মহাপরিচালক, লেখক মাওলানা সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ বলেন, 'আমরা শুরু থেকেই বাংলাদেশে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী হিফজুল কোরআন বিভাগ চালু করেছি। এখানে নিবিড় পরিচর্যায় খুব কম বয়সে অল্প সময়ে ছাত্ররা হিফজুল কোরআন সমাপ্ত করতে পারে। খতম শুরুর আগে তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, নির্ভুল শুনাতে পারবা তো? পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ও সাহসের সাথে তারা বলছিল, জি ইনশাআল্লাহ।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা মনে মনে ধরে নিয়েছিলাম, প্রতি দশ পারায় একটা লুকমা ক্ষমাযোগ্য। তবে ত্রিশ পারায় তিনের অধিক ভুল হলে এই খতম আর শোনা হবে না। নতুন করে আবার শুরু থেকে শুনাতে হবে। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য; ওরা আমাদেরকে অবাক বিস্মিত করে দিয়েছে। পুরো কোরআন বিনা ভুলে শুনিয়েছে। তাদের কোনো ভুল হয়নি।'