রোজার বিধান নারী ও পুরুষ সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকভাবে আদায় করেন, রমজান মাসে পূর্ণরূপে রোজা পালন করেন, নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করে চলেন এবং স্বামীর অনুগত থাকেন―তিনি জান্নাতের আটটি দরজার যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, ১৬৬১)
রমজানে হায়েজের কারণে নারীরা তিন থেকে দশ দিন রোজা রাখতে পারেন না এবং নামাজও আদায় করতে পারেন না। অনুরূপভাবে সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব চলাকালে (সর্বোচ্চ ৪০ দিন) নামাজ ও রোজা পালন করতে পারেন না। এ সময়ের রোজাগুলো পরে আদায় করে নিতে হয়; কিন্তু এ সময়ের নামাজ আর আদায় করতে হয় না। অনেক নারী রোজা পালনের সুবিধার্থে ওষুধ খেয়ে রজঃস্রাব বন্ধ রাখেন। এতে যদি (বিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমতে) শারীরিক কোনো বড় ধরনের অসুবিধা না হয়; তা হলে কোনো অসুবিধা নেই।
রোজা অবস্থায় রক্তস্রাব হলে ওই দিনের রোজা হবে না; কিন্তু রমজানের সম্মানে সেদিন ইফতার পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ভালো। কোনো নারীর যদি রমজানের কোনো রাতে সাহরির সময় শেষ হওয়ার আগে স্রাব থেকে মুক্ত হন এবং যেকোনো কারণে গোসল করতে না পারেন; তা হলে সাহরি খেয়ে রোজা শুরু করবেন, পরে গোসল করে নামাজ আদায় করবেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৬/২২১)
কোনো নারীর যদি তিনদিনের কম বা দশ দিনের বেশি সময় পিরিয়ড হয় অথবা নিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার পর পুনরায় রক্তক্ষরণ দেখা দেয়, একে ইস্তেহাজা (অসুস্থতা) বলা হয়। ইস্তেহাজা চলাকালে নামাজও পড়তে হবে এবং রোজাও রাখতে হবে।
অনুরূপভাবে সন্তান প্রসবের চল্লিশ দিন পরও যদি রক্তপাত বন্ধ না হয়, তা হলে অজু-গোসল করে যথারীতি নামাজ আদায় করতে হবে এবং রোজাও পালন করতে হবে।
গর্ভকালীন অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই রোজা রাখা নির্ভর করে। গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস রোজা না রাখাই শ্রেয়। কারণ ওই সময় মায়ের গর্ভে অনাগত শিশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হয়। মায়ের শরীরে সঠিক মাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পানি ইত্যাদি সরবরাহ জরুরি। মধ্যবর্তী তিন মাস একটু রিলাক্স থাকে। এ সময় গর্ভবতী মায়েরা একটু ভালো বোধ করেন, আর এই সময় বাচ্চাটির গঠনও তৈরি হয়ে যায়। এ সময় গর্ভবতী মা ইচ্ছা করলে রোজা রাখতে পারেন, যদি তার অন্য কোনো সমস্যা না থাকে। শেষের তিন মাস গর্ভবতী মাকে সতর্ক হয়ে চলতে হয়। এ সময় বাচ্চা দ্রুত বাড়ে। তাই দুজনের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মাকে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টিতে জোর দিতে হয়।
রোজা রাখার দ্বারা দুধপানকারিণী ও গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব না পড়ে, অর্থাৎ তার জন্য রোজা রাখাটা কষ্টকর না হওয়া এবং তার সন্তানের জন্যও আশঙ্কাজনক না হয়, তা হলে এমন নারীর ওপর রোজা রাখা ফরজ; তার জন্য রোজা ভাঙা নাজায়েজ। আর রোজা রাখলে তার নিজের স্বাস্থ্য অথবা সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে এবং তার জন্য রোজা রাখাটা কষ্টকর হলে, এমন নারীর জন্য রোজা না-রাখা জায়েজ আছে। তিনি এ রোজাগুলো পরবর্তী সময়ে কাজা পালন করবেন।
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক