জিকিরের মাধ্যমে অল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জন হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। কোরআনে জিকিরের প্রতি অনেক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। হাদিসে এর বহু ফজিলতের কথা রয়েছে। আধ্যাত্মিক দরবার বা সুফিবাদীদের কাছে ছয় জিকিরের বেশ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। ছয় জিকির ও এর সওয়াব সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হলো—
১০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: একাত্ববাদের মূল কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির। এর অনেক ফজলিত বর্ণিত হয়েছে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একবার মুসা (আ.) বললেন, হে আমার রব, আমাকে এমন একটি বাক্য বলে দিন যা দিয়ে আমি আপনার জিকির করতে পারি অথবা বলেছেন, তা দিয়ে আপনার কাছে দোয়া করতে পারি। আল্লাহ বললেন, হে মুসা, তুমি বলবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তখন মুসা (আ.) বললেন, হে আমার রব, আপনার সকল বান্দাই তো এটি বলে থাকে। আমি আপনার কাছে এমন কিছু চাচ্ছি, যা খাস করে আমাকেই বলবেন। তখন আল্লাহ বললেন, হে মুসা, যদি সাত আসমান আর আমি ভিন্ন তার সমস্ত অধিবাসী এবং সাত জমিন এক পাল্লায় রাখা হয় আর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এক পাল্লায় রাখা হয়, তা হলে নিশ্চয়ই লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর পাল্লা ভারী হবে।’ (মুসতাদরাকে হাকেম, ১৯৭২)
১০০ বার সুবহানাল্লাহ: সুবহানাল্লাহ অর্থ মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা। এই জিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে বৃক্ষরোপণ হয়। আমলের ঝুলি ভরে যায় অফুরন্ত সওয়াবে। সাদ (রা.) বলেন, ‘একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সঙ্গীদের প্রশ্নে বললেন, তোমাদের কেউ কি এক হাজার নেকি অর্জন করতে অক্ষম? একজন জিজ্ঞাসা করলেন, কীভাবে আমাদের কেউ এক হাজার নেকি অর্জন করতে পারে? তিনি বললেন, তোমাদের কেউ একশ বার সুবহানাল্লাহ পাঠ করলে, তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং তার এক হাজার পাপ মোচন করা হবে।’ (তিরমিজি, ৬৬০৭)
১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ: কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সংক্ষিপ্ত বাক্য আলহামদুলিল্লাহ। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, সর্বোত্তম জিকির হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আর সর্বোত্তম দোয়া হলো আলহামদুলিল্লাহ।’ (তিরমিজি, ৩৩৮৩)
১০০ বার আল্লাহু আকবার: আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা বর্ণনার সর্বোত্তম বাক্য আল্লাহু আকবার। এই শব্দের জিকির আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক দৃঢ় করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বলো সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।’ এটা বলা আমার কাছে যেসব বস্তুর ওপর সূর্য রশ্মি পড়ে, সবকিছু থেকে অধিক প্রিয়।’ (মুসলিম, ৬৬০২)
১০০ বার ইসতেগফার পাঠ করা: কোরআনে ইসতেগফার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও ইসতেগফার পাঠ করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, আমি তো দৈনিক ১০০ বার আল্লাহর কাছে তওবা করি।’ (মুসলিম, ৭০৩৪) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে বেশি বেশি ইসতেগফার পাঠ করে আল্লাহতায়ালা তার সব সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেন, তার সব পেরেশানি দূর করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ ( আবু দাউদ, ১৫১৮)
১০০ বার দুরুদ শরিফ পাঠ: আল্লাহতায়ালা নবি (সা.)-এর শানে দুরুদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবির প্রতি দুরুদ পাঠান। হে মুমিনরা, তোমরাও তার প্রতি দুরুদ পাঠাও এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।’ (সুরা আহজাব, হাদিস: ৫৬)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার ওপর একবার দুরুদ পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করবেন। তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তার জন্য দশটি মর্যাদা উন্নীত করা হবে।’ (নাসায়ি, ১২৯৭)
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক