ঈদুল আজহার সকাল প্রতিটি মুসলিমের জন্য এক বিশেষ আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। নামাজ, কোরবানি আর ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই দিনে একটি বিশেষ সুন্নত পালনের সুযোগ রয়েছে, যা অনেকেই হয়তো জানেন না। আর তা হলো, ঈদুল আজহার দিন নিজ কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের প্রথম খাবার শুরু করা।
ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১০ই জিলহজ্ব, অর্থাৎ কোরবানির ঈদের দিন সম্ভব হলে সকাল থেকে কিছু না খেয়ে সর্বপ্রথম নিজ কোরবানির গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত। এটি কেবল একটি খাবার গ্রহণ নয়, বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিশেষ আমল, যা ঈদুল আজহার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের পর, যখন পশুর কোরবানি সম্পন্ন হয় এবং গোশত প্রস্তুত করা হয়। তখন সেই তাজা গোশত দিয়েই দিনের প্রথম খাবার গ্রহণ করা উত্তম।
তবে এই সুন্নত কেবল ১০ই জিলহজ্বের দিনের জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, কোরবানির প্রথম দিনের গোশত দিয়েই এ আমল করা যায়। ১১ই বা ১২ই জিলহজ্বের গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত নয়। এর অর্থ এই নয় যে পরের দিনগুলোতে গোশত খাওয়া যাবে না, বরং সুন্নত আদায়ের যে বিশেষ ফযিলত, তা শুধু ঈদের প্রথম দিনের জন্যই নির্দিষ্ট।
এই মাসয়ালাটির ভিত্তি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থ ও ফিকহের কিতাবে পাওয়া যায়। যেমন, তিরমিজি (১/১২০), শরহুল মুনয়া (৫৬৬), আদ্দুররুল মুখতার (২/১৭৬) এবং আলবাহরুর রায়েক (২/১৬৩)। এই গ্রন্থগুলোতে এর সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এই সুন্নত পালনের মাধ্যমে মুসলিমরা একদিকে যেমন আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় করেন, তেমনি অন্যদিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)এর প্রিয় আমলগুলোর একটিকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
এবার ঈদুল আজহায় কোরবানির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এই সুন্দর সুন্নতটির কথা মনে রাখুন। নিজ কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের শুরু করে ঈদের বরকতকে আরও বাড়িয়ে তুলুন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক