সব আমলের নেপথ্যে ইখলাছ থাকতে হবে। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন লক্ষ থাকতে হবে। এক শরষে পরিমাণও যদি হয়, আল্লাহকে খুশি করা ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে, তা হলে সব আমল বরবাদ হয়ে যাবে। নেক আমল যত বড়ই হোক না কেন। ইখলাছ ছাড়া মানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য যদি না থাকে, তাহলে এমন আমল হলো ফুটো থলিতে মাছ রাখার মতো। অসংখ্য আমল নিয়ে বান্দা আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। তবে কোনো আমলই রব্বে কারিম গ্রহণ করবেন না। কারণ সব আমলই ছিল লোক দেখানো। মানুষের বাহবা পাওয়ার জন্য। তাই মানবজীবনে ইখলাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
হজরত আলি (রা.) একবার একজন ইসলামবিদ্বেষীর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। অনেকক্ষণ পর সেই ইসলামবিদ্বেষীকে কাবু করে ফেললেন। তিনি তার বুকের ওপর বসে পড়লেন এবং তার শিরোশ্ছেদের ইচ্ছা করলেন। এমন সময় ইসলামবিদ্বেষী লোকটি হজরত আলি (রা.) মুখমণ্ডলে থুথু মারে। হজরত আলি (রা.) তাকে হত্যা না করে সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেন। ইসলামবিদ্বেষী লোকটি হতবাক হয়ে গেল এবং জিজ্ঞাসা করল এ পর্যন্ত আপনি আমার সঙ্গে যুদ্ধরত ছিলেন। অবশেষে আমাকে পরাজিত করার পর হত্যা না করে ছেড়ে দিলেন কেন? হজরত আলি (রা.) বললেন, এতক্ষণ তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি এক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। কিন্তু যখনই তুমি আমার মুখে থুথু দিয়েছ, তখন তোমার প্রতি আমার ব্যক্তিগত আক্রোশ এসে গেছে। এমন অবস্থায় যদি আমি তোমাকে হত্যা করি, তবে তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতো না।
আমার ব্যক্তিগত ক্রোধের আক্রোশে তোমার মৃত্যু হতো। যা আমি চাইনি। যতটা সম্ভব লোকচক্ষুর অন্তরালে আমল করা উত্তম। তা হলে লোক দেখানোর ভাব আসার সম্ভাবনা কম থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই শয়তান মানুষকে দুনিয়ার সম্মান অর্জনের পথে উসকে দেয়। আমি, আমার আমিত্ব, আমার কর্ম, আমার আমল বলতে উৎসাহিত করে। নিজেকে জাহিরের এই প্রচেষ্টা ধ্বংস ডেকে আনে। মনের গহিনে অহংকার এনে দিতে পারে। না জানি আমি কত আমলই করছি। এই ভাবনা আসা অমূলক নয়। ইখলাছ ছাড়া আমল আল্লাহর দরবারে কবুলই হয় না। নবি কারিম (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা সমস্ত আমলের মধ্যে শুধু সেই আমলটুকুই কবুল করেন, যা ইখলাছের সঙ্গে শুধু তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই করা হয়। (নাসাঈ, ৩১৪২)
লেখক: প্রাবন্ধিক