বাংলাদেশের ত্যাগী উলামায়ে কেরামের দীর্ঘ অবদান ও সংগ্রামের বর্ণাঢ্য ইতিহাস তেমন একটা সুরক্ষিত নেই। তাদের মৃত্যুর পরপর তাদের সংগ্রামী জীবনের বিবরণ মাটির নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। এই দুঃখজনক চিত্র আমাদের ব্যথিত করে। বাংলাদেশের প্রতিথযশা আলেমদের জীবনীতথ্যমূলক একটি বইয়ের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হয়ে আসলেও তা পূরণ হয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি, নন্দিত ওয়ায়েজ মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবীর নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায়।
এ প্রসঙ্গে মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী তার বাণীতে লিখেছেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম মহান পূর্বসূরিদের অবদান ও ত্যাগের ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। যার অনিবার্য পরিণতিতে নানারকম মনগড়া ইতিহাস ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি আকিদা ও মতাদর্শের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। নিত্যনতুন তত্ত্ব ও তথ্যের কারণে আমাদের অঙ্গনের অনেকেই নিজেদের শেকড় সম্বন্ধে হীনম্মন্যতায় ভুগছে।
এ বিভ্রান্তি থেকে বাঁচানো এবং অতীতের সুমহান মাশায়েখদের অবদান সম্পর্কে জাতিকে অবগত করার দায়িত্বানুভূতি থেকে আমরা ‘বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিল’-এর পক্ষ থেকে ‘৩১৩ মাশায়েখে বাংলাদেশ’ নামে একটি গ্রন্থ সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এই গ্রন্থে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলোচনার বাইরে থাকা উলামায়ে কেরামের জীবন, কর্ম ও অবদান সম্পর্কে তথ্যবহুল আলোচনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বলা যায়, এ বই আমাদের বাংলাদেশের মরহুম আকাবির উলামায়ে কেরামের স্মৃতিচারণের একটি প্রাথমিক উদ্যোগ মাত্র।’
বাংলাদেশের প্রতিথযশা উলামায়ে কেরামের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করার মহান পরিকল্পনা থেকে প্রকাশিত হয় নতুন বই—‘৩১৩ মাশায়েখে বাংলাদেশ।’ হাজি শরিয়তুল্লাহ, মুন্সী মেহেরুল্লাহ, পীর মুহসেনুদ্দিন দুদু মিয়া থেকে শুরু করে বিগত ১৫০ বছরে, বিশেষত স্বাধীনতার পর গত ৫৬ বছরে যেসব উলামায়ে কেরাম মসজিদে ইমামতি, মাদরাসায় পাঠদান, পত্রিকায় লেখালেখি, দাওয়াতে তাবলিগ ও রাজপথে ইসলামি রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, দুই খণ্ডের এ বইটিতে তাদের জীবন-কর্ম উঠে এসেছে।
মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক সম্পাদকের আরজ শিরোনামে আলেমদের জীবনী সংকলনের মূলনীতি বিষয়ে বলেন, ‘শুধু মরহুম আলেমদের জীবনী সংকলন করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে প্রসিদ্ধ শুধু এমন মনীষী নন; আঞ্চলিক পর্যায়ে দ্বীনের ব্যাপক খেদমত করেছেন, অথচ জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত নন, এমন আলেমদের জীবনীও তুলে ধরা হয়েছে। যাদের সুবিশাল খেদমতের দাস্তান সময়ের আবরণের নিচে ঢাকা পড়ে আছে, এ বইয়ের মাধ্যমে তাদের অসামান্য খেদমত বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সব ধরনের বিতর্ক এড়াতে আকাবিরদের জীবনীগুলো মৃত্যু সন অনুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি—বইটিতে যেসব মনীষীর নাম এসেছে, নিঃসন্দেহে তাদের বাইরে আরও বহু সুফি সাধক রয়েছেন। বাংলাদেশে ইসলামের বিস্তার, প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠায় আজীবন অক্লান্ত মেহনত করেছেন। আমাদের ব্যর্থতা যে, আমরা তাদের সবার পরিচিতি তুলে আনতে পারিনি।’
আলোচিত এই বইয়ে রংপুর, সিলেট, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক আলেমদের জীবনকর্ম যেমন উঠে এসেছে, তেমনি রাজধানী ঢাকার খ্যাতিমান আলেম, স্কলার, খতিব, বক্তা ও রাজনীতিবিদদের জীবনীও আলোচিত হয়েছে। এক কথায়, দুই মলাটে তিন শতাধিক মরহুম আলেমের বর্ণাঢ্য জীবনের প্রামাণ্য গ্রন্থ। বইটিতে তাদের জন্ম, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, অবদান, বৈশিষ্ট্য, কারামত ও মৃত্যুর তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। বইটি বাংলার আলেমদের অবদানের প্রামাণ্য গ্রন্থ। বইটির সব তথ্য যথেষ্ট যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ প্রবন্ধ লিখেছেন পরিবারের সদস্যরা। এর বাইরে জাতীয় পত্রিকা, ম্যাগাজিন, স্মারকগ্রন্থ ও লব্ধপ্রতিষ্ঠ জীবনীকারদের কাছ থেকেও প্রবন্ধ নেওয়া হয়েছে।
বই : ৩১৩ মাশায়েখে বাংলাদেশ
খণ্ড : ২
পৃষ্ঠাসংখ্যা : প্রত্যেক খণ্ড ৫৭৬ পৃষ্ঠা করে মোট ১,১৫২
পৃষ্ঠপোষক : মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী
সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল ফারুক
প্রকাশনী : বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিল
পরিবেশক : মাকতাবাতুল আযহার
মুদ্রিত মূল্য : ২,০০০/-
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক