বাংলাদেশের সমাজে মিরাস বা উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে যে ভুল ধারণাগুলো প্রায়শই দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো ছেলে ও মেয়ের সম্পত্তির অংশ নির্ধারণ। অনেকের ধারণা, মৃত ব্যক্তির যাবিল ফুরুজ (কোরআনে বর্ণিত নির্দিষ্ট অংশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, যেমন- স্বামী/স্ত্রী, বাবা-মা) তাদের অংশ নেওয়ার পর অবশিষ্ট যত সম্পদই থাকুক না কেন, তার দুই-তৃতীয়াংশ ছেলেরা পাবে এবং এক-তৃতীয়াংশ পাবে মেয়েরা। এই ধারণার ভিত্তিতে তারা মনে করেন, যদি একজন মৃত ব্যক্তির এক ছেলে ও চার মেয়ে থাকে, তা হলে ছেলে একাই মোট অবশিষ্ট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ পাবে এবং চার মেয়ে মিলে এক-তৃতীয়াংশ পাবে। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং শরিয়তের বিধান এ রকম নয়।
শরিয়তের সঠিক বিধান কী?
কোরআনুল কারিমের সুরা নিসার ১১ নম্বর আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মিরাসের ক্ষেত্রে একজন ছেলে একজন মেয়ের দ্বিগুণ পাবে। এর মানে এই নয় যে, ছেলেরা সম্মিলিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ পাবে আর মেয়েরা এক-তৃতীয়াংশ। বরং এর সহজ হিসাব হলো, প্রত্যেক ছেলেকে দুজন মেয়ের সমান ধরে হিসাব করতে হবে।
উদাহরণসহ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাক। আপনার দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, যদি একজন মৃত ব্যক্তির এক ছেলে এবং চার মেয়ে থাকে, তা হলে কীভাবে সম্পত্তি বণ্টন হবে?
এখানে আমরা ছেলেকে দুজন মেয়ের সমান অংশীদার হিসেবে ধরব। তা হলে হিসাবটা দাঁড়াবে:
একজন ছেলে = ২ জন মেয়ে
চার মেয়ে = ৪ জন মেয়ে
অর্থাৎ, মোট অংশীদারের সংখ্যা হবে (২ + ৪) = ৬ জন মেয়ে সমতুল্য অংশ।
অতএব, এ ক্ষেত্রে অবশিষ্ট সমুদয় সম্পত্তিকে ছয়টি সমান ভাগে ভাগ করতে হবে। এর মধ্যে প্রতিটি মেয়ে পাবে এক ভাগ করে এবং ছেলে পাবে দুই ভাগ। এই সহজ এবং সুস্পষ্ট বিধানটি মেনে চললে মিরাস বণ্টনে ভুল বোঝাবুঝি ও অন্যায় থেকে বাঁচা সম্ভব। মিরাসের বিধান আল্লাহতায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত এবং এর প্রতিটি অংশই সুষম ও ন্যায়ভিত্তিক। আমাদের উচিত এই বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং তা সঠিকভাবে মেনে চলা, যাতে পারিবারিক শান্তি বজায় থাকে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালন করা হয়।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক