ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা এ যেন মাঠ ভরাট নয়, সম্প্রীতির উৎসব শেরপুরে প্রাইভেটকারে মদ, কারবারি আটক টেকনাফে সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ এমপির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব কিছু মানুষের কারণে কেন অপমানিত হবে ১৮ কোটি বাংলাদেশি? ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়ার রিটে যা নির্দেশ দিল হাইকোর্ট মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পটুয়াখালীর পৌর পার্ক এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু এবি ব্যাংকের এআই-চালিত ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই- লোন’ এর উদ্বোধন বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জু মোল্লা গ্রেপ্তার কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি সবার সক্রিয় ভূমিকায় রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০ জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেট সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে কড়া সতর্কতা, সন্দেহভাজনদের তথ্য চাইল বিজিবি মায়ের মরদেহ দেখতে যাওয়ার পথেই মেয়ে নিহত চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির অভিযানে মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন বদরগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
Nagad desktop

যে ভূমিতে যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল আগমন করেন

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫২ এএম
যে ভূমিতে যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল আগমন করেন
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

ফিলিস্তিন এক পবিত্র ভূমি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মাটি বহন করেছে অসংখ্য নবি ও রাসুলের পদচিহ্ন। এটি হিজরতের ভূমি, মহান আল্লাহর অশেষ বরকতের ভূমি। এখানেই অবস্থিত মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদুল আকসা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে এই মসজিদের মহিমা বর্ণনা করেছেন, ‘পবিত্র সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দাকে রাতারাতি মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি।’

ফিলিস্তিন নিজের বুকে ধারণ করেছে এমন সব নবি-রাসুল, যাদের পদস্পর্শে এই মাটি ধন্য হয়েছে। মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বহু নবি এই পবিত্র ভূমিতে আগমন করেছেন। আজ আমরা সেসব মহান ব্যক্তিত্বের কথা জানব, যারা ফিলিস্তিনকে করেছেন মহিমান্বিত।

হজরত ইবরাহিম খলিলুল্লাহ আলাইহিস সালাম। তিনি ইরাকের বাবেল শহরে জন্ম করেন। আল্লাহর একত্ববাদের বাণী প্রচার করতে গিয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। নিজ বাবার কাছ থেকে পেয়েছিলেন দেশান্তরের হুমকি। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে ইবরাহিম। তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি বিরত না হও তবে অবশ্যই আমি পাথরের আঘাতে তোমার প্রাণ নাশ করব। আর তুমি চিরতরে আমাকে ত্যাগ করে চলে যাও।’ (সুরা মারইয়াম, আয়াত ৪৬)

ঈমান রক্ষার তাগিদে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের স্ত্রী সারা ও ভাতিজা লুতকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে হাররান, তারপর হালব হয়ে হিজরত করেন ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসে। ফিলিস্তিনেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এবং জেরুজালেমে তাকে সমাহিত করা হয়।

বায়তুল মুকাদ্দাসে হিজরতের পর দীর্ঘ ২০ বছর হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ছিলেন নিঃসন্তান। বিবি সারার পরামর্শে তিনি দাসী হাজেরাকে বিবাহ করেন। হাজেরার গর্ভে ফিলিস্তিনে জন্ম নেন হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম। পরবর্তী সময়ে আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম শিশু ইসমাঈল ও হাজেরাকে মক্কায় রেখে আসেন।

আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, হে আমার প্রতিপালক। আমি আমার কিছু বংশধরকে আপনার সম্মানিত ঘরের আশপাশে বসবাস করিয়েছি, এমন এক উপত্যকায়, যেখানে কোনো ক্ষেত-খামার নেই। হে আমাদের প্রতিপালক। যাতে তারা নামাজ কায়েম করে। মানুষের অন্তরে তাদের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে দিন। তাদের ফলমূলের রিজিক দান করুন। যাতে তারা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। আর হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম মক্কায়ই জীবন অতিবাহিত করেন এবং সেখানেই সমাহিত হন।

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের দ্বিতীয় পুত্র হজরত ইসহাক আলাইহিস সালাম। তিনিও জন্মগ্রহণ করেন ফিলিস্তিনে। বৃদ্ধ বয়সে স্ত্রী সারার গর্ভে তার জন্মের সুসংবাদ পেয়ে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাঈল ও ইসহাক দিয়েছেন। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক অত্যধিক দোয়া শ্রবণকারী। (সুরা ইবরাহিম, আয়াত ৩৯) হজরত ইসহাক আলাইহিস সালাম বাবার সঙ্গে ফিলিস্তিনেই বসবাস করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করে সমাহিত হন।

হজরত লুত আলাইহিস সালাম। তিনি এই বৃহত্তর ফিলিস্তিনের অধিবাসী ছিলেন। তিনি হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান এনে তার সঙ্গে ফিলিস্তিনে হিজরত করেছিলেন। পরে তিনি আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য সাদুম ও আমুরায় যান, যা বর্তমানে মৃত সাগর ও তার তীরবর্তী এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানকার অধিবাসীরা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট চরিত্রের, তারা সমকামিতায় লিপ্ত ছিল।

হজরত লুত আলাইহিস সালাম তাদের এই ঘৃণিত কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘আমি লুতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে নিজ জাতিকে বলল, তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের আগে সারা বিশ্বের কেউ করেনি। তোমরা তো কামবশত নারীদের ছেড়ে পুরুষদের কাছে গমন করো। বরং তোমরা সীমালঙ্ঘন করছ।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৮০-৮১) তাদের পাপের কারণে আল্লাহর গজব নেমে আসে এবং হজরত লুত আলাইহিস সালাম ও তার ঈমানদার সঙ্গীরা রক্ষা পান।

হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম, যিনি ইসরাইল নামেও পরিচিত ছিলেন, হজরত ইসহাক আলাইহিস সালামের ছেলে এবং হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নাতি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ফিলিস্তিনে। ভাইয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি কিছুদিনের জন্য দক্ষিণ ইরাকের ফাদ্দান আরামে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর স্ত্রী-সন্তানসহ তিনি পুনরায় ফিলিস্তিনে ফিরে আসেন। হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ১২ জন ছেলে সন্তান ছিল।

জীবনের শেষদিকে তিনি মিসরে হিজরত করেছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তবে মৃত্যুর আগে তিনি সন্তানদের অছিয়ত করেছিলেন, মিসর ত্যাগ করার সময় যেন তার লাশ ফিলিস্তিনে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অছিয়ত অনুযায়ী, তার লাশ ফিলিস্তিনে আনা হয় এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের পবিত্র ভূমিতে সমাহিত করা হয়।

হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। তিনি ছিলেন হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ছেলে। তার জীবনের ঘটনা কোরআনে আহসানুল কাসাসঅর্থাৎ শ্রেষ্ঠ কাহিনি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তার জন্ম দক্ষিণ ইরাকের ফাদ্দান আরামে হলেও, শৈশবের কিছু সময় তিনি বাবার সঙ্গে ফিলিস্তিনেই কাটিয়েছিলেন। ছোটবেলায় ভাইয়ের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি মিসরে যান এবং পরবর্তী সময়ে নবুয়ত লাভ করে মিসরের মন্ত্রী হন। তিনি তার বাবা ও ভাইদের মিসরে নিয়ে আসেন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী, তার লাশকেও ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসে স্থানান্তর করা হয়।

হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ফিলিস্তিনে এবং একই সঙ্গে ছিলেন নবি ও বাদশাহ। পাহাড়-পর্বত ও পাখিরা তার অনুগত ছিল। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি দাউদকে বিশেষভাবে অনুগ্রহ দান করেছি। হে পাহাড়-পর্বত, হে পাখিরা, তোমরাও দাউদের সঙ্গে আমার তাসবিহ পড়ো। আর আমি তার জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম।’ (সুরা সাবা, আয়াত ১০)

নবুয়ত লাভের আগে তিনি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাকে হত্যা করেন। তিনি আসদুদ, বাইতে দুজান, আবু গাওস, বায়তুল মুকাদ্দাস ও রামলার শাসক ছিলেন। ফিলিস্তিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে রামলাগামী পথের পাশে একটি পাহাড়ে তাকে সমাহিত করা হয়।

হজরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম। তিনি ছিলেন হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের ছেলে। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবি এবং পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী শাসক। আল্লাহতায়ালা পশুপাখি, বায়ুমণ্ডল ও জিন জাতিকে তার অধীন করে দিয়েছিলেন। এই মহান নবির জন্ম ও জীবনযাপন ছিল ফিলিস্তিন কেন্দ্রিক। তিনি ঐতিহাসিক বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের নির্মাতা। খ্রিষ্টপূর্ব ৯২৩ সালে ফিলিস্তিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং বায়তুল মুকাদ্দাসে তাকে দাফন করা হয়।

আল্লাহর আরেক নবি হজরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম। তিনিও ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসে জন্মগ্রহণ করেন। হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের দোয়ায় বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহ তাকে দান করেন। তার মর্যাদা, তাকওয়া ও আল্লাহর পথে আহ্বানের কারণে তিনি ইহুদিদের চক্ষুশূলে পরিণত হন এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের ভেতরেই তাকে শহিদ করা হয়।

হজরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম। তিনি ফিলিস্তিনের বায়তুল লাহামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাবার হস্তক্ষেপ ছাড়াই আল্লাহর কুদরতে পৃথিবীতে আগমন করেন। শৈশবেই তিনি নবুয়তের ঘোষণা দেন এবং মায়ের পবিত্রতার সাক্ষ্য দেন। মারইয়াম (আ.) বলল, আমার ছেলে হবে কীভাবে, অথচ আমাকে কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি। আমি কোনো ব্যভিচারিণীও নই। ফেরেশতা বলল এভাবেই হবে। তোমার রব বলেছেন, আমার পক্ষে এটা একটি মামুলি কাজ। আমি এটা এজন্য করব, যেন একে আমি মানুষের জন্য নিদর্শন ও আমার কাছ থেকে রহমত বানাতে পারি। এটি একটি স্থির বিষয়।

হজরত ঈসা (আ.) তিনি ফিলিস্তিন অঞ্চলে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দেন। মায়ের সঙ্গে মিসরেও যান এবং সেখান থেকে আবার ফিলিস্তিনে ফিরে আসেন। অভিশপ্ত ইহুদিরা তাকে জারজ সন্তান ও তার মাকে অপবাদ দেয়। তারা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করলে আল্লাহতায়ালা তাকে জীবিত অবস্থায় আকাশে উঠিয়ে নেন।

কিয়ামতের আগে হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম পুনরায় ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসে অবতরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। এরপর তার মৃত্যু হলে নবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজার পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।

ফিলিস্তিনের এই পবিত্র মাটি যুগে যুগে বহন করেছে আল্লাহর নবি ও রাসুলদের স্মৃতি। এই ভূমি আজও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এর প্রতিটি ধূলিকণা যেন সাক্ষ্য দেয় সেসব মহান ব্যক্তিত্বের, যারা আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত রাখতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ফিলিস্তিন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি ঈমান আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ইতিহাস।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো ‘মা’। একজন মানুষ পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম আশ্রয়, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা খুঁজে পায় মায়ের কাছেই। ইসলাম এই সম্পর্কটিকে শুধু আবেগ বা পারিবারিক বন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং মায়ের মর্যাদাকে উন্নীত করেছে ইবাদতের পর্যায়ে, সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে। 

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবি করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে আমার কাছে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার?’ নবি করিম (সা.) বলেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবারও জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বাবার।’ (বুখারি ও মুসলিম)। 

মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না। তাদের সঙ্গে কথা বলো সম্মানসূচক ও নম্রভাবে’ (সুরা বনি ইসরাইল, ২৩)। 

এছাড়া হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়; এতে কোনো সন্দেহ নেই। এক, মা-বাবার দোয়া তার সন্তানের জন্য; দুই, মুসাফিরের দোয়া ও তিন, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া অত্যাচারীর বিরুদ্ধে’ (সুনানে আবু দাউদ, ১৫৩৮)। প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়ের সেবা করা। ছোটবেলায় মা যেমন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আমাদের অসুস্থতায় পাশে থেকেছেন ও সেবা করেছেন, তেমনি তার প্রতি যত্ন নেওয়া ও সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) সাহাবিদের মায়ের সেবা করার প্রতি নির্দেশ দিতেন। 

একদিন হজরত মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা আসসালামি (রা.) রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি জিহাদ করতে ইচ্ছুক। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?’ জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার মা আছেন?’ তিনি বললেন, ‘আছেন।’ রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তার পায়ের নিচেই জান্নাত।’ 

হাদিসে এরশাদ হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহতায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. ৪২১)। 
সর্বোপরি, মা হলেন পৃথিবীর বুকে আল্লাহতায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত। মায়ের এই অসামান্য ত্যাগকে ইসলামে বিশেষ স্বীকৃতিই শুধু দেয়নি, বরঞ্চ তার সেবাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর তাই দুনিয়া ও আখিরাতের পরম সফলতা লাভ করতে হলে মায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

শামায়েল রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন
ছবি: সংগৃহীত

কল্পনা করুন আরবের তপ্ত মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে আছেন এক অনন্য পুরুষ। তাঁর পরনে ইয়েমেনি লাল ডোরাকাটা চাদর ও লুঙ্গি, আর কাঁধ ছুঁয়ে যাচ্ছে ঘন কালো বাবরি চুল। দূর থেকে দেখলেই মনে হয় এক রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক। তিনি আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহানবি (সা.)-এর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান সাধারণ মানুষের চেয়ে কেমন আলাদা ছিল? কিংবা সাহাবিদের বর্ণনায় তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য কখনো কানের লতি, আবার কখনো কাঁধ পর্যন্ত বলার পেছনেদর রহস্যটা কী? চলুন, আজ তাঁর অবয়বের এই চমৎকার দিকটি জেনে নেওয়া যাক।

সাহাবি হযরত বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর চোখের দেখা বর্ণনা থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশি প্রশস্ত ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং শারীরিক গঠনের দিক থেকে চওড়া কাঁধ হলো একজন পুরুষের শারীরিক দৃঢ়তা, শক্তি এবং নেতৃত্বের প্রতীক। তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ বা খাটো ছিলেন না, বরং এই চওড়া কাঁধ তাঁর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ মাঝারি গড়নের দেহে এমন এক রাজকীয় গাম্ভীর্য এনে দিয়েছিল যে, সাহাবি বারা (রা.) মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে কখনো দেখিনি।’

হাদিসের পাঠক মাত্রই একটি কৌতূহলের মুখোমুখি হন। কোনো হাদিসে বলা হয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, আবার কোনো বর্ণনায় এসেছে তা কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিল। আপাতদৃষ্টিতে একে ভিন্ন মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক চমৎকার ও নতুন জানার মতো তথ্য।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুলের যত্ন নিতেন

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

মানুষের চুল সব সময় এক মাপে থাকে না, তা প্রতিনিয়ত বাড়ে। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারকও সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যে পৌঁছাত। আরবের পরিভাষায় তাঁর চুলের এই পরিবর্তনশীল নান্দনিকতাকে তিনটি ভাগে ব্যাখ্যা করা হয়:

১. ওয়াফরা (Wafrah): যখন তাঁর চুল মোবারক সবচেয়ে ছোট অবস্থায় কানের লতি পর্যন্ত থাকত।

২. লিম্মা (Limmah): যখন চুল কিছুটা বড় হয়ে কান ও কাঁধের মাঝামাঝি বা ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছাত।

৩. জিম্মা (Jimmah): যখন চুল মোবারক সর্বোচ্চ বড় হয়ে সরাসরি কাঁধ স্পর্শ করত।

এই তিনটি শব্দের সঠিক জ্ঞান আমাদের শেখায় যে, সুন্নতের অনুসরণে চুল কতটুকু রাখা মার্জিত ও নান্দনিক। তিনি যখনই যেভাবে চুল রেখেছেন, তা তাঁর উজ্জ্বল অবয়ব ও চওড়া কাঁধের সাথে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করত।

তথ্যসূত্র: মুসলিম, ৬২১১; মুসনাদে আহমাদ, ১৮৫৮১

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ৭ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?
সাহাবিরা তার সেই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠতেন। ছবি: সংগৃহীত

যার হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল এক অপার্থিব আভিজাত্য, যার কাঁধের প্রশস্ততা আর কানের লতি ছুঁয়ে যাওয়া ঘন বাবরি চুলে মুগ্ধ হতো গোটা আরব–কেমন ছিল সেই অনন্য রূপের মহিমা? আমরা অনেকেই জানি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সুদর্শন মানব। কিন্তু আপনি কি জানেন, পুরুষদের জন্য লাল পোশাক পরা নিয়ে সাধারণ একটি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, জীবনের এক বিশেষ মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এক অনুপম লাল পোশাকে দেখা গিয়েছিল? কী ছিল সেই লাল পোশাকের রহস্য? চলুন, আজ তাঁর শারীরিক গঠন ও পোশাকের সেই অজানা নান্দনিক অধ্যায়ে প্রবেশ করি।

দেহের গঠন ও অনন্য অবয়ব
সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) এবং বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর নিখুঁত বর্ণনা থেকে জানা যায়, প্রিয় নবি (সা.) ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ বা ফর্সা ত্বকের অধিকারী। তাঁর শারীরিক অবয়ব ছিল অসম্ভব আকর্ষণীয় এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি খুব বেশি দীর্ঘকায় ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না; বরং এক নিখুঁত মধ্যমাকৃতির অধিকারী ছিলেন। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী অংশ ছিল তুলনামূলক প্রশস্ত, যা তাঁর অবয়বে এক চিরন্তন পুরুষোচিত দৃঢ়তা ফুটিয়ে তুলত। তাঁর মাথার চুলগুলো একদম সোজা কিংবা খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না, বরং কানের লতি পর্যন্ত ঝুলন্ত সেই ঘন কালো চুল মোবারক তাঁর সৌম্য চেহারায় এক মায়াবী ও রাজকীয় রূপ দান করত।

চলনবলনে আভিজাত্য ও বিনয়
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাঁটার মধ্যেও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেত। তিনি অলসভাবে বা অহংকার নিয়ে পা ফেলতেন না, বরং পথ চলার সময় কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন। সাহাবিদের ভাষায়, তাঁকে দেখে মনে হতো তিনি যেন কোনো উঁচু পাহাড় বা ঢালু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন। এই চলনভঙ্গি তাঁর অতুলনীয় কর্মোদ্যম ও বিনম্র ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

লাল পোশাকের সেই অজানা রহস্য
হাদিসের পাতায় একটি চমৎকার বিবরণ মেলে, যেখানে সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাল রঙের লুঙ্গি ও চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছিলেন এবং মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে কখনো দেখিনি।’ অথচ ইসলামের সাধারণ নিয়মে পুরুষদের জন্য একদম খাঁটি বা টকটকে লাল পোশাক পরিধান করা নিষেধ।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

 
 

ইসলামে পুরুষদের জন্য যে লাল রঙের পোশাকের ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে, তা মূলত নিরেট, গাঢ় বা উজ্জ্বল লাল । রাসুলুল্লাহ (সা.) যে চাদর ও লুঙ্গি পরেছিলেন, তা কিন্তু একক কোনো লাল রঙের ছিল না। সেটি ছিল তৎকালীন আরবের ঐতিহ্যবাহী ইয়েমেনি ঘরানার লাল এবং অন্য রঙের মিশ্রণে তৈরি চমৎকার ডোরাকাটা সুতি পোশাক। এই নান্দনিক পোশাকটি তাঁর উজ্জ্বল গৌরবর্ণের সাথে এমন অপার্থিবভাবে মানিয়ে গিয়েছিল যে, সাহাবিরা তার সেই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছিলেন।

(তথ্যসূত্র ও বর্ণনাসূত্র: সহিহ বুখারি,৩৫৫১; মুসলিম, ৬২১০; নাসায়ি, ৫২৩; মুসনাদে আবু ই’আলা,৩৮৩২; শারহুস সুন্নাহ, ৩৬৪০)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী?

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
আলহামদুলিল্লাহ শব্দটি কেন এত শক্তিশালী?
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি ভাবুন তো, যদি মিরাজের মহিমান্বিত রাতে বিশ্বনবি (সা.) দুধের পাত্রটি না নিয়ে মদের পাত্রটি বেছে নিতেন, তবে আজ আপনার আর আমার ভাগ্যে কী ঘটত? মাত্র একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার কারণে এক মহাসংকট থেকে বেঁচে গিয়েছিল গোটা মুসলিম উম্মাহ। আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত পাওয়া হাজারও নেয়ামতের বিপরীতে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা কেবল ভদ্রতা নয়, বরং এক অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব বা ওয়াজিব।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষ যদি তার দেওয়া নেয়ামতের স্বীকৃতি ও শুকরিয়া আদায় করে, তবে তিনি তার নেয়ামত বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করো; আমিও তোমাদের স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, আর অকৃতজ্ঞ (কৃতঘ্ন) হয়ো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)

আল্লাহ অন্যত্র আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দান করব, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর। (সুরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৭) এমনকি জান্নাতিদের শেষ বাক্য বা স্লোগানও হবে, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সব প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)। (সুরা ইউনুস, আয়াত: ১০)

আল্লাহর প্রতি এই কৃতজ্ঞতা বা 'আলহামদুলিল্লাহ' শব্দের শক্তি কতটা গভীর, তা ফুটে ওঠে মিরাজের রাতের একটি বিশেষ ঘটনায়।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মিরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে মদ ও দুধের দুটি পাত্র আনা হলো। তিনি দুটির দিকে তাকিয়ে দুধের বাটিটি বেছে নিলেন। তা দেখে জিবরাঈল (আ.) বললেন, ‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আপনাকে ফিতরাত বা ইসলামের স্বভাবজাত প্রকৃতির দিকে পথ দেখিয়েছেন। আপনি যদি মদের পাত্রটি নিতেন, তবে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।’ (সহিহ মুসলিম, ১৬৮; সহিহ বুখারি, ৩৩৯৪)

জিবরাঈল (আ.) কিন্তু ‘ধন্যবাদ’ জানাননি, তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছিলেন। কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিকও আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। 

যদিও একটি বহুল প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) ছাড়া যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করলে তা বরকতহীন বা অসম্পূর্ণ থেকে যায় ( আবু দাউদ); আধুনিক মুহাদ্দিসগণের (যেমন- ইমাম আলবানী ও শুআইব আরনাউত) সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই সুনির্দিষ্ট হাদিসটির সনদ কিছুটা দুর্বল। তবে এর অর্থ ও মূলভাব কোরআনের অগণিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা মুমিনের চিরন্তন ভূষণ।

দুধের পাত্রটি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে রাসুল (সা.) আমাদের জন্য যে পবিত্রতার পথ দেখিয়েছেন, তার মূল ভিত্তিই হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা। জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় অর্জনে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার অভ্যাস আমাদের অহংকারমুক্ত রাখে এবং আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচিয়ে নেয়ামতের দুয়ার খুলে দেয়। অনলাইন ও পত্রিকার পাতায় এই সত্যটি আধুনিক পাঠককে নতুন করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখাবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক