দীর্ঘ ২৩ বছর বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চাকরি শেষে কমান্ডার পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণকারী মুহাম্মাদ আদম আলী বর্তমানে মাকতাবাতুল ফুরকানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে ইসলামি প্রকাশনা জগতে অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে মাস্টার অব ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রিধারী এই অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এবারের আন্তর্জাতিক বইমেলা, এর ব্যবস্থাপনা এবং প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুফতি উমর ফারুক আশিকী।
খবরের কাগজ: এবারের আন্তর্জাতিক বইমেলার সামগ্রিক আয়োজন এবং এর ব্যবস্থাপনার মান সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
মুহাম্মাদ আদম আলী: এবারের মেলার পরিসর নিঃসন্দেহে বেড়েছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও উন্নত হয়েছে। তবে মেলা উপরে-নিচে হওয়াতে একটি বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পাঠকরা একাংশ দেখেই চলে যাচ্ছেন, অন্য অংশের খবর না জেনে পরে আফসোস করছেন। এজন্য প্রচার-প্রসার আগেই আরও ব্যাপক করা প্রয়োজন ছিল। মেলা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়ে গেল, অথচ এ দেশের সংবাদ-মিডিয়া সম্ভবত জানতেও পারেনি, যা খুবই হতাশাজনক।
খবরের কাগজ: এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য কেন সিদ্ধান্ত নিলেন? এই মেলা থেকে আপনি ঠিক কী প্রত্যাশা করছেন?
মুহাম্মাদ আদম আলী: মেলাটি আন্তর্জাতিক না হলেও আমরা অংশগ্রহণ করতাম। প্রতি বছরই অংশগ্রহণের চেষ্টা করি। এটি আমাদের মেলা, ইসলামি প্রকাশনাগুলোর প্রাণের উৎসব। এতে অংশগ্রহণ জরুরি। মেলায় বই প্রদর্শনীর ইচ্ছা যেমন থাকে, তেমনি প্রচার-প্রসারও উদ্দেশ্য থাকে। বই না কিনলেও প্রকাশনাগুলোর নাম অন্তত মানুষ জানবে, এটাও একটা দিক। আমি ব্যাপক পাঠক সমাগম আশা করি, যা এখনো মেলেনি। ব্যাপক বই বিক্রিও আশা করি, যাতে ঘরে ঘরে ইসলামি বই পৌঁছে যায়।
খবরের কাগজ: মেলায় এমন কোনো বিশেষ দিক বা অব্যবস্থাপনা কি আপনার চোখে পড়েছে, যা থাকলে এই আয়োজনটি আরও বেশি সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ হতে পারত?
মুহাম্মাদ আদম আলী: এ মেলায় স্পন্সর হিসেবে আছে রকমারি.কম। যদি আরও স্পন্সর থাকত, তাহলে মেলার সৌন্দর্য ও কর্মচাঞ্চল্য আরও বাড়ত। একুশে বইমেলায় যেমন ডাচ বাংলার মোবাইল বুথ ছিল, সেটা এখানেও রাখা যেত। মোটকথা, মিডিয়ার প্রচার-প্রচারণা, সংবাদপত্রগুলোতে আরও ব্যাপক সচিত্র প্রকাশনা এবং স্পন্সরদের অনুদান মেলাটিকে আরও বেশি দৃষ্টিনন্দন ও কার্যকর করে তুলতে পারত বলে আমার বিশ্বাস।