মানুষের শরীরে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে। মাংসের সেই ছোট টুকরো যখন ঠিক থাকে, তখন পুরো শরীর ঠিক থাকে। অর্থাৎ, যখন তা আল্লাহর ভয়-ভীতি, তাকওয়া ও ভালোবাসায় পরিশুদ্ধ হয়, তখন পুরো শরীর পরিশুদ্ধ থাকে। আর তা নষ্ট হয়ে গেলে; আল্লাহর ভয়-ভীতি, তাকওয়া ও ভালোবাসাশূন্য হয়ে গেলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়। কারণ অন্তর হলো শরীরের রাজা। রাজা ঠিক থাকলে প্রজারাও ঠিক থাকে। রাজা নষ্ট হয়ে গেলে, এই পচন প্রজাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
এ জন্য মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত, সব সময় আল্লাহর কাছে অন্তরের সুস্থতা ও পরিশুদ্ধি লাভের দোয়া করা। কারণ, অন্তর ঠিক থাকলে সব কাজকর্ম ঠিক থাকবে। আর অন্তর পচে গেলে কাজকর্মও সব ভেস্তে যাবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে এ দোয়া করতেন, হে হৃদয় ও দৃষ্টির পরিবর্তনকারী, আমার হৃদয়কে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুলকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কীভাবে নিশ্চিন্তে থাকতে পারি, অথচ বান্দার হৃদয় আল্লাহর দুই আঙুলের মাঝখানে আছে। তিনি যখন কোনো বান্দার হৃদয় পাল্টে দিতে চান, পাল্টে দেন। (তিরমিজি, ২১৪০; ইবন মাজাহ, ১৯৯) সুতরাং অন্তরসমূহের সুতো ধরা আছে আল্লাহতায়ালার হাতেই।
তাই মানুষের উচিত, আল্লাহতায়ালার কাছে হৃদয়ের সুপথপ্রাপ্তির দোয়া করা। পাশাপাশি এমন সব বিষয় থেকে বিরত থাকা, যা তার হৃদয় নষ্ট করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। হৃদয় নষ্ট হয় সংশয়ের মাধ্যমে। নষ্ট হয় গুনাহ, হারাম আহার গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে। মোট কথা, যত প্রকার গুনাহ আছে, সবই হৃদয় নষ্ট করার একেকটা শক্তিশালী উপকরণ। যেমন- হারাম জিনিস দেখা, হারাম কিছু শোনা- এ সবকিছুই অন্তরকে বিনষ্ট করে।
যখন সে হারাম কিছু দেখে, তার অন্তর নষ্ট হয়। যখন গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র শোনে অন্তর শুদ্ধতা হারায়। যখন গুনাহে লিপ্ত হয়, অন্তর কলুষিত হয়। যখন হারাম খায়, অন্তর মরে যায়। অবশ্য, যেসব কাজ অন্তর পরিশুদ্ধ করে, মানুষের দায়িত্ব সেসব কাজ করে যাওয়া। তবে বাস্তবে অন্তরের পরিশুদ্ধি অর্জন, সেটা কেবল আল্লাহর হাতেই।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক