পবিত্র কোরআনের প্রতিটি হরফ ও আয়াত বরকতময়। তবে কিছু আয়াতের মর্যাদা ও গুরুত্ব নবি কারিম (সা.)-এর হাদিসে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত (আয়াত ২৮৫-২৮৬) অন্যতম। এই আয়াত দুটি যেমন মর্যাদাপূর্ণ, তেমনি এর আমল মুমিন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত সওয়াব ও নিরাপত্তার মাধ্যম।
মর্যাদাবান আয়াত ও রাসুল (সা.)-এর পছন্দ: একদা জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, কোরআনের কোন সুরা সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান?’ তিনি বললেন, ‘সুরা ইখলাস’। এর পর ব্যক্তিটি প্রশ্ন করলেন, ‘কোরআনের কোন আয়াতটি মর্যাদাবান?’ তিনি বললেন, ‘আয়াতুল কুরসি’।
সবশেষে লোকটি জানতে চাইলেন, ‘হে আল্লাহর নবি, আপনি কোন আয়াতটি পছন্দ করেন, যাতে আপনার উম্মত লাভবান হবে?’ দয়ার নবি (সা.) উত্তর দিলেন, ‘সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত।’
মেরাজের রাতে বিশেষ উপহার: সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, এই দুটি আয়াত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মে’রাজের রাতে আরশে আজিমে দান করা হয়েছিল। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, যখন রাসুল (সা.)-কে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁকে তিনটি বিশেষ উপহার দেওয়া হয়:
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।
২. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত।
৩. উম্মতের মধ্যে যারা শিরক করবে না, তাদের কবিরা গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ।
রাতের আমল ও এর প্রতিদান: রাতের বেলা এই দুটি আয়াত তিলাওয়াত করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দুটি তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এ আয়াত দুটোই যথেষ্ট।’ (বুখারি: ৪০০৮)। মুহাদ্দিসিনে কেরাম বলেন, এর অর্থ হলো— সারা রাত ইবাদত বা কোরআন তিলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, অন্তত এই দুটি আয়াত পড়লে তার সওয়াব পাওয়া যাবে এবং এটি তাকে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে।
আয়াত দুটির বাংলা উচ্চারণ: আমানার রাসুলু বিমা উনঝিলা ইলাইহি মিররাব্বিহি ওয়াল মুমিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিমমির রুসুলিহি। ওয়া কালু সামিনা ওয়া আতানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা-লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত-রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসিনা আও আখতানা-রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিং ক্বাবলিনা- রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহি-ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা- আংতা মাওলানা ফাংসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।
সরল অনুবাদ: ‘তার প্রতিপালকের কাছ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে রাসুল তার ওপর বিশ্বাস করে আর বিশ্বাসীরাও। তারা সকলেই বিশ্বাস করে আল্লাহে, তাঁর ফেরেশতাগণে, তাঁর কিতাবগুলোয় ও তাঁর রাসুলদের ওপর (এবং তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসুলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনি ও মানি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই, আর তোমার কাছেই আমরা ফিরে যাব। আল্লাহ্ কাউকেই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার দেন না। ভালো ও মন্দ যে যা উপার্জন করবে তা তারই।
(তোমরা প্রার্থনা করো,) হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে তুমি আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীদের যে ভারী দায়িত্ব দিয়েছিলে আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব দিয়ো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এমন ভার আমাদের ওপর দিয়ো না যা বইবার শক্তি আমাদের নেই। আর আমাদের পাপ মোচন করো, আর আমাদেরকে ক্ষমা করো, আর আমাদের ওপর দয়া করো, তুমি আমাদের অভিভাবক। অতএব অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তুমি আমাদের জয়যুক্ত করো।’ (অনুবাদ সূত্র: কোরান শরিফ: সরল বঙ্গানুবাদ, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, প্রথমা প্রকাশন)