ধৈর্যশীলতা একটি মহান গুণ, যা কেবল ধৈর্যশীলরাই অর্জন করতে পারে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যে ধৈর্যধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা তো এক দৃঢ়সংকল্পের কাজ।’ ( সুরা শুরা, ৪৩)। আর (ক্ষতি করা যাবে না) এর আরেকটি অর্থ হলো, আপনি আপনার ভাইয়ের প্রতি এমন কোনো আচরণ করবেন না, যা নিজের জন্য অপছন্দ করেন। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’
আর ক্ষতির প্রতিশোধেও ক্ষতি করা যাবে না- এর মানে হলো, যদি কেউ আপনার প্রতি অন্যায় করে, তবে উত্তম হলো ক্ষমা করে দেওয়া, প্রতিশোধ না নেওয়া। কারণ প্রতিশোধ অন্তরে বিদ্বেষের জন্ম দেয়, আর ক্ষমা ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বীজ বপন করে। এই হাদিসটি মানুষের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে এক মহান মূলনীতি স্থাপন করে। একজন মুসলিমের উচিত, সে যেন ক্ষতির সূচনাও না করে, আবার ক্ষতির প্রতিশোধও না নেয়। এমনটি করতে পারলে সে আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির কাছে প্রিয়ভাজন হবে।
ঠিক যেমন বিখ্যাত কবি মুতনাব্বি বলেছিলেন, ক্ষমাই জয় করে মুক্ত প্রাণ, বীর সে- যে রাখে শত্রুর সম্মানায়। (দিওয়ানুল মুতানাবিব, পৃষ্ঠা: ২২)
যদি কেউ আপনার ওপর জুলুম করে, তা হলেও আপনি তাকে প্রতিশোধের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না। বরং ক্ষমা করুন, এটাই উত্তম। এতে বন্ধুত্ব জন্মায়, সম্পর্ক গাঢ় হয়। আল্লাহ বলেন, সৎকর্ম ও কুকর্ম কখনো সমান হতে পারে না। খারাপকে প্রতিহত করুন উত্তম পন্থায়। তখন দেখবেন আপনার সঙ্গে যে ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।