মসজিদে বা জামাতে নামাজ আদায়ের সময় অনেক সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, সামনের কাতারের ব্যক্তি নামাজ শেষ করে উঠে গেছেন, কিন্তু তার পেছনের ব্যক্তি তখনো নামাজরত আছেন। এমতাবস্থায় সামনে বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির মনে সংশয় জাগে— তিনি কি নামাজির সামনে থেকে সরে যেতে পারবেন? নাকি সরে গেলে নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রম করার গুনাহ হবে? ফিকহ শাস্ত্র ও হাদিসের আলোকে এর একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে।
সাধারণত নামাজি ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা বা আড়াআড়িভাবে পার হওয়া হাদিস শরিফে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তবে কেউ যদি আগে থেকেই নামাজির সামনে অবস্থান করে থাকেন এবং প্রয়োজনবশত ডানে বা বামে সরে যান, তবে তা ‘অতিক্রম করা’ (Passing across) হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ, সামনে অবস্থানকারী ব্যক্তি যদি নামাজির কাতার থেকে সরে যান, তবে এতে অতিক্রম করার গুনাহ হবে না। বিখ্যাত হাদিস বিশারদগণ ফাতহুল বারী (১/৬৯১) ও ইলাউস সুনান (৫/৮১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসের নিষেধাজ্ঞাটি মূলত চলাচল করা বা আসা-যাওয়া করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। স্থির অবস্থান থেকে সরে যাওয়া এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
ফাতাওয়া জগতের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ যেমন- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/১০৪), রদ্দুল মুহতার (১/৬৩৬) এবং ইমদাদুল আহকাম (১/৮০৯)-এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। যদি সামনে অবস্থানকারী ব্যক্তির প্রয়োজন থাকে (যেমন- বের হওয়া বা অন্য কাজে যাওয়া), তবে তিনি নির্দ্বিধায় ডানে বা বামে সরে যেতে পারেন। তবে যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজন না থাকে, তবে নামাজি ব্যক্তির নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই উত্তম এবং শিষ্টাচারের পরিচয়।
সতর্কতা ও শিষ্টাচার
১. সরে যাওয়ার সময় এমনভাবে সরতে হবে যেন নামাজির মনোযোগে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
২. নামাজির ঠিক সামনের জায়গাটি ফাঁকা করার জন্য ধীরস্থিরভাবে প্রস্থান করা বাঞ্ছনীয়।
৩. প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক নড়াচড়া না করে ধৈর্য ধরা ইবাদতের আদব।
ইসলামি শরিয়ত মুমিনদের জন্য প্রতিটি বিষয়কে সহজ ও যুক্তিযুক্ত করেছে। নামাজির সামনে আটকা পড়া ব্যক্তিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার বাধ্যবাধকতা দেয়নি, যদি তার প্রয়োজন থাকে। সঠিক মাসআলা জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় দ্বিধা যেমন দূর হয়, তেমনি ইবাদতের পরিবেশও সুন্দর থাকে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক