ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

আল্লাহর কাছে আপনার সফর কি গ্রহণযোগ্য?

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০০ পিএম
আল্লাহর কাছে আপনার সফর কি গ্রহণযোগ্য?
আল্লাহতায়ালা মানুষের মনে কী চলছে, তা খুব ভালো জানেন।ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে নানাবিধ নেক আমলের কথা বলা হয়েছে। হিজরত তার মধ্যে সর্বোত্তম একটি নেক আমল। পবিত্র কোরআনে জিহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময় একটি আমলের পাশে হিজরতের উল্লেখ রয়েছে। এর থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, ইসলামে হিজরতের গুরুত্ব কতখানি। আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং জিহাদ করেছে। (সুরা আনফাল, ৭২)। 

তবে যদি কোনো মুহাজির ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হিজরত করে। যেমন- কোনো মুসলিম রাষ্ট্র বেশ উন্নত, সেখানে জীবনের জৌলুস আছে, আছে অপার ব্যাবসায়িক সুযোগ-সুবিধা। এসব পার্থিব চাকচিক্যের লোভে কেউ যদি কোনো কাফির রাষ্ট্র থেকে এই ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরত করে, সে হিজরতের সাওয়াব পাবে না। মুহাজিরদের তালিকায় তার নামও লেখা হবে না। কারণ, বাহ্যত সে মুহাজির হলেও বস্তুত সে একজন দুনিয়াকামী। তার নিয়তের খুঁত তাকে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করবে।

এমনিভাবে কারও কারও হিজরত হতে পারে প্রেমঘটিত। যেমন- কেউ মুসলিম রাষ্ট্রের কোনো মেয়ের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাকে কাফির রাষ্ট্রে বসবাসরত অবস্থায় বিয়ে করতে প্রস্তুত নয়। এমন পরিস্থিতিতে সে যদি এই মেয়েকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করে, তার এ হিজরতও হবে সাওয়াব বিবর্জিত। যদিও বাহ্যত এটাও হিজরত। কারণ, তার উদ্দেশ্য দ্বীন ছিল না, ছিল দুনিয়া।

আর আল্লাহতায়ালা মানুষের মনে কী চলছে, তা খুব ভালো করেই জানেন। পবিত্র কোরআনে আছে, বলো, তোমরা কি তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে আল্লাহকে জানাচ্ছ! অথচ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে, সবকিছু আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত। (সুরা হুজরাত, ১৬)
তার মূল উদ্দেশ্য সঠিক না থাকলেও তবু সে মুসলিম থাকবে। যদিও তার ইসলাম হবে অসম্পূর্ণ। কতটা অসম্পূর্ণ তা নির্ভর করবে তার ছেড়ে দেওয়া বিষয়ের গুরুত্ব ও অবস্থানের ওপর।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.)

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.)
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের জীবনে আনন্দ ও উদযাপনের মুহূর্তগুলো নানা রূপে আসে। কখনো পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, কখনো চাকরিতে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি, ব্যবসায়িক সাফল্য কিংবা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন—সবই মানুষের মনকে এক অনাবিল প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। বিজয়ের এই আনন্দঘন মুহূর্তে মানুষ সাধারণত উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। কিন্তু একজন মুমিনের আনন্দ প্রকাশের ধরণ সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, যেকোনো অর্জনের পেছনে নিজের মেধার চেয়ে মহান আল্লাহর অনুগ্রহই প্রধান। তাই সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে অহংকারী না হয়ে আল্লাহর দরবারে বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

রাসূলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো বড় সাফল্য, বিজয় বা কাঙ্ক্ষিত অর্জন লাভ করতেন, তখনই তিনি পরম স্রষ্টার প্রতি শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের মতো মহিমান্বিত মুহূর্তেও আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অবয়বে কোনো অহংকার ছিল না, বরং তাঁর হৃদয় ছিল আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতায় নত।

বিজয় ও সাফল্যের সেই বিশেষ মুহূর্তে রাসুল (সা.) যে দোয়াটি নিয়মিত পড়তেন, তা নিচে দেওয়া হলো: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَصَرَ عَبْدَهُ وَأَعَزَّ دِينَهُ
বাংলা উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি নাসারা আবদাহু ওয়া আ-আজ্জা দ্বীনাহ।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে (জীবনবিধানকে) শক্তিশালী ও সম্মানিত করেছেন।

আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে আমরা যখনই কোনো সফলতা পাই, মনের অজান্তেই আমাদের ভেতর আমি বা অহংকারবোধ জাগ্রত হয়। আমরা মনে করি, এই অর্জন কেবলই আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। অথচ আমাদের চারপাশে কত মানুষই না রাতদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। তাই যেকোনো বড় অর্জনে এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে এবং সমস্ত সফলতার কৃতিত্ব মহান আল্লাহকে উৎসর্গ করে। এটি মানুষের মন থেকে অহংকার দূর করে তাকে বিনয়ী করে তোলে।

কৃতজ্ঞতা কেবল একটি শব্দ নয়, এটি এক পরম ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব। (সুরা ইবরাহিম, ৭)

লেখক: শিক্ষিকা, মাদরাসা ফাতেমাতুজ জাহরা, মুহাম্মদপুর।

জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে
ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কত হাজারও কথা আমরা বলি, যার সিংহভাগই অর্থহীন। অথচ যদি জানতেন, জিহ্বা নড়াচড়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কিছু সহজ বাক্যে আপনার জীবনের সব পাপ ধুয়ে-মুছে যেতে পারে, এমনকি কিয়ামতের দিন আপনার নেকির পাল্লা পাহাড়ের চেয়েও ভারী হয়ে যেতে পারে! রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন কিছু জাদুকরী ও সংক্ষিপ্ত জিকির শিখিয়েছেন, যা একদিকে উচ্চারণে পানির মতো সহজ, অন্যদিকে এর আধ্যাত্মিক ওজন মহাবিশ্বের চেয়েও বিশাল।

আমরা যখন কারও প্রশংসা করি, তখন অনেক ভেবেচিন্তে শব্দ চয়ন করতে হয়। কিন্তু মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় শব্দগুলো আমাদের মুখের একদম কাছেই রয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুটি কালেমা (বাক্য) রয়েছে, যা দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, উচ্চারণে খুবই সহজ এবং মিজানের (আমলের) পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। তা হলো: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম’। (বুখারি, ৬৪০৬; মুসলিম, ২৬৯৪)

দিনের শুরুতে বা যেকোনো সময় একটি বিশেষ দোয়া ১০০ বার পাঠ করলে যে অলৌকিক নিরাপত্তা ও সওয়াব পাওয়া যায়, তা সমকালীন যেকোনো সাইবার সিকিউরিটি বা বডিগার্ডের চেয়েও শক্তিশালী।

আরো পড়ুন: কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে একশবার পড়বেন–লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির, তার ১০টি দাস মুক্ত করার সওয়াব হবে, ১০০টি নেকি লেখা হবে এবং ১০০টি গুনাহ মাফ হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি তাঁর জন্য শয়তান থেকে বাঁচার ‘রক্ষামন্ত্র’ হবে। (বুখারি, ৩২৯৩; মুসলিম, ২৬৯৩)

পাশাপাশি, কেউ যদি দিনে ১০০ বার শুধু ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করে, তবে তার সমস্ত পাপ সমুদ্রের ফেনার পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আমরা শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম বলতে যা বুঝি, ইসলামে আধ্যাত্মিক সওয়াব দিয়ে তা পূরণের এক অবিশ্বাস্য সমীকরণ দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু মালেক আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, পবিত্রতা অর্ধেক ঈমান। আর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ দাঁড়িপাল্লাকে ভরে দেয় এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী শূন্যতাকে (সওয়াব দিয়ে) পূর্ণ করে দেয়।( মুসলিম, ২২৩; তিরমিজি, ৩৫১৭)

আরো পড়ুন: স্বপ্নে গান শোনা, আসলে কীসের ইঙ্গিত?

ফরজ নামাজ শেষ করেই আমরা অনেকে তাড়াহুড়ো করে উঠে যাই। অথচ স্বয়ং বিশ্বনবি (সা.) নামাজ শেষ করে একটি রাজকীয় অভ্যাস বজায় রাখতেন। হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন নামাজ শেষে সালাম ফেরাতেন, তখন প্রথমে তিনবার ইস্তিগফার করতেন (বলতেন, আস্তাগফিরুল্লাহ) এবং তারপর পড়তেন: ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল ইকরাম’। (মুসলিম, ৫৯১; আবু দাউদ, ১৫১২)

বেদুইনদের সাধারণ প্রশ্ন থেকে শুরু করে নামাজের পরের বিশেষ আমল, সবখানেই রাসুল (সা.) আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে অল্প পরিশ্রমে আখেরাতের সর্বোচ্চ ধনী হওয়া যায়। এই জিকিরগুলো কেবল মুখের বুলি নয়, এগুলো মুমিনের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। বইয়ের পাতায় বা অনলাইন সিরিজে এই সহজ আমলগুলোর মহাজাগতিক গুরুত্ব আধুনিক পাঠককে মোবাইল স্ক্রলিংয়ের ফাঁকেও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে বাধ্য করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
মাঠের ফুটবল যখন জীবনের ব্যাধি হয়ে দাঁড়ায়
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা ইউরোপিয়ান লিগের আসর এলেই আমাদের চেনা জগৎটা এক লহমায় বদলে যায়। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন নীল-সাদা বনাম হলুদ-সবুজের তুমুল লড়াই। ফুটবল মাঠের উত্তেজনা গ্যালারি পেরিয়ে আমাদের ড্রয়িংরুম, ছাদ আর পাড়ার মোড়ে এমন এক আবহ তৈরি করে, যা মাঝেমধ্যে উৎসবের আনন্দকে বিষাদে রূপ দেয়। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ভালোবাসার সীমানা ঠিক কোথায়? এটি কি কেবলই ক্ষণিকের বিনোদন, নাকি এক ধরনের অন্ধ আসক্তি যা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সময় ও আদর্শকে গ্রাস করে নিচ্ছে?

ইসলাম মানবপ্রকৃতির সুস্থ বিনোদনকে সবসময় স্বাগত জানিয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে সাহাবিদের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, তীরন্দাজিতে উৎসাহিত করেছেন। বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদল সাহাবিকে বলেছিলেন, হে বনী ইসমাঈল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কারণ তোমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন একজন দক্ষ তীরন্দাজ। অতএব, সুস্থ উপায়ে খেলাধুলা উপভোগ করায় কোনো বাধা নেই।

বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন বিনোদন মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্যকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। পবিত্র কুরআনের সুরা মুনাফিকূনের ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমাদের সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। আর যারা এমন করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আধুনিক ফুটবলের জোয়ারে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সময়ের অপচয়। মধ্যরাতের ম্যাচ দেখে অনেকেই ফজরের নামাজ অবহেলায় ঘুমিয়ে পার করছেন। খেলা শেষে সামাজিক মাধ্যমে চলে কাদা ছোড়াছুড়ি। অথচ কিয়ামতের দিন যে প্রধান প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে, তার অন্যতম হলো,মানুষ তার জীবন কোন কাজে ব্যয় করেছে (তিরমিজি)।

আবেগের পাশাপাশি হচ্ছে বিপুল অর্থের অপচয়। প্রিয় দলের বিশাল পতাকা বানানো, জার্সি কেনা বা আতশবাজির নামে যে অপব্যয় হয়, তা বিবেকবান কাউকে আনন্দ দিতে পারে না। কোরআনে বলা হয়েছে, অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সুরা ইসরা, ২৬-২৭)।
এই উন্মাদনা সমাজে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করছে। একই ছাদের নিচের দুই ভাই বা দুই বন্ধু স্রেফ খেলার কারণে শত্রুতে পরিণত হচ্ছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে। (বুখারি)।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো তরুণদের অন্ধ অনুকরণ। প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখতে দেখতে তারা কখন যেন তার লাইফস্টাইল, অদ্ভুত চুলের ছাঁট বা ট্যাটু সংস্কৃতির অনুকরণ শুরু করে, তা নিজেরাও টের পায় না। যার আদর্শ হওয়ার কথা ছিল বিশ্বনবি (সা.)-এর সে আজ একজন বিদেশি ফুটবলারের জন্য হাজার শব্দের পোস্ট লেখে, অথচ সুন্নাহর প্রতি তার ভ্রুক্ষেপ নেই।

ইসলাম আনন্দের একটি সুন্দর নৈতিক সীমারেখা টেনে দেয়। খেলাধুলা যেন আমাদের ইবাদত ও আখেরাতের প্রস্তুতিকে গ্রাস না করে। বিনোদনকে বিনোদনের জায়গায় রেখে আসুন আমরা নিজে ও আমাদের সন্তানদের এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখি।

লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইমাম বুখারী,উত্তরা,ঢাকা।

৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৮ জুন ২০২৬, সোমবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত?
ছবি: সংগৃহীত

নিঝুম রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর পর আমরা যে স্বপ্নের মুখোমুখি হই, তা কেবলই কি মনের কল্পনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো মহাজাগতিক ইশারা? ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবির একটি গভীর ও স্বতন্ত্র জ্ঞান। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রামাণিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.)। তার কালজয়ী গ্রন্থ তাফসিরুল আহলাম-এ ঘুমের ঘোরে গান শোনা বা গান গাওয়ার এমন কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রতীকী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা সমসাময়িক মানুষকে সম্পূর্ণ নতুন এক চিন্তার খোরাক জোগায়।

ঘুমের মধ্যে যদি আপনি কোনো পরিচ্ছন্ন, অশ্লীলতাহীন এবং গভীর অর্থবহ গান বা গজল শুনতে পান, তবে তা কিন্তু ভয়ের কিছু নয়। ইবনে সীরীন (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন সাধারণত স্বপ্নদ্রষ্টার বাস্তব জীবনে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস। এটি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আকস্মিক উন্নতি এবং আর্থিক সমৃদ্ধি লাভের একটি শুভ ইঙ্গিত। এমনকি কোনো কোনো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এমন স্বপ্নের গায়কের মাঝে ভবিষ্যতে একজন বড় আলেম, জ্ঞানীগুণী, দূরদর্শী বিচারপতি কিংবা সফল মন্ত্রী হওয়ার মতো সুপ্ত গুণাবলি লুকিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

কিন্তু সব সুর তো শুভ বার্তা বয়ে আনে না; যদি স্বপ্নে শোনা গানটি হয় সস্তা, অশ্লীল কিংবা মন্দ কথার, তবে তা ভবিষ্যতের এক বড় সতর্কবার্তা। ইমাম ইবনে সীরীন (রহ.)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের স্বপ্ন মূলত বাস্তব জীবনে লোকসান বা বড় কোনো বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়। কোনো ধনাঢ্য বা সম্পদশালী ব্যক্তি যদি নিজেকে লোকালয় বা বাজারে বসে এমন গান শুনতে দেখে, তবে বুঝতে হবে তার জীবনে কোনো নৈতিক স্খলন বা মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখলে তা তার মানসিক চাপ বা জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

আপনি কি স্বপ্নে নিজেকেই গলা ছেড়ে গান গাইতে দেখছেন? ইসলামি স্বপ্নের বিজ্ঞানে এটিকে বেশ নেতিবাচক ও আশঙ্কাজনক চোখেই দেখা হয়েছে। এই তাবীর অনুযায়ী, স্বপ্নে নিজে গান গাইলে বাস্তব জীবনে তার শত্রু-মিত্র সবাই তাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার বা ত্যাগ করার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া, তাত্ত্বিকগণ মনে করেন গান মূলত মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও ফাসাদের উন্মেষ ঘটায়; কারণ বলা হয়ে থাকে, সৃষ্টির শুরুতে অভিশপ্ত ইবলিসই সর্বপ্রথম গান ও আর্তনাদ করেছিল। তাই স্বপ্নে নিজে গান গাওয়াকে পারিবারিক বা সামাজিক অশান্তির কারণ হিশেবে চিহ্নিত করা হয়।ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, স্বপ্ন মূলত তিন ধরনের, আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের কুমন্ত্রণা অথবা মানুষের নিজের মনের অবদমিত কল্পনা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক