ইসলামে নানাবিধ নেক আমলের কথা বলা হয়েছে। হিজরত তার মধ্যে সর্বোত্তম একটি নেক আমল। পবিত্র কোরআনে জিহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতময় একটি আমলের পাশে হিজরতের উল্লেখ রয়েছে। এর থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, ইসলামে হিজরতের গুরুত্ব কতখানি। আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং জিহাদ করেছে। (সুরা আনফাল, ৭২)।
তবে যদি কোনো মুহাজির ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হিজরত করে। যেমন- কোনো মুসলিম রাষ্ট্র বেশ উন্নত, সেখানে জীবনের জৌলুস আছে, আছে অপার ব্যাবসায়িক সুযোগ-সুবিধা। এসব পার্থিব চাকচিক্যের লোভে কেউ যদি কোনো কাফির রাষ্ট্র থেকে এই ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরত করে, সে হিজরতের সাওয়াব পাবে না। মুহাজিরদের তালিকায় তার নামও লেখা হবে না। কারণ, বাহ্যত সে মুহাজির হলেও বস্তুত সে একজন দুনিয়াকামী। তার নিয়তের খুঁত তাকে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করবে।
এমনিভাবে কারও কারও হিজরত হতে পারে প্রেমঘটিত। যেমন- কেউ মুসলিম রাষ্ট্রের কোনো মেয়ের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাকে কাফির রাষ্ট্রে বসবাসরত অবস্থায় বিয়ে করতে প্রস্তুত নয়। এমন পরিস্থিতিতে সে যদি এই মেয়েকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করে, তার এ হিজরতও হবে সাওয়াব বিবর্জিত। যদিও বাহ্যত এটাও হিজরত। কারণ, তার উদ্দেশ্য দ্বীন ছিল না, ছিল দুনিয়া।
আর আল্লাহতায়ালা মানুষের মনে কী চলছে, তা খুব ভালো করেই জানেন। পবিত্র কোরআনে আছে, বলো, তোমরা কি তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে আল্লাহকে জানাচ্ছ! অথচ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে, সবকিছু আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত। (সুরা হুজরাত, ১৬)
তার মূল উদ্দেশ্য সঠিক না থাকলেও তবু সে মুসলিম থাকবে। যদিও তার ইসলাম হবে অসম্পূর্ণ। কতটা অসম্পূর্ণ তা নির্ভর করবে তার ছেড়ে দেওয়া বিষয়ের গুরুত্ব ও অবস্থানের ওপর।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক