ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা এ যেন মাঠ ভরাট নয়, সম্প্রীতির উৎসব শেরপুরে প্রাইভেটকারে মদ, কারবারি আটক টেকনাফে সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
Nagad desktop

শাসক ও সেবক খলিফা উমর (রা.)

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
শাসক ও সেবক খলিফা উমর (রা.)
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের ইতিহাসে এমন অসংখ্য ঘটনার দৃষ্টান্ত রয়েছে যে, মুসলিম শাসকরা ছিলেন সাধারণ জনগণের উত্তম অভিভাবক। ছিলেন সফল রাষ্ট্রনায়ক, সুশাসক ও সত্যিকার মানবতার সেবক। মানব সেবাই যেন ছিল তাদের জীবনের এক মহান ব্রত। শুধু শাসন কার্য পরিচালনা করাই যাদের কাজ ছিল না। প্রকৃত জনসেবাও ছিল তাদের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তারা মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবার প্রতি ছিলেন আন্তরিক। ছিলেন প্রজা হিতৈষী শাসকও।

এমনই একজন শাসক হলেন অর্ধজাহানের খলিফা হজরত উমর (রা.)। যাকে বলা হতো খলিফাতুল মুসলিমিনও। যিনি তার শাসনামলে যুগান্তকারী অনেক কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইতিহাসের পাতায় চির অমর হয়ে আছেন। সিরাত-ইতিহাসের কিতাব থেকে সংকলিত করে আল্লামা শিবলী নোমানী (রহ.) লিখেছেন, অনবদ্য এক সংকলন খলিফা উমর (রা.)-এর জীবনীগ্রন্থ ‘আলফারুক’। 

বইটি প্রত্যেক সমাজকর্মী, সমাজ সংস্কারক, রাষ্ট্রচিন্তক, রাজনীতিবিদের অধ্যয়ন করা উচিত বলে মনে করি। এছাড়া রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং যারা রাষ্ট্র নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। গবেষণা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনা করেন কিংবা ভবিষ্যতে করবেন, তাদেরও এটি পাঠ করা উচিত। একবার এক শীতের রাতে খলিফা হজরত উমর (রা.) নিয়ম মাফিক টহল দিচ্ছিলেন মদিনার পথে। তখন হঠাৎ তিনি বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। শব্দ অনুসরণ করে সেই গন্তব্যে পৌঁছলেন। দেখলেন, একজন বিধবার চারপাশ ঘিরে বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে।

আরো পড়ুন: জুমাবারে হজ হলে কি সত্তর হজের সওয়াব?

কারণ জানতে চাইলে ওই নারী বললেন যে, ক্ষুধার জ্বালায় তারা কাঁদছে। তখন জ্বলন্ত উনুনে হাঁড়িতে কি যেন টগবগ করছিল। হজরত উমর (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, চুলার ওপর হাঁড়িতে কী আছে? ওই নারী উত্তর দিলেন যে, তাতে কয়েকটি নুড়ি পাথর ছাড়া আর কিছুই নেই। বরং বাচ্চাদের এভাবে ভুলিয়ে রাখা হচ্ছে। যতক্ষণ না তারা ঘুমিয়ে যায়। নারীটি খলিফার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুললেন। 

হজরত উমর (রা.)-এর দুচোখ বেয়ে অশ্রুধারা নেমে এল। তিনি বায়তুল মালে (রাষ্ট্রের কোষাগারে) ছুটে গেলেন এবং সেখান থেকে আটার বস্তা ও তেল নিজের পিঠে করে বয়ে নিয়ে এলেন। নিজ হাতে আগুন জ্বালালেন। খাবার তৈরি করে বাচ্চাদের খাওয়ালেন। তারপর তিনি ওই নারীকে বললেন, বায়তুল মাল থেকে তিনি যেন তার প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাবার নিয়ে আসেন। 

এটি ছিল সত্যিকার অর্থে একজন উত্তম শাসক বা রাষ্ট্রীয় অভিভাবকের করণীয় মহান দায়িত্ব। উল্লিখিত এ ঘটনা থেকে আমাদের সবার জন্য শিক্ষা হচ্ছে যে, আমরা আমাদের আশপাশের অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসব। এটি শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদেরই কর্তব্য নয়। বরং আর্থিকভাবে সক্ষম প্রতিটি মানুষেরই দায়িত্ব হচ্ছে যে, তার পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী ও অসহায় নিকটাত্মীয়দের খোঁজখবর রাখা। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সত্যিকার অসহায় অভাবীর অভিযোগকে আমলে নিয়ে সাধ্যমতো সঠিক ব্যবস্থা করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমাদের বের করা হয়েছে, মানবকল্যাণের জন্য। (সুরা আলে ইমরান, ১১০)

সহিহ মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, সাহাবি হজরত তামিম দারি (রা.) বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দ্বীন-ইসলাম হচ্ছে কল্যাণ কামনার নাম। জিজ্ঞেস করা হলো, কার জন্য কল্যাণ হে আল্লাহর রাসুল। বললেন, আল্লাহর, তার রাসুলের এবং সব মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করা। 

আজ আমরা প্রত্যেকেই যদি এভাবে ভাবি। আমাদের রাষ্ট্রের ও সমাজের দায়িত্বশীল অভিভাবকরাও যদি এভাবে জনগণের পাশে এসে দাঁড়ান। সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অসহায়-অবলা নারী, পথশিশু ও সাধারণ দিনমজুর মানুষের সেবায় এগিয়ে আসেন। তবে বাস্তবিক অর্থে আমরা একটি কল্যাণ (রাষ্ট্রের সমূহ কল্যাণ) দ্বারা উপকৃত হতে পারব। অনাহারে অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করে দুঃখ-কষ্টে জীবন কাটাতে হবে না সাধারণ মানুষের। এমন একটি কল্যাণকর আদর্শ রাষ্ট্র কী আমাদের দায়িত্বশীল অভিভাবকরা আমাদের উপহার দিতে পারেন না? আমরা আমাদের দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের অভিভাবকদের থেকে এমনটিই আশা করছি। 

লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর 

কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায়
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি কল্পনা করুন, মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা নিজে এবং তাঁর অগণিত ফেরেশতা চব্বিশ ঘণ্টা একটি বিশেষ কাজে নিয়োজিত আছেন! কাজটি কী? সেটি হলো সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাত পেশ করা। যে কাজের সাথে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা যুক্ত, সেই কাজে শামিল হওয়া মুমিনদের জন্য কত বড় সৌভাগ্য! নবিজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা কেবল একটি সাধারণ আমল নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর আদেশ এবং কিয়ামতের কঠিন দিনে নবিজির সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র রাজপথ।

পবিত্র কোরআনের সুরা আহযাবের একটি আয়াত মুমিনের হৃদয়ে নবিপ্রেমের জোয়ার তোলে। যেখানে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের প্রতি সরাসরি নির্দেশ জারি করে বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবির প্রতি সালাত (দরুদ) পেশ করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।(সুরা আহজাব, ৫৬)। আমরা যখন কারও জন্য দোয়া করি, তখন আমাদের নিজেদের কোনো লাভ হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়ার সমীকরণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং লাভজনক।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনুল আ’স (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বা দরুদ বর্ষণ করবেন। (মুসলিম, ৩৮৪; সুনানে নাসায়ী, ৬৭৮)। আপনি যখন দুনিয়ার কোনো মানুষের প্রশংসা বা উপকার করেন, তখন স্রষ্টা আপনাকে সরাসরি ১০ বার পুরস্কৃত করেন না। কিন্তু নবিজির প্রতি ১ বার দরুদ পাঠ করলে মহাবিশ্বের মালিক আপনার ওপর ১০ বার বিশেষ দয়া ও শান্তি বর্ষণ করেন। এটি এক অসামান্য আধ্যাত্মিক ইনভেস্টমেন্ট!

কিয়ামতের দিন যখন কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে চারদিকে হাহাকার থাকবে, তখন কার পাশে দাঁড়াতে চাইবেন আপনি? সেই চরম বিপদের মুহূর্তে নবিজির সবচেয়ে কাছে থাকার সূত্রটি অত্যন্ত সহজ। হযরত ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব মানুষের চেয়ে আমার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী (কাছাকাছি) হবে, যে তাদের মধ্যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পড়বে। (জামে আত-তিরমিজি, ৪৮৪)

দরুদ ও সালাম হলো নবিপ্রেমের শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি সময় বের করে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা আমাদের জীবনের পাপমোচন করে এবং আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেয়। বইয়ের পাতা কিংবা পত্রিকার কলামে নবিজির অবয়ব ও মর্যাদার এই অনন্য দিকটি আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনে দরুদ পড়ার এক নতুন প্রেরণা জোগাবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ইসলামে মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো ‘মা’। একজন মানুষ পৃথিবীর আলো দেখার পর প্রথম আশ্রয়, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা খুঁজে পায় মায়ের কাছেই। ইসলাম এই সম্পর্কটিকে শুধু আবেগ বা পারিবারিক বন্ধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং মায়ের মর্যাদাকে উন্নীত করেছে ইবাদতের পর্যায়ে, সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে। 

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবি করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে আমার কাছে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার?’ নবি করিম (সা.) বলেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবারও জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার বাবার।’ (বুখারি ও মুসলিম)। 

মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না। তাদের সঙ্গে কথা বলো সম্মানসূচক ও নম্রভাবে’ (সুরা বনি ইসরাইল, ২৩)। 

এছাড়া হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়; এতে কোনো সন্দেহ নেই। এক, মা-বাবার দোয়া তার সন্তানের জন্য; দুই, মুসাফিরের দোয়া ও তিন, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া অত্যাচারীর বিরুদ্ধে’ (সুনানে আবু দাউদ, ১৫৩৮)। প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়ের সেবা করা। ছোটবেলায় মা যেমন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আমাদের অসুস্থতায় পাশে থেকেছেন ও সেবা করেছেন, তেমনি তার প্রতি যত্ন নেওয়া ও সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) সাহাবিদের মায়ের সেবা করার প্রতি নির্দেশ দিতেন। 

একদিন হজরত মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা আসসালামি (রা.) রাসুল (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি জিহাদ করতে ইচ্ছুক। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?’ জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার মা আছেন?’ তিনি বললেন, ‘আছেন।’ রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তার পায়ের নিচেই জান্নাত।’ 

হাদিসে এরশাদ হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহতায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. ৪২১)। 
সর্বোপরি, মা হলেন পৃথিবীর বুকে আল্লাহতায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত। মায়ের এই অসামান্য ত্যাগকে ইসলামে বিশেষ স্বীকৃতিই শুধু দেয়নি, বরঞ্চ তার সেবাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর তাই দুনিয়া ও আখিরাতের পরম সফলতা লাভ করতে হলে মায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ

শামায়েল রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন
ছবি: সংগৃহীত

কল্পনা করুন আরবের তপ্ত মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে আছেন এক অনন্য পুরুষ। তাঁর পরনে ইয়েমেনি লাল ডোরাকাটা চাদর ও লুঙ্গি, আর কাঁধ ছুঁয়ে যাচ্ছে ঘন কালো বাবরি চুল। দূর থেকে দেখলেই মনে হয় এক রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক। তিনি আমাদের প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। কিন্তু আপনি কি জানেন, মহানবি (সা.)-এর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান সাধারণ মানুষের চেয়ে কেমন আলাদা ছিল? কিংবা সাহাবিদের বর্ণনায় তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য কখনো কানের লতি, আবার কখনো কাঁধ পর্যন্ত বলার পেছনেদর রহস্যটা কী? চলুন, আজ তাঁর অবয়বের এই চমৎকার দিকটি জেনে নেওয়া যাক।

সাহাবি হযরত বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর চোখের দেখা বর্ণনা থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশি প্রশস্ত ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং শারীরিক গঠনের দিক থেকে চওড়া কাঁধ হলো একজন পুরুষের শারীরিক দৃঢ়তা, শক্তি এবং নেতৃত্বের প্রতীক। তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ বা খাটো ছিলেন না, বরং এই চওড়া কাঁধ তাঁর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ মাঝারি গড়নের দেহে এমন এক রাজকীয় গাম্ভীর্য এনে দিয়েছিল যে, সাহাবি বারা (রা.) মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে কখনো দেখিনি।’

হাদিসের পাঠক মাত্রই একটি কৌতূহলের মুখোমুখি হন। কোনো হাদিসে বলা হয়েছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল ছিল কানের লতি পর্যন্ত, আবার কোনো বর্ণনায় এসেছে তা কাঁধ পর্যন্ত লম্বা ছিল। আপাতদৃষ্টিতে একে ভিন্ন মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক চমৎকার ও নতুন জানার মতো তথ্য।

আরো পড়ুন: রাসুল (সা.) যেভাবে চুলের যত্ন নিতেন

আরো পড়ুন: কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

মানুষের চুল সব সময় এক মাপে থাকে না, তা প্রতিনিয়ত বাড়ে। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারকও সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যে পৌঁছাত। আরবের পরিভাষায় তাঁর চুলের এই পরিবর্তনশীল নান্দনিকতাকে তিনটি ভাগে ব্যাখ্যা করা হয়:

১. ওয়াফরা (Wafrah): যখন তাঁর চুল মোবারক সবচেয়ে ছোট অবস্থায় কানের লতি পর্যন্ত থাকত।

২. লিম্মা (Limmah): যখন চুল কিছুটা বড় হয়ে কান ও কাঁধের মাঝামাঝি বা ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছাত।

৩. জিম্মা (Jimmah): যখন চুল মোবারক সর্বোচ্চ বড় হয়ে সরাসরি কাঁধ স্পর্শ করত।

এই তিনটি শব্দের সঠিক জ্ঞান আমাদের শেখায় যে, সুন্নতের অনুসরণে চুল কতটুকু রাখা মার্জিত ও নান্দনিক। তিনি যখনই যেভাবে চুল রেখেছেন, তা তাঁর উজ্জ্বল অবয়ব ও চওড়া কাঁধের সাথে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করত।

তথ্যসূত্র: মুসলিম, ৬২১১; মুসনাদে আহমাদ, ১৮৫৮১

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ৭ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ?
সাহাবিরা তার সেই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠতেন। ছবি: সংগৃহীত

যার হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল এক অপার্থিব আভিজাত্য, যার কাঁধের প্রশস্ততা আর কানের লতি ছুঁয়ে যাওয়া ঘন বাবরি চুলে মুগ্ধ হতো গোটা আরব–কেমন ছিল সেই অনন্য রূপের মহিমা? আমরা অনেকেই জানি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সুদর্শন মানব। কিন্তু আপনি কি জানেন, পুরুষদের জন্য লাল পোশাক পরা নিয়ে সাধারণ একটি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, জীবনের এক বিশেষ মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এক অনুপম লাল পোশাকে দেখা গিয়েছিল? কী ছিল সেই লাল পোশাকের রহস্য? চলুন, আজ তাঁর শারীরিক গঠন ও পোশাকের সেই অজানা নান্দনিক অধ্যায়ে প্রবেশ করি।

দেহের গঠন ও অনন্য অবয়ব
সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) এবং বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর নিখুঁত বর্ণনা থেকে জানা যায়, প্রিয় নবি (সা.) ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণ বা ফর্সা ত্বকের অধিকারী। তাঁর শারীরিক অবয়ব ছিল অসম্ভব আকর্ষণীয় এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি খুব বেশি দীর্ঘকায় ছিলেন না, আবার খাটোও ছিলেন না; বরং এক নিখুঁত মধ্যমাকৃতির অধিকারী ছিলেন। তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী অংশ ছিল তুলনামূলক প্রশস্ত, যা তাঁর অবয়বে এক চিরন্তন পুরুষোচিত দৃঢ়তা ফুটিয়ে তুলত। তাঁর মাথার চুলগুলো একদম সোজা কিংবা খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না, বরং কানের লতি পর্যন্ত ঝুলন্ত সেই ঘন কালো চুল মোবারক তাঁর সৌম্য চেহারায় এক মায়াবী ও রাজকীয় রূপ দান করত।

চলনবলনে আভিজাত্য ও বিনয়
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাঁটার মধ্যেও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেত। তিনি অলসভাবে বা অহংকার নিয়ে পা ফেলতেন না, বরং পথ চলার সময় কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন। সাহাবিদের ভাষায়, তাঁকে দেখে মনে হতো তিনি যেন কোনো উঁচু পাহাড় বা ঢালু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন। এই চলনভঙ্গি তাঁর অতুলনীয় কর্মোদ্যম ও বিনম্র ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ছিল।

লাল পোশাকের সেই অজানা রহস্য
হাদিসের পাতায় একটি চমৎকার বিবরণ মেলে, যেখানে সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাল রঙের লুঙ্গি ও চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছিলেন এবং মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে কখনো দেখিনি।’ অথচ ইসলামের সাধারণ নিয়মে পুরুষদের জন্য একদম খাঁটি বা টকটকে লাল পোশাক পরিধান করা নিষেধ।

আরো পড়ুন: কেমন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষের অবয়ব?

 
 

ইসলামে পুরুষদের জন্য যে লাল রঙের পোশাকের ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে, তা মূলত নিরেট, গাঢ় বা উজ্জ্বল লাল । রাসুলুল্লাহ (সা.) যে চাদর ও লুঙ্গি পরেছিলেন, তা কিন্তু একক কোনো লাল রঙের ছিল না। সেটি ছিল তৎকালীন আরবের ঐতিহ্যবাহী ইয়েমেনি ঘরানার লাল এবং অন্য রঙের মিশ্রণে তৈরি চমৎকার ডোরাকাটা সুতি পোশাক। এই নান্দনিক পোশাকটি তাঁর উজ্জ্বল গৌরবর্ণের সাথে এমন অপার্থিবভাবে মানিয়ে গিয়েছিল যে, সাহাবিরা তার সেই রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছিলেন।

(তথ্যসূত্র ও বর্ণনাসূত্র: সহিহ বুখারি,৩৫৫১; মুসলিম, ৬২১০; নাসায়ি, ৫২৩; মুসনাদে আবু ই’আলা,৩৮৩২; শারহুস সুন্নাহ, ৩৬৪০)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক