নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি কার্যক্রম ক্রমেই গতিশীল হচ্ছে। গেল এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় এনআইডি কার্যক্রম চালুর পর এবার জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্থাটি। আগামী ১৫ জুলাই জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে এনআইডি কার্যক্রম।
২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৯টি দেশের ১৬টি স্টেশনে চলছে প্রবাসীদের নিবন্ধন কার্যক্রম। তার মধ্যে সাতটি দেশে ভোটার করা হয়েছে ১৯ হাজার ২৮৬ জনকে। তাদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পেয়েছেন ১১ হাজার ১২৩ জন। ইসির এনআইডি শাখার মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর খবরের কাগজকে জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১০ থেকে ১২টি দেশে এই ভোটার কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে দূতাবাসগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ইসি।
জাপানে এনআইডি কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এএসএম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘গত ২৬ মে জাপানে এই কার্যক্রম চালুর জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেয়েছি। ঈদের পর আগামী ১৫ জুলাই জাপান প্রবাসীদের মাঝে এনআইডি কার্যক্রম চালুর জন্য ইসির ৪-৫ সদস্যের একটি দল জাপানে যাবে। জাপান সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশটিতে এনআইডি কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেবেন। এ উপলক্ষে আগামীকাল ৩০ মে জাপানের রাজধানী টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে।
ইসির এনআইডি শাখার মহাপরিচালক জানান, জাপানে কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে দেশটির দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রবাসীদের এই কার্যক্রমের ব্যাপারে তারা খুবই আন্তরিক। ইসির পক্ষ থেকে আগামী ৩-৪ জুন দেশটিতে নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি (ল্যাপটপ, সার্ভার, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ক্যামেরা, সিগনেচার, আইরিশ স্ক্যানারসহ অন্যান্য) পাঠানো হবে। এরপর জাপানে যারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক (রেজিস্ট্রেশন অফিসার, প্রোগ্রামার/সহকারী প্রোগ্রামার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর) দল পাঠানো হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অনু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯টি দেশের ১৬টি স্টেশনে ইসির প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন ও ভোটার করার কার্যক্রম। সেগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। তার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পড়া ১৯ হাজার ১৯৭ আবেদনের নিবন্ধন শেষ হয়েছে ৯ হাজার ৪২৩ জনের। সৌদি আরব থেকে আসা ৩ হাজার ৫৫৪টি আবেদনের মধ্যে আপলোড হয়েছে ৫৭৭টি। যুক্তরাজ্যের আবেদনকারী ৮ হাজার ৫২৯ প্রবাসীর মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে ৩ হাজার ৯৮৫ জনের। ইতালির ৬ হাজার ৩৭২টি আবেদনের মধ্যে নিবন্ধন শেষ হয়েছে ২ হাজার ৪২৩ জনের। কুয়েত থেকে আসা ৩ হাজার ৭৮২টি আবেদনের মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে ১ হাজার ৩০৩টির। কাতার থেকে ২ হাজার ৮০২ আবেদনকারীর মধ্যে নিবন্ধন হয়েছে ১ হাজার ৮২ জনের। আর মালয়েশিয়া থেকে আসা ৯৪৮টি আবেদনের মধ্যে ইসির সার্ভারে তথ্য আপলোড হয়েছে ৩৫৬ জনের। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা প্রবাসীদের আবেদন গ্রহণের প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে।
এ পর্যায়ে কার্যক্রম চলমান থাকা দেশগুলো থেকে ইসিতে আবেদন জমা পড়েছে ৪৫ হাজার ১৮৪টি। তার মধ্যে আঙুলের ছাপ দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন ২৮ হাজার ৯২৬ জন। আর যাচাই-বাছাই ও তদন্তে আবেদনকারীর ঠিকানা ও অন্যান্য ডকুমেন্টস ভুল প্রমাণ হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৬৩টি আবেদন। বিভিন্ন উপজেলায় তদন্তাধীন আবেদন ২১ হাজার ৮৮৯টি। নতুন করে সার্ভারে ১৬ হাজার ২৯ জনের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রক্রিয়াভুক্ত হয়ে ২৩ হাজার ২৯৫টি আবেদন। এ পর্যন্ত ১১ হাজার ১৫৮ জনের স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করে প্রবাসীদের মধ্যে বিলি করার জন্য মিশন অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ছাড়া বাকি ৬টি দেশের (সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, কুয়েত, কাতার, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া) প্রবাসীদের মাঝে স্মার্টকার্ড বিতরণ চলমান। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১০ থেকে ১২টি দেশে ভোটার কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে নির্বাচন কমিশনের। ভবিষ্যতে ৪০টি দেশে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। প্রবাসীদের সংবিধান স্বীকৃত ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর। তৎকালীন সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের মাঝে প্রথম এনআইডি সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এলিস/অমিয়/