টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ আগেই নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি ছিল আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করার উপলক্ষ। সেই কাজটি বেশ দাপটের সঙ্গেই করে দেখাল টিম টাইগার্স।
রবিবার (৫ অক্টোবর) শারজাহে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৬ উইকেটে। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তান ২০ ওভারে ৯ উইকেটে তোলে ১৪৩ রান। জবাবে বাংলাদেশ ১২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায়। ব্যাট হাতে ৩৮ বলে দুই চার ও সাত ছক্কায় ৬৪ রানে অপরাজিত থাকা সাইফ হাসান জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
তিন ম্যাচ সিরিজে এই প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৩ সালে সিলেটেও আফগানদের ধবলধোলাইয়ের লজ্জা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেটি ছিল দুই ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজ।
এই হোয়াইটওয়াশে পুরোনো একটা হিসাবও চুকালো বাংলাদেশ। ভারতের দেরাদুনে ২০১৮ সালে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল নবী-রশিদরা। এবার মরুর বুকে তিন ম্যাচেই দাপট দেখিয়ে ৩-০ তে সিরিজ জিতল জাকের ব্রিগেড।
লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ছিল সাবধানী। প্রথম ওভার মেডেন। তানজিদ মারমুখী থাকলেও ইমন ধীর গতিতে ব্যাট চালাতে থাকেন। তারপরও ইনিংস বড় হয়নি তার। পঞ্চম ওভারে আউট তিনি ১৬ বলে ১৪ করে। দ্বিতীয় উইকেটে সাইফ হাসানের সঙ্গে ৩৯ বলে ৫৫ রানের দারুণ জুটি গড়েন তানজিদ। একবার জীবন পাওয়া তানজিদ থামেন ব্যক্তিগত ৩৩ রানে, ৩৩ বল। চার চারটি ও ছক্কা একটি।
অধিনায়ক জাকেরকে সঙ্গে নিয়ে সাইফ ছিলেন দুরন্ত। দলের রানও পার হয়ে যায় এর মধ্যে ১০০। তবে ১৪তম ওভারে স্পিন ঘূর্ণিতে টানা দুই উইকেট তুলে নেন আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমান। জাকের ১১ বলে ১০ করলেও রানের খাতাই খুলতে পারেননি শামিম হোসেন, বোল্ড। মারেন গোল্ডেন ডাক। বাকি পথটুকু অবশ্য নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়েই পাড়ি দেন সাইফ। ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। ৯ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন সোহান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তান তৃতীয় ওভারেই হারায় প্রথম উইকেট। শরিফুলের বলে বিদায় নেন ইব্রাহিম জাদরান (৬ বলে ৭ রান)। পরের ওভারেই আরেক ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে বিদায় করেন নাসুম।
এরপর দৃশ্যপটে অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ওয়াফিউল্লাহ তারখিলকে বোল্ড করেন তিনি (১৩ বলে ১১ রান)। ভালো ব্যাট করতে থাকা সেদিকুল্লাহকে ২৮ রানে থামান সেই সাইফউদ্দিন। মিডল অর্ডারে ভরসার জায়গায় আজমত উল্লাহকে ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই বিদায় করেন রিশাদ হোসেন।
প্রায় প্রতি ম্যাচে শেষ দিকে জ্বলে ওঠা মোহাম্মদ নবীকে ১ রানেই বোল্ড করেন নাসুম। জ্বলে উঠতে পারেননি আফগান অধিনায়ক রশিদ খানও (৭ বলে ১২ রান)। পরের বলেই আব্দল্লাহ আহমাদজাইকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেও লক্ষ্য পূরুণ করতে পারেননি তানজিম।
শেষের দিকে নবী ও রশিদ দ্রুত বিদায় নিলেও রানের চাকা সচল রাখেন রাসুলি ও ফজলহক ফারুকি। ২৯ বলে ৩২ রান করেন রাসুলি। ১৮ বলে চারটি চারে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন ফারুকি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা বাশির আহমাদ ৫ বলে ২ রানে থাকেন অপরাজিত।
৩ ওভারে বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন সাইফ উদ্দিন। নাসুম ও তানজিম নেন দুটি করে উইকেট। ৪ ওভারে দুজনই দেন ২৪ রান। শরিফুল ও রিশাদের শিকার একটি করে।
এবার ওয়ানডে সিরিজের পালা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমাটি মাঠে গড়াবে আগামী বুধবার। ১১ ও ১৪ অক্টোবর বাকি দুই ওয়ানডে। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে।
চঞ্চল/এসজি/










