গ্রুপপর্বে ৪ ম্যাচের ৩টি জিতে সুপার এইট পর্ব নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেমিফাইনালে রেসে একেবারেই বিবর্ণ ছিল দলটি। দ্বিতীয় রাউন্ডে ৩ ম্যাচের সবকটি হারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সহ-আয়োজকরা। দলের এমন বিদায়ের পরই পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ সনাৎ জয়াসুরিয়া।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ক্যান্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ রানের হারের পর জয়সুরিয়া বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এই দায়িত্বটা অন্য কাউকে দেওয়া উচিত। তাই ইংল্যান্ড সিরিজ চলাকালীন দুই মাস আগেই বলেছিলাম, এখানে থাকার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। বিশ্বকাপের পর ভালোভাবে বিদায় নিতে পারব ভেবেছিলাম। কিন্তু যতটা আশা করেছিলাম, ততটা করতে পারিনি। এ জন্য আমি দুঃখিত।’
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ২০২৬ জুন পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ জয়াসুরিয়া। তাহলে কি ১৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজে দায়িত্বে থাকবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়াসুরিয়া বলেন, ‘কিন্তু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে এখনো আলোচনা হয়নি। অবশ্যই তাদের সঙ্গে কথা বলব। আমি তাদের জানিয়েছি, যদি তারা বিকল্প কাউকে পায়, অবশ্যই আমি সরে দাঁড়াব।’
২০২৪ সালের জুলাই থেকে দায়িত্বে থাকা সাবেক এই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয় দিয়ে কোচিং অধ্যায় শুরু করেছিলেন। পরে তার অধীনেই ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জেতে শ্রীলঙ্কা।
নিজের সময়কাল নিয়ে জয়াসুরিয়া বলেন, ‘দেড় বছরে আমি দলকে এগিয়ে নিয়েছি। আমরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কোয়ালিফাইও করতে পারিনি, কিন্তু ওয়ানডেতে দলকে চার নাম্বারে তুলেছি। টেস্ট দলকে ছয়ে এনেছি, টি-টোয়েন্টি দলকেও ছয়ে এনেছি। সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ জয়ের হার নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছি। এটা একা সম্ভব হয়নি; সাপোর্ট স্টাফরা আমাকে দারুণ সহায়তা করেছে। প্রথম দিন থেকেই আমি তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। তাই আমি যা করেছি, তাতে খুশি থাকতে পারি।’
তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশাজনক সমাপ্তি স্বীকার করেছেন জয়াসুরিয়া, ‘২০১৪ বিশ্বকাপের পর আমরা সুপার এইটে উঠতেই পারিনি। দীর্ঘ সময় পর এবার উঠেছি, সেটা ভালো। কিন্তু ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই মূল চাবিকাঠি। দল হিসেবে ভালো করতে চাইলে ব্যাটিং ও বোলিং, দুটোকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের খেলোয়াড় আছে, কিন্তু চাপের মধ্যে পারফর্ম করতে হবে। এখনও কিছু জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন।
সাতটি ম্যাচেই গ্যালারিতে ভিড় করা সমর্থকদের হতাশ করার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন জয়সুরিয়া, ‘দর্শকদের জন্য আমি খুবই দুঃখিত। আমি জানি তারা দলের ওপর কতটা বিশ্বাস রেখেছিল। প্রথম ম্যাচ থেকেই তারা পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। এর জন্য আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। তারা হয়তো উদ্বিগ্ন, হয়তো আমাদের ওপর রাগান্বিত, আমাদের সেটা মেনে নিতে হবে। কারণ ক্রিকেটই তাদের একমাত্র খেলা। আমরা ভালো না খেললে তারা কতটা কষ্ট পায়, সেটা বুঝতে হবে। আমাদের বিনয়ী থাকতে হবে।’
অনিক/