ভীষণ মন খারাপ বিসিবির নির্বাচনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হওয়া জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানের। তিন দশকের ক্রীড়া সংগঠকের পরিচয় আড়ালে পড়ে গেছে তার ছোট ভাই শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর। বিসিবির নির্বাচনে আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানের পরিচয় তুলে ধরা হচ্ছে তার এই ছোট ভাইয়ের পরিচয়ে। খবরের কাগজের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘আমি এর আগে দুবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে ছিলাম। এবার যদি আমি আমার ছোট ভাইয়ের পরিচয়ে পরিচালক হয়ে থাকি, তাহলে আগের দুবার কার পরিচয়ে পরিচালক হয়েছিলাম? তখন তো আমার ছোট ভাই এমপি ছিল না। আমার পরিচয় এমপির ভাই নয়, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে।’ বিসিবির এবারের নির্বাচনে সরকারি দল থেকে এত অধিকসংখ্যক মন্ত্রী-এমপির সন্তান, আত্মীয়স্বজন অংশগ্রহণ করছেন, যা আগে কখনো হয়নি। যে কারণে আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানও পড়ে গেছেন সেই পরিচয়ে। আড়ালে পড়ে গেছে তার দীর্ঘদিনের ক্রীড়া সংগঠকের পরিচয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিসিবির নির্বাচনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে বিএনপি-ঘরানার অন্য অনেক সংগঠকের মতো আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। আসিফ মাহমুদের পুরোটা সময় গোটা দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ছিল অ্যাডহক কমিটিতে ভরপুর! বিসিবির নির্বাচনের সময় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্দেশে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাস বুলবুল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলরের নাম পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে নিজে স্বাক্ষর করা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এতে করে অ্যাডহক কমিটির বাইরে থেকে যারা প্রথমে কাউন্সিলর হয়েছিলেন, তাদের সবারটা বাতিল হয়ে যায়। এর প্রতিবাদে আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতের রায় তাদের পক্ষে এসেছিল। পরে সেই রায়ের ওপর রিট করে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এভাবেই তিনি অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। এটা তিনি সব সময় করে থাকেন।
খেলাধুলার প্রতি অন্তহীন আগ্রহ থেকে তিনি আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে গেছেন দীর্ঘ সময়। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচিত সদস্য। এরপর ২০০৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চার মেয়াদে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মাঝে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন আয়োজন এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছিলেন।
২০১৫ সালে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হয়। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রথম অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করা আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। দুই বছর তিনি এই কমিটিতে দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৭ সালে একই পদে নির্বাচিত হয়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে তিনি আবারও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি এই কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার মতো ময়মনসিংহ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন আয়োজন ও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হন। ময়মনসিংহ যখন বিভাগ হয়নি, জামালপুর ছিল ঢাকা বিভাগের অধীনে, তখন ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জামালপুর শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজের অধ্যাক্ষ আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য ছিলেন। তার সময়েই মহিলা উইংস কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সর্বপ্রথম নারী ক্রিকেটারদের বেতনের আওতায় নিয়ে আসেন। এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমি বিসিবিতেই আসতে পারিনি। লড়াই করে নিজের এলাকায় খেলাধুলার জন্য কাজ করে গেছি। দীর্ঘদিন পর আবার বিসিবিতে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। ক্রিকেটকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে যাব।’