ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
Nagad desktop

ডিপসিকের এআই চ্যাটবট উন্মোচনে টালমাল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫০ পিএম
আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম
ডিপসিকের এআই চ্যাটবট উন্মোচনে টালমাল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার
ডিপসিকের এআই চ্যাটবট। ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিক। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির এআই চ্যাটবট উন্মোচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ডিপসিকের এআই চ্যাটবটের কার্যক্ষমতা দেখে এ খাত সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক-শেয়ারবাজার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূলধন হারিয়েছে। একে অনেকে এআই প্রযুক্তিতে ‘স্পুটনিক মোমেন্ট’- এর সঙ্গে তুলনা করছেন। 

ডিপসিকের মডেল উন্মোচনের পর গত সোমবার প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ার বাজার ন্যাসড্যাকের সূচক ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এআই মডেল তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটারের চিপের শীর্ষস্থানীয় প্রস্তুতকারক এনভিডিয়ার ১৭ শতাংশ পর্যন্ত হারিয়েছে, যা মার্কিন শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দর পতন। এতে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। এমনকি টেক জায়ান্ট অ্যাপলও তাদের শীর্ষস্থান হারিয়েছে।

এদিকে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট ১০০ বিলিয়ন ডলার ও মাইক্রোসফট ৭ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের দর পতনের প্রভাবে মঙ্গলবার জাপানি এআই খাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে। অ্যাডভান্টেজের শেয়ার মূল্য ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। সফটব্যাংক ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

ডিপসিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে উঠে এসেছে, এমনকি ওপেন এআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে গত সোমবার সাইবার হামলার শিকার হয়েছে ডিপসিক। এ কারণে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে ডিপসিকে।
ডিপসিকের ‘আর১’ এআই মডেল তুলনামূলক কম শক্তিশালী চিপ ব্যবহার করেও উচ্চমানের পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের এআই মডেল তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে পশ্চিমা দেশগুলোর এআই মডেল তৈরিতে এই খরচ কয়েক শ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ডিপসিক দাবি করেছে, তাদের এআই মডেল তৈরি করতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কম চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ কমেছে। ডিপসিকের নভেম্বরের গবেষণাপত্র অনুসারে, এনভিডিয়ার তৈরি কম সক্ষমতার ‘এইচ৮০০’ চিপ ব্যবহার করে নিজস্ব অ্যালগরিদম তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এনভিডিয়ার সবচেয়ে উন্নত চিপ ‘এইচ১০০’ চীনে রপ্তানি হয় না। এনভিডিয়া চীনের বাজারের জন্য কম শক্তিশালী এইচ৮০০ চিপ তৈরি করেছে, তবে সেটিও পরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনা বাজারে রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে।
ডিপসিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তি সবার জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হওয়া উচিত। তার দাবি, ডিপসিকের প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত এআই মডেলগুলোর কাছাকাছি বা কিছু ক্ষেত্রে এগিয়েও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিপসিকের উত্থানকে এআই খাতে আমেরিকার জন্য একটি ‘সতর্ক সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এআই খাতে দ্রুত অগ্রগতি করছে। আমাদের এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে আরও মনোযোগী হতে হবে।’ 
এদিকে ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান ডিপসিকের এআই মডেলের প্রশংসা করে এটিকে একটি চমকপ্রদ উদ্ভাবন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক অ্যান্ড্রেসেন ডিপসিকের আর১ মডেলের আত্মপ্রকাশকে মার্কিন-সোভিয়েত মহাকাশ প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ‘স্পুটনিক মোমেন্ট’- এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ডিপসিক দাবি করেছে, তাদের আর১ মডেল ওপেনএআইয়ের ‘ও১-মিনি’ এআই মডেলকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে গেছে। আর্টিফিশিয়াল অ্যানালাইসিসের গবেষণা বলছে, এটি গুগল, মেটা ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই মডেলের চেয়েও ভালো।

ডিপসিকের প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং এআই মডেল তৈরি করার জন্য ২০২১ সাল থেকে এনভিডিয়া চিপ কিনছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিপসিক প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিটি শুধু গবেষণার ওপর মনোযোগ দিয়েছে। ডিপসিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ও এর কোড বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। ওপেনএআইয়ের ও১ এর চেয়ে ডিপসিকের এআই মডেল পরিচালনা করাও সস্তা।

লিয়াং ওয়েনফেং এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা এআইয়ের মধ্যে ব্যবধান মাত্র এক থেকে দুই বছরের।

ডিপসিকের উন্নত এআই মডেলের আত্মপ্রকাশ এআই অবকাঠামোতে বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ও এআই-এ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।

বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এখন এআই খাতে উচ্চ খরচ এবং তার সঠিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস এআই খাতে খরচ নিয়ে গত বছর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি নোট প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিপসিকের মতো প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিকে আরও উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী করতে সক্ষম। তবে এটি মার্কিন এআই শিল্পের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এআই প্রযুক্তির গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। যুক্তরাজ্যের অ্যালান টুরিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. অ্যান্ড্রু ডানকান বলেছেন, ‘ডিপসিক দেখিয়েছে, সীমিত সম্পদ দিয়েও দুর্দান্ত কিছু তৈরি করা সম্ভব।’

ডিপসিকের সাফল্য বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, বড় বাজেট নয়, বরং সৃজনশীলতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও এআই খাতে সফল হওয়া সম্ভব। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নানা সুবিধা আমাদের জীবনকে সহজ করছে। তবে এই প্রযুক্তির ওপর আমাদের অতিরিক্ত ভরসা বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। সম্প্রতি এআই চ্যাটবটের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

২০২৫ সালে বিবিসির এক গবেষণায় দেখা যায়, শীর্ষস্থানীয় চ্যাটবটগুলোর দেওয়া সংবাদের অর্ধেকের বেশি উত্তরে মারাত্মক ভুল ছিল। প্রায় ২০ শতাংশ উত্তরে ভুল তারিখ, সংখ্যা বা ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি এআই বিবিসির প্রতি আটটি উদ্ধৃতির একটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা কিংবা পরিবর্তিত হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই নীতিবিদ ড. ক্যারিসা ভেলিজ বলেন, ‘এআই সত্য প্রকাশের জন্য তৈরি হয়নি। এটি বিশ্বকে বোঝে না। কারণ এটি এই জগতের বাসিন্দা নয়।’

এই ভুল কেবল তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি মানুষের জীবনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন কিশোর অ্যাডাম রেইন ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করে। একপর্যায়ে চ্যাটবটটি তার মানসিক সঙ্গী হয়ে ওঠে। আদালতে দায়ের করা এক মামলায় বলা হয়, চ্যাটজিপিটি অ্যাডামের সঙ্গে আলাপে ১ হাজার ২৭৫ বার আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তোলে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের এপ্রিলে অ্যাডাম আত্মহত্যা করে। 

যুক্তরাজ্যের এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য এআই ব্যবহার করেছেন। অথচ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, এআই থেরাপি চ্যাটবটগুলো সংকটের সময় সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হয়।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এআই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। অনেকে চ্যাটবটের সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করছেন, যা তাদের বাস্তব সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলছে। এক জার্মান জরিপ অনুযায়ী, চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ করা ব্যক্তিরা বেশি একাকিত্বে ভোগেন। এমনকি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মানুষ আরও বেশি মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এআই ক্ষতিকর আচরণ করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টগুলো মানুষের নির্দেশ ছাড়াই বাজারে নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সফটওয়্যার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এআই বড় বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জেসন লেমকিনের একটি অ্যাপ তৈরির সময় এআই এজেন্ট তার পুরো ডেটাবেস মুছে দেয় এবং তা ঢাকতে ভুয়া প্রোফাইল ও তথ্য তৈরি করে।

বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী ডেবোরা টারনেস বলেন, ‘এআইয়ের সুবিধার মূল্য হিসেবে মানুষকে বিভ্রান্তিকর বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্য দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।’ এই প্রযুক্তির জবাবদিহিতা ও নৈতিক সীমারেখা নিশ্চিত না করলে মানবসভ্যতাকে আরও বড় মূল্য চোকাতে হবে।

অ্যাপলের ধীরস্থির এআই কৌশল কেন সফল

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
অ্যাপলের ধীরস্থির এআই কৌশল কেন সফল
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় অ্যাপল বেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা চলছিল। তবে সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সবচেয়ে বড় এআই আপডেট উন্মোচন করেছে। নতুন এই প্রযুক্তির আওতায় অ্যাপলের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’ এখন গুগল জেমিনাইয়ের সহায়তায় আরও স্বয়ংক্রিয় ও শক্তিশালী সেবা দেবে, যা সরাসরি অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

অ্যাপলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রেগ ফেদরিঘি বলেন, অনেকে কেবল প্রযুক্তির খাতিরে এআই নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে। কিন্তু অ্যাপলের লক্ষ্য সব সময় সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও কার্যকর প্রযুক্তি তৈরি করা। মূলত এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ গ্রাহকদের চাকরি হারানো বা অন্যান্য নেতিবাচক উদ্বেগের সময়ে অ্যাপল নিজেদের ব্যবহারকারীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করছে।

নতুন এই আপডেটের ফলে সিরি এখন ব্যবহারকারীর ইমেইল ও মেসেজের ভেতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবে। স্ক্রিনে কী দেখা যাচ্ছে, তা বুঝতে পারার পাশাপাশি জেমিনাইয়ের সহায়তায় ইন্টারনেট থেকে মুহূর্তেই যেকোনো হালনাগাদ তথ্য পর্দায় হাজির করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ডিভাইসে একসঙ্গে কাজ করা এবং আগের চ্যাট ইতিহাস সংরক্ষণের সুবিধাও থাকছে এতে। চলতি বছরের শেষদিকে বেটা সংস্করণ হিসেবে গ্রাহকরা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

অন্যান্য প্রতিযোগী যেমন ওপেনএআই বা মেটা যেখানে এআই প্রযুক্তির পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অ্যাপলের এই ধীরস্থির কৌশল বেশ কার্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইফোনের রেকর্ড বিক্রির পাশাপাশি অ্যাপল অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টের তুলনায় এআই খাতে অনেক কম খরচ করছে। চলতি বছর বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে, সেখানে অ্যাপলের বাজেট মাত্র ১৪ বিলিয়ন ডলার। উপরন্তু, অ্যাপ স্টোর ব্যবহারের ফি বাবদ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অ্যাপল বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করছে। কম খরচ ও বেশি আয়ের এই কৌশল এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।

/আবরার জাহিন

চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ
চায়নিজ রোবটিক উলফ।

আধুনিক রণকৌশল ও মানববিহীন প্রযুক্তির দুর্দান্ত প্রদর্শনী নিয়ে উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে সফলভাবে সম্পন্ন হলো চীন ও মঙ্গোলিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘স্টেপ পার্টনার ২০২৬’। শনিবার সপ্তাহব্যাপী চলা এই বিশেষ মহড়ার সমাপ্তি ঘটে।

মহড়ার চূড়ান্ত পর্বে দুই দেশের সেনাসদস্যরা অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি বাস্তবসম্মত ও লাইভ-ফায়ার যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন, যা ছিল পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন পর্ব।

অভিযানের শুরুতে সকাল ৯টায় চীনা সেনারা অত্যাধুনিক ড্রোন এবং যান্ত্রিক নেকড়ে বা ‘রোবটিক উলফ’ ব্যবহার করে প্রতীকী শত্রুর অবস্থানের চারপাশে নিখুঁত অনুসন্ধান চালায়। একই সময়ে মঙ্গোলিয়ান বাহিনীও চীনা বাহিনীর সাথে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান করে।   

অনুশীলন চলাকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতি ও ‘শত্রুপক্ষে’র সুরক্ষিত বাঙ্কার থেকে আসা পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় যৌথ বাহিনী সাঁজোয়া যান ও ফায়ারপাওয়ারের সমন্বয় ঘটিয়ে আক্রমণ জোরদার করে। এ সময় ড্রোন-নিয়ন্ত্রিত ‘রোবটিক উলফ’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব বাধা অতিক্রম করে শত্রু অবস্থানে এগিয়ে যায় এবং দমনমূলক ফায়ারিং শুরু করে। পরবর্তীতে আর্টিলারি ইউনিট ও মোবাইল অ্যাসাল্ট টিমের যৌথ আক্রমণে লক্ষ্যবস্তু এলাকাটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সামরিক মহড়াটি এবার দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো, যা চীন ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতির একটি বড় উদাহরণ। সূত্র: সিএমজি বাংলা

গৃহকর্মী রোবট!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
গৃহকর্মী রোবট!
গৃহস্থালির কাজ করতে পারে এই রোবট।

গৃহস্থালির কাজ করতে করতে ক্লান্ত? কেউ যদি সব কাজ করে দিত তাহলে কত ভালোই না হতো! চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি কোম্পানি যদি পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে দৈনন্দিন গৃহস্থালির সব ক্লান্তিকর কাজের দায়িত্ব নিতে পারে রোবট গৃহকর্মীরা—যারা হয়তো একদিন ফ্রিজ বা ওয়াশিং মেশিনের মতোই সাধারণ হয়ে যাবে।

উহানভিত্তিক হুবেই গিগা ওয়ার্ল্ড রোবট কোম্পানি ঘোষণা করেছে যে, তারা সাধারণ পরিবারের মধ্যে ১০০টি মানবসদৃশ রোবট বিনামূল্যে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পটি এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শুরু হবে। এটিকে বাস্তব ঘরোয়া জীবনে বড় পরিসরে রোবট ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোম্পানিটির প্রচারণামূলক ভিডিওতে তাদের রোবট গৃহপরিচারক সিলাইট এস১  কীভাবে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজ করতে পারে তা দেখানো হয়েছে।

দেখা গেছে, সকাল শুরু হয় রোবটটি বিছানা গোছানো দিয়ে। তারপর মাইক্রোওয়েভে রুটি গরম করা, টমেটো-ডিম ভাজি রান্না করা, দুধ ঢালা এবং খাবার টেবিলে সাজানো ইত্যাদি। বাসার লোকজন কাজের জন্য বের হওয়ার পর রোবটটি কাপড় ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে দেয়, বাথরুম ও টয়লেট পরিষ্কার করে, তারপর ভেজা টিস্যু দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে। সে কাপড়ও শুকাতে দেয় এবং শুকানোর পর তা ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখে। সোফা ও চা-টেবিল ঠিকঠাক করে সাজায়। সবশেষে মাছকে খাবার দেয় এবং গাছে পানি দেয়।

কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের পার্টনার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ই ইয়ুন বলেন, 'এর বুদ্ধিমত্তা হলো বাস্তব, অনিয়ন্ত্রিত ঘরোয়া পরিবেশে দীর্ঘ ধারাবাহিক, বহু-ধাপ ও সূক্ষ্ম গৃহস্থালি কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার ক্ষমতা, যেখানে এটি শুধু একক কাজ বারবার করে না।' 
তার মতে, রোবটটি দৈনন্দিন কথ্য ভাষায় দেওয়া নির্দেশও বুঝতে ও কার্যকর করতে পারে। 

পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল প্রোগ্রামের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ না হলেও কোম্পানির উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে এরই মধ্যে দুই হাজারের বেশি আবেদন বা বার্তা এসেছে।
একজন নারী লিখেছেন, তিনি চাকরিজীবী এবং দুই সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের যত্ন নিতে গিয়ে প্রতিদিন খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিনি চান এমন এক রোবট, যাতে তিনি সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন।

কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞানী চু চেং জানান, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করা হবে 'বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ধরনের পরিবারকে প্রতিফলিত করার' ভিত্তিতে।

হুবেই হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের অপারেশন প্রধান হুয়াং ছুয়ানচৌ বলেন, এই ফ্রি ট্রায়াল প্রকল্পটি ল্যাব ও কারখানা থেকে সরাসরি বাস্তব ঘরে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। সূত্র: সিএমজি বাংলা

পিক্সেল স্টুডিও অ্যাপ বন্ধ করল গুগল

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
পিক্সেল স্টুডিও অ্যাপ বন্ধ করল গুগল
ছবি: সংগৃহীত

স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ইমেজ জেনারেশন অ্যাপ ‘পিক্সেল স্টুডিও’ বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। সম্প্রতি এক সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপটির সেবা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট নাইনটুফাইভগুগলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বর্তমানে পিক্সেল স্টুডিও অ্যাপটি চালু করলে ব্যবহারকারীদের গুগল জেমিনাই অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন ইন্টারফেসে একটি ‘ওপেন জেমিনাই’ বাটন যুক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি প্লে স্টোরে নিয়ে যায়। এ ছাড়া ছবি তৈরির জন্য বিকল্প হিসেবে ‘ন্যানো ব্যানানা’ অ্যাপ ব্যবহারেরও পরামর্শ দিচ্ছে গুগল।

গুগল অবশ্য হুট করে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাপটির সেবা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর পর থেকে ধাপে ধাপে অ্যাপটির মূল ফিচারগুলো বন্ধ করা হচ্ছিল। এমনকি কয়েক মাস আগে এই অ্যাপের ফটো এডিটর থেকে সব ধরনের এআই টুল সরিয়ে নেওয়া হয়।

২০২৪ সালে পিক্সেল ৯ সিরিজের স্মার্টফোনের সঙ্গে পিক্সেল স্টুডিও অ্যাপটি প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয় গুগল। এটি মূলত টেক্সটের মাধ্যমে নতুন ছবি তৈরি এবং যেকোনো ছবি থেকে কাস্টম স্টিকার বানানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। চালুর মাত্র দুই বছরের মাথায় অ্যাপটি বন্ধ করে দিল গুগল। এর ফলে গুগলের বন্ধ হয়ে যাওয়া সেবার তালিকায় যুক্ত হলো পিক্সেল স্টুডিও।