জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। এর ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলায় বড় জয় পেয়েছে মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটা। সম্প্রতি পেগাসাস স্পাইওয়্যারের নির্মাতা এনএসও গ্রুপকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর জন্য ১৬ দশমিক ৭ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক জুরি আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মেটা এই জয় পেয়েছে।
২০১৯ সালে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করে মেটা। অভিযোগে বলা হয়, এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে অন্তত ২০টি দেশের ১ হাজার ৪০০ জন সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।
মেটা আরও জানিয়েছে, ‘অত্যন্ত অত্যাধুনিক সাইবার হামলার মাধ্যমে ভিডিও কলের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়ানো হয়েছে। এমনকি কল রিসিভ না করলেও ডিভাইস সংক্রমিত হয়েছিল।’
মামলার দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছর বিচারক রায় দেন, এনএসও গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের ‘কম্পিউটার ফ্রড অ্যান্ড অ্যাবিউস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে। গত মঙ্গলবার এনএসও গ্রুপ মেটাকে ঠিক কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে, তা নির্ধারণের জন্য এক সপ্তাহব্যাপী জুরি বিচারের পর এই রায় ঘোষণা হয়। জুরি বোর্ড মেটাকে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৯ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ১৬ কোটি ৭২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপের গ্লোবাল কমিউনিকেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্ল উগ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই রায় সাইবার হামলায় জড়িত অবৈধ শিল্পের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এটি আমাদের ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’
‘সাইবার ইন্টেলিজেন্স’ ফার্ম হিসেবে দাবি করা এনএসও গ্রুপ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফোন নম্বরে পেগাসাস ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, পেগাসাসের কারণে হোয়াটসঅ্যাপের কোনো ক্ষতি হয়নি।
এনএসও গ্রুপের মুখপাত্র গিল লেইনার বলেন, ‘এই রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ধাপ মাত্র। আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আপিল করব।’ তিনি আরও দাবি করেন, এনএসও গ্রুপের প্রযুক্তি অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অনুমোদিত সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়।
কার্ল উগ বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে এখনো অনেক পথ বাকি রয়েছে। আমরা এই অর্থ ডিজিটাল অধিকারে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থাকে অনুদান হিসেবে দিতে চাই। পাশাপাশি এনএসও গ্রুপ যাতে ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি থেকে বিরত থাকে, সে জন্য একটি কোর্ট অর্ডার পাওয়ার পরিকল্পনা করছি।’
/আবরার জাহিন