ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়াকে দলে ভিড়িয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনকে দখলচ্যুত করতে বিপুল পরিমাণ সেনা সহায়তা পাঠিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন। তবে এই দ্বন্দ্বে তারা কতটা তৎপর? নিহত সেনাদের পকেট থেকে কিয়েভ কী উদ্ধার করছে?-এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, কিমের সেনারা শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খুব একটা প্রচার না হলেও পিয়ংইয়ং শক্তিশালী অস্ত্রের বহর সম্বলিত ও কার্যকর সামরিক মানসিকতাসম্পন্ন সেনা দল পাঠিয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের।
যুদ্ধে নিহত বেশ কয়েকজন উত্তর কোরীয় সেনার পকেট থেকে রুশ ভাষার নির্দিষ্ট কিছু বাক্যের তালিকা উদ্ধার করেছে কিয়েভ। এই তালিকায় ‘যুদ্ধে তোমাদের হার নিশ্চিত’ ও ‘তোমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে’- এমন কিছু বাক্য লেখা রয়েছে বলে জানায় তারা।
বন্দি ইউক্রেনীয় সেনাদের ‘অত্যাচার করার উদ্দেশে’ মস্কো তার মিত্রবাহিনীকে প্রস্তুত করেছে বলে ধারণা কিয়েভের।
তাদের কাছ থেকে আরও পাওয়া গেছে কিম জন উং-এর প্রশংসাসূচক গানের কথা, সামরিক পরিচিতিপত্র, রুশ রাইফেল ও আধুনিক প্রতিরক্ষা বর্ম।
এ প্রসঙ্গে ইউক্রেনের সামরিক সদস্য ভ্লাদ বলেন, ‘উত্তর কোরীয় সেনারা রুশ সেনাদের তুলনায় বেশি দক্ষ।’
যুদ্ধে আধিপত্য নিশ্চিত করতে রাশিয়া মিত্রবাহিনীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র সরবরাহ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
রুশ সেনারা অল্পেই আত্নসমর্পণ করেন জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘কিমের সেনাদের দৃঢ়তা ভাঙতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।’
শুরুতে বড় দল নিয়ে সরাসরি আঘাত করার চেষ্টা করার পর উত্তর কোরিয়া শিবির ব্যাপক প্রাণহানির শিকার হয়। তবে দ্রুতই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে তারা দক্ষ যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের বিশেষ সামরিক দলের কমান্ডার ভিকটর।
তিনি বলেন , ‘ড্রোন হামলা করেও তাদের কাবু করা যাচ্ছে না।’
এই দ্বন্দ্বে রাশিয়ার পক্ষ নেওয়ার বিনিময়ে কিম নিজের কূটনৈতিক অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি সেনাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করছেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
যুদ্ধক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোকে উত্তর কোরিয়ার শক্ত দেয়ালের সামনে দাঁড় করাবে বলে সতর্ক করছেন তারা।
কিমের সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করছে এক পক্ষ। অন্যদিকে তারা আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিছিয়ে আছেন, বলছে অনেকেই। তবে অবস্থান যেমনই হোক, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বকে আরও জটিল করে তুলছে- এ বিষয়ে দ্বিমত নেই কারও।
সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিশ্বনেতার দ্বারস্থ হয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কিমসেনা প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক তৎপরতা চাইছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব আমেদ খান বলেন, ‘নিজের দেশ থেকে এতদূরে এসে উত্তর কোরীয় সেনারা মারা যাচ্ছেন। এর কোনো মানে হয় না।’ সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
নাইমুর/