দশকের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইস্তাম্বুলের মেয়র ইকরাম ইমামোগলুর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে টানা আট দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকার পতনের বিক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। এর মধ্যে বিরোধীদের চলমান বিক্ষোভ দেশের অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এরদোয়ান।
যেসব কোম্পানি এরদোয়ানকে সমর্থন করে, তাদের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভরত এরদোয়ানবিরোধীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরদোয়ানের অভিযোগ, ‘বিরোধীরা এতটাই লাগামহীন হয়ে পড়েছেন যে তারা দেশ ও জাতিকে আগুনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’ নিজ দল একে পার্টির আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ‘তুরস্কের অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে নাশকতাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
ইস্তাম্বুলের মেয়র ইকরাম ইমামোগলুকে গত সপ্তাহে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলে তার সমর্থকরা রাজপথে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলন দমনে পুলিশ বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করছেন বিক্ষোভকারীরা। এ পর্যন্ত আন্দোলন থেকে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিক্ষোভ দমনে পুলিশের শক্তি প্রয়োগ ও ব্যাপক ধড়পাকড়ের নিন্দা জানিয়েছে। ইমামোগলু দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।
অবশ্য এখন পর্যন্ত ইমামোগলুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, ‘গোপন প্রত্যক্ষদর্শীর’ ভিত্তিতে বেশির ভাগ অভিযোগ আনা হয়েছে। আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনার নজির রয়েছে।
এদিকে ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপির সাংবাদিক ইয়াসিন আকগুলকে মুক্তি দিয়েছেন তুরস্কের একটি আদালত। এই সপ্তাহে ইমামোগলুর কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের খবর প্রচারের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ইয়াসিনকে আদালত মুক্তি দেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। সূত্র: এপি