পাহালগামে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নিরীহ পর্যটকদের নৃশংস হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই স্কুলের ইতিহাস বই থেকে গোটা মোগল সাম্রাজ্যটাই তুলে নিল নরেন্দ্র মোদির সরকার।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটির পাঠ্যবইয়ে এই পরিবর্তন করা হয়েছে। মোগল, সুলতানদের অধ্যায় তুলে দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে ২০২৫ সালের কুম্ভমেলা। শুধু তা-ই নয়, এর পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে মগধ, মৌর্য, শুঙ্গ এবং সাতবাহন সাম্রাজ্যের কথা।
নয়া শিক্ষানীতি অনুযায়ী চলতি বছর সপ্তম শ্রেণির জন্য নতুন সমাজবিজ্ঞানের বই প্রকাশ করেছে এনসিইআরটি। আর তাতেই দেখা গেছে এই বদল। পুরোনো বইয়ের মতো নতুন বইয়ে স্থান পায়নি দিল্লির মোগল এবং সুলতানি সাম্রাজ্যের কথা। সেই অধ্যায় সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়ে প্রাচীন ভারতীয় সাম্রাজ্যের ওপর লেখা নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে।
এনসিইআরটির পাঠ্যবই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের কেন্দ্রীয় বোর্ডের স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়ে থাকে। তারাই প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বইয়ের সংস্কারের কাজ করে। অতীতে তাদের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কখনো তারা ডারউইনের অধ্যায় বাদ দিয়েছে, আবার কখনো ভারতের সামাজিক বৈষম্যের ইতিহাসের অধ্যায় বাদ দেওয়া হয়েছে। নানা মহল থেকে অভিযোগ করা হয়, আদতে বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যদিও এই অভিযোগ যুক্তিহীন বলেই দাবি করছে এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষ।
তাদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের ওপর অকারণ চাপ হয়ে যায়- এমন কিছু বিষয়ে তাদের পড়তে হয় যা হয়তো ততটাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই কারণে চাপ কমাতেই এসব রদবদল করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণির ক্ষেত্রেই সেই বদল চলে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তাই যেসব অভিযোগ তোলা হয় তা ভিত্তিহীন।