ভারতের একটি বিমানে মুসলিম যাত্রীকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠেছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, মুম্বাই থেকে কলকাতা গামী ইন্ডিগোর ফ্লাইট 6E138-এ এই ঘটনা ঘটে। বিমানের কেবিন ক্রুরা অসুস্থ এক যাত্রীকে সাহায্য করছিলেন। এমন সময় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অপর এক যাত্রী হঠাৎ করে তাকে চড় মারেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ভুক্তভোগী মুসলিম ওই ব্যক্তি বিমানে ওঠার পর একটি প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। তিনি কান্না করতে করতে বিমানের মধ্যে হাঁটছিলেন এবং প্লেন ছাড়ার আগে নামতে চাচ্ছিলেন। তখনই অপর এক যাত্রী এসে তাকে আঘাত করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়, চড় খাওয়ার পর ভুক্তভোগী যাত্রী দৃশ্যত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। আরেকজন যাত্রীকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “আপনি তাকে চড় মারলেন কেন? আপনাকে কে এই অধিকার দিয়েছে? আপনি কি বুঝতে পারছেন?”
একজন কেবিন ক্রুকেও অভিযুক্ত যাত্রীকে বলতে শোনা যায়, “এটা করবেন না।”
এই ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। বহু ব্যবহারকারী অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
অনেকেই মন্তব্য করেন, ভুক্তভোগী শুধুমাত্র ‘দৃষ্টিতে মুসলিম’ হওয়ায় আঘাতের শিকার হয়েছেন। ফলে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে।
একজন এক্স ব্যবহারকারী লেখেন, “এটা সমাজ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চিহ্ন নয়, এটা বহু দশকের ঘৃণার রাজনীতি এখন আকাশে পা রেখেছে।”
আরেকজন লেখেন, “এই মাত্রার হয়রানি ও নির্যাতন কীভাবে সম্ভব? কেবল একজন মুসলিম মনে হয়েছে বলেই চড় মারা হলো? তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তাকে কারাগারে পাঠানো উচিত এবং বিমানে চড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।”
আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়, “একজন মানুষকে মারার অধিকার তার কীভাবে হলো? ন্যাক্কারজনক!”
অভিযুক্ত যাত্রী গ্রেপ্তার
কলকাতায় বিমান অবতরণের পর অভিযুক্ত যাত্রীকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) তাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তী তদন্ত শুরু করে।
ঘটনা নিন্দা জানিয়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ
এদিকে ইন্ডিগো এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে ‘আনরুলি ফ্লায়ার’ নীতিমালার আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে সাময়িকভাবে বিমান ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞাও থাকতে পারে।
বিমান সংস্থাটি জানায়, “এ ধরনের অসভ্য আচরণ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তারা আরও জানায়, “আমরা প্রতিটি ফ্লাইটে নিরাপদ ও শ্রদ্ধাশীল পরিবেশ বজায় রাখার ব্যাপারে সর্বদা সচেষ্ট।”
মুসলিমবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধ বৃদ্ধি
এর আগে মে মাসে দিল্লিভিত্তিক অধিকার সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস’ (এপিসিআর) জানিয়েছিল, ২৭ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত কেবল ১২ দিনের ব্যবধানে সারা ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ১৮৪টি ঘৃণাজনিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
এই বাড়তি সহিংসতা শুরু হয় কাশ্মীরের পাহেলগামে সংঘটিত একটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন অভিযোগ তোলার পর ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে। সূত্র: ডন
মাহফুজ/